ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মায়ের মৃত্যুর পর মহানবী (সা.) যাকে মা ডাকতেন

শাইখ মাহমুদ আহমাদ গজনফর

  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ এএম
আরবিতে ‘মুহাম্মদ (সা.)’ লেখা ক্যালিগ্রাফি।

মহানবী (সা.) যখন মায়ের গর্ভে, তখন নবীজির বাবা মারা যান। মিরাস হিসেবে নবীজির বাবা পাঁচটি উট, এক পাল বকরি, মূল্যবান একটি তলোয়ার, রুপার কিছু অলংকার এবং এক দাসী রেখে যান। তার নাম বারাকাহ বিনতু সালাবা। আরবের তখনকার নিয়ম অনুযায়ী নবীজির শৈশবের প্রাথমিক সময় কাটে বনু সাদ গোত্রের হালিমা সাদিয়ার কাছে। নবীজির বয়স যখন পাঁচ বছর, হালিমা তখন তাকে মক্কায় তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

নবীজির বয়স তখন ছয়। তিনি তখন মায়ের সঙ্গে মদিনার বনু নাজ্জার গোত্রে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সফরে তাদের সাথে বারাকাহ বিনতু সালাবাও ছিলেন। মদিনা থেকে ফেরার সময় আবওয়া নামক স্থানে পৌঁছে নবীজির মা আমেনা বিনতু ওয়াহব হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। সেই তখন থেকেই উম্মু আইমান নবীজিকে মায়ের মমতা দিয়ে লালনপালন করেন। যুবক বয়সে নবী (সা.) তাকে আজাদ করে দেন।

প্রথম বিয়ে

খাদিজাতুল কুবরাকে নবীজি (সা.) বিয়ে করার পর উম্মু আইমানের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। উবাইদ ইবনু জাইদ খায়রামির সঙ্গে তার বিয়ে দেন। তাদের সংসারে তখন আইমান জন্মগ্রহণ করে। এরপর থেকেই তার নাম হয়ে যায় উম্মু আইমান। আর এই নামেই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হন।

আইমান (রা.) ছিলেন বিখ্যাত সাহাবি। তিনি হুনাইন যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। নবীজির নবুযত লাভের পর উম্মু আইমান শুরুর দিকেই মুসলিম হয়ে যান। তবে তার স্বামী উবাইদ ইবনু জাইদ ইসলাম গ্রহণ করেননি। ফলে তারা আলাদা হয়ে যান। (আল-ইসাবা, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৫৮)

দ্বিতীয় বিয়ে

উম্মু আইমান (রা.) সারাজীবন নবীজির খেদমত করেছেন। ইসলামের জন্য তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। নবীজি (সা.) তার ব্যাপারে বলেন, কেউ যদি কোনো জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চায়, সে যেন উম্মু আইমানকে বিয়ে করে নেয়।

নবীজির এই ঘোষণার পর অনেকেই উম্মু আইমানকে বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সৌভাগ্যটুকু লেখা ছিল জাইদ ইবনুল হারিসার ভাগ্যে। উম্মু আইমানের দ্বিতীয় বিয়ে হয় জাইদ ইবনুল হারিসার সাথে। তাদের সংসার আলো করে আসেন বিখ্যাত সাহাবি উসামা ইবনু জাইদ (রা.)। (তাবাকাতু ইবনি সাদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২২৪)

মহানবী (সা.) এবং উম্মু আইমান

নবী (সা.) উম্মু আইমানকে খুবই শ্রদ্ধা করতেন। তার ব্যাপারে নবীজি সবসময় সজাগ থাকতেন। তার সবকিছু খেয়াল রাখতেন। তিনি তাকে মা বলে ডাকতেন। কোনো বিষয়ে অভিমান করলে নবীজি তার মান ভাঙাতেন। (তাবাকাতু ইবনি সাদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২২৩)

আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, হিজরতের পর আনসার সাহাবিরা তাদের খেজুরের বাগান আল্লাহর রাসুলের হাতে সঁপে দেন। আল্লাহর রাসুল তখন সেসব খেজুর বাগান মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেন। বনু কুরাইজা এবং বনু নাজির বিজয়ের পর আল্লাহর রাসুল আনসারদের বাগান তাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে শুরু করেন।

আনাস (রা.) বলেন, আমি তখন আমার বাগান ফেরত নেওয়ার জন্য উম্মু আইমানের কাছে যাই। কিন্তু তিনি আমার বাগান ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করেন। তখন আল্লাহর রাসুল তাকে বুঝিয়ে বললেন, আম্মাজান, আনাসের বাগান তাকে দিয়ে দিন। আমি এর চেয়ে ১০ গুণ বেশি সম্পদ দেব আপনাকে। তখন উম্মু আইমান আনাস ইবনু মালিকের বাগান ফিরিয়ে দেন। (তাবাকাতু ইবনি সাদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২২৫)

নবীজি (সা.) প্রায়ই উম্মু আইমানকে দেখতে তার ঘরে যেতেন। তাকে দেখলেই নবী (সা.) বলতেন, তিনি আমার পরিবারের অংশ। তিনি আমার মা। (তাবাকাতু ইবনি সাদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২২৩)। আয়িশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, একদিন আল্লাহর রাসুল পানি পান করছিলেন। তখন উম্মু আইমান বললেন, আল্লাহর রাসুল, আমাকেও পানি পান করান। আয়িশা বলেন, আমি বললাম, আপনি আল্লাহর রাসুলকে আদেশ দিচ্ছেন? তখন উম্মু আইমান বললেন, তাতে কী হয়েছে? আমার সে অধিকার আছে। আমি তার অনেক সেবা করেছি। তখন আল্লাহর রাসুল বললেন, আয়িশা, তিনি সত্য বলছেন। তিনি আমার জন্য অনেক করেছেন।

আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুলের সাথে আমিও প্রায়ই উম্মু আইমানকে দেখতে যেতাম। আমাদেরকে দেখলে তিনি খুবই খুশি হতেন। আমাদের সামনে খাবার এনে রাখতেন। আল্লাহর রাসুল কোনো কারণে না খেলে রাগ করে বলতেন, আপনি খাচ্ছেন না কেন? আল্লাহর রাসুল তার পীড়াপীড়ি দেখে মুচকি হাসতেন।

উম্মু আইমানের কারামত

উম্মু আইমান যখন হিজরতের জন্য মদিনায় রওনা করেন, সফরের একপর্যায়ে তার পানির পিপাসা লাগে। তার গলা ও ঠোঁট শুকিয়ে আসে। বিজন মরুভূমিতে আশেপাশে পানির কোনো চিহ্নও ছিল না। মনে হচ্ছিল পানির অভাবে তিনি মারা যাবেন। এমন সময় দেখা গেল আসমান থেকে ধীরে ধীরে একটি পানির পাত্র নেমে আসছে। পাত্রটি ধবধবে সাদা একটি রশি দিয়ে বাঁধা। সেই পাত্রটি উম্মু আইমানের একদম মুখের সামনে এসে থামে। তিনি তৃপ্তি সহকারে পানি পান করেন। উম্মু আইমান (রা.) বলেন, এরপর আমার আর কখনোই তীব্র পিপাসা লাগেনি। আমি প্রচণ্ড গরমের দিনেও রোজা রেখেছি। তবু আমার খুব বেশি পিপাসা লাগেনি। সবসময় মনে হয়েছে আমার বুকের মাঝে এক ধরনের কোমল শীতলতা জমে আছে। (তাবাকাতু ইবনি সাদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২২৪)

জিহাদের জাজবা

উম্মু আইমান (রা.) নবীজির সঙ্গে বিভিন্ন জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন। উহুদ যুদ্ধে তিনি মুজাহিদদের পানি পান করিয়েছেন এবং আহতদের সেবা করেছেন। খাইবার যুদ্ধে ২০ জন নারী সাহাবি অংশগ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে উম্মু আইমানও ছিলেন। (আল-ইসাবা, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৬১)

খাইবার যুদ্ধে তার ছেলে আইমানের ঘোড়া অসুস্থ থাকায় তিনি সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। উম্মু আইমান তখন তার ছেলেকে কাপুরুষ বলে তিরস্কার করেন। হাসসান ইবনু সাবিত এই বিষয়টি নিয়ে কবিতাও লিখেছেন। সেখানে তিনি আইমানের ঘোড়া যে অসুস্থ ছিল এবং এই কারণেই যে তিনি খাইবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তা উল্লেখ করেছেন। খাইবার যুদ্ধের সময় আইমানের ঘোড়া বিষাক্ত আটা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।

হুনাইন যুদ্ধে আইমান (রা.) খুবই বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন। হুনাইন যুদ্ধে যখন মুসলিম সৈনিকরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল, তখন হাতেগোনা কয়েকজন সাহাবি নবীজির সাথে ময়দানে দৃঢ়পদ ছিলেন। তাদের মধ্যে আইমান ছিলেন অন্যতম। অসীম বীরত্বের সাথে লড়াই করে তিনি এই যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। উম্মু আইমান (রা.) তার সন্তানের শাহাদাতে ধৈর্যধারণ করেন।

মুতার যুদ্ধে তার স্বামী জাইদ ইবনুল হারিসা শাহাদাত বরণ করেন। মুতার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে প্রেরণকালে নবী (সা.) বলেন, এই যুদ্ধে জাইদ ইবনুল হারিসা হবে তোমাদের সেনাপতি। সে শহিদ হলে সেনাপতি হবে জাফর ইবনু আবি তালিব। সে শহিদ হলে সেনাপতি হবে আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা। সেও যদি শহিদ হয়ে যায়, তখন তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে সেনাপতি নির্ধারণ করবে। শুধু সেনাপতিরা নন, নবীজির এই ভাষণ যারা শুনেছে, তারা সবাই জানত যে, এই তিনজন সেনাপতিই শাহাদাত বরণ করবেন। মৃত্যুর আগাম খবর শুনেও তারা বিপুল বিক্রমের যুদ্ধ করেছেন। গড়েছেন নজিরবিহীন ইতিহাস। একে একে শামিল হয়েছেন শহিদের কাফেলায়। উম্মু আইমান (রা.) তার স্বামীর শাহাদাতেও ধৈর্যধারণ করেন। (সিরাতু ইবনে হিশাম, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৭৩-৩৮২)

উসামার প্রতি নবীজির মমতা

আরব বিজয়ের পর নবী (সা.) রোমে সৈন্য প্রেরণ করেন। সেই বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেন উসামা ইবনু জাইদকে। বড় বড় সাহাবি থাকা সত্ত্বেও উসামার নেতৃত্ব মেনে নিতে অনেকেরই বাধছিল। তখন নবী ঘোষণা করলেন, এই বাহিনীর সেনাপতি উসামা ইবনু জাইদই হবে। আর সে সেনাপতি হওয়ার উপযুক্তও। নবী (সা.) উসামাকে কাছে ডেকে যাত্রা শুরু করার নির্দেশ দেন। বাহিনী নিয়ে উসামা (রা.) মদিনার অদূরে ‘জুরুফ’ নামক স্থানে পৌঁছান। এমন সময় উম্মু আইমান দূতের মাধ্যমে খবর পাঠান, আল্লাহর রাসুল খুব বেশি অসুস্থ। ফলে তিনি যাত্রাবিরতি দেন এবং মদিনায় ফিরে আসেন। নবী (স.) ততক্ষণে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে পরম বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। (তাবাকাতু ইবনি সাদ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ২২৫)

নবীজির বিরহে কাতর উম্মু আইমান

নবী (সা.)-এর ইন্তেকালে উম্মু আইমান (রা.) দুঃখ এবং বেদনায় ভেঙে পড়েন। দুঃখের কবিতা পড়তে পড়তে এবং কাঁদতে কাঁদতে তার এমন অবস্থা হবে, কেউ তা কল্পনা করেনি। উম্মু আইমানের পুরোটা জীবন ছিল নবীজির স্মৃতি দিয়ে ঘেরা। তিনি শৈশবে তাকে কোলে নিয়েছেন, চোখের সামনে তাকে বেড়ে উঠতে দেখেছেন, তিনি তার যৌবন দেখেছেন, খাদিজাতুল কুবরার সাথে তার বিয়ে দেখেছেন, নবুয়তের সূচনা দেখেছেন, মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতন দেখেছেন, মক্কার জীবন দেখেছেন, মদিনার জীবন দেখেছেন, নবীজির শাসন দেখেছেন। সেই পরম্পরায় নবীজির ইন্তেকালও তার দেখতে হবে, তা কি তিনি কখনো ভেবেছিলেন?

নবীজির ইন্তেকালের কিছুদিন পর আবু বকর এবং উমর উম্মু আইমানের ঘরে যান। তিনি তখনো নবীজির স্মরণে কান্না করছিলেন। তারা জিজ্ঞেস করলেন, আম্মাজান, আপনি কেন এত কান্না করছেন। আল্লাহর রাসুল তো তার পরম বন্ধু আল্লাহ তাআলার কাছেই আছেন। তিনি এখন আরও আরামে আছেন।

উম্মু আইমান (রা.) বললেন, তা তো আমিও জানি। কিন্তু ওহি তো আর কখনোই আসবে না, আল্লাহর রাসুলের জবানে আর শোনাও হবে না আল্লাহর পবিত্র কালাম, আমি কাঁদছি সেই দুঃখে। এ কথা শুনে তারাও কাঁদতে লাগলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৫৪)

ইন্তেকাল

উম্মু আইমান (রা.) অনেক লম্বা এবং বরকতময় হায়াত পেয়েছিলেন। তার ছিল দুই পুত্রসন্তান। দুজনেই ছিলেন ঘোড়সওয়ার। দুজনকেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন যোগ্য মুজাহিদরূপে। তিনি একই সঙ্গে শহিদের স্ত্রী এবং শহিদের জননী। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন খুবই সহজ-সরল। নবীজির সারাটি জীবনজুড়ে তিনি ছায়ার মতো পাশে ছিলেন দরদি অভিভাবক হয়ে। পার্থিব জীবনের এক দীর্ঘ আলোকিত যাত্রা শেষে তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনু আফফানের খিলাফতকালে তার পবিত্র আত্মা নশ্বর দুনিয়া ছেড়ে রবের পরম আশ্রয়ে চলে যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

[সমকালীন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত নারী সাহাবিদের জীবনকথা’ বই থেকে সংগৃহীত। ভাষান্তর করেছেন ওমর ইবনে আব্দুর রউফ]

সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
সৌদি আরবে হুতির হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘সৌদি আরবের রিয়াদে ইহরামরত অবস্থায় নিহত নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিলাম আমরা। সঙ্গে তার তিন এতিম সন্তানের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছি।’ মহান আল্লাহর কাছে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণের দোয়া করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে নাসরুল্লাহ বদরের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের প্রার্থনা করেন তিনি। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদর। পবিত্র বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পুলিশের প্রতিবেদন বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন এই মাহফিলের অনুমতি দেয়নি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে বিকেল থেকে এই তাফসির মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর আয়োজকরা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার জন্য বারণ করে দেন। ‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের।  এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে পোস্টার ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা এমপির, যিনি গোদাগাড়ীর এই মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি করা হয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর মাহফিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। গত শনিবার সকালে আয়োজকরা অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে জটিলতা সামনে আসে। আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জানান যে মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য লেখার পর প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মাহফিলকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন আয়োজকরা এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল, তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তাফসির মাহফিলটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
শারদীয় দুর্গোৎসবে দেবী দুর্গার প্রতিমা সাধারণত যে রূপে দেখা যায় তার ব্যতিক্রম মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে। এখানে লাল বর্ণের প্রতিমায় পূজিত হন দেবী দুর্গা। প্রায় তিনশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বসে মেলা। ধর্মীয় আবহ, ঐতিহ্য ও মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধক সর্বানন্দ দাসের হাত ধরে পাঁচগাঁওয়ে লাল দুর্গার পূজার প্রচলন হয় প্রায় তিনশ বছর আগে। সেই থেকে বংশপরম্পরায় এ পূজার আয়োজন চলে আসছে। স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গাপূজা আজ স্বতন্ত্র পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় জনশ্রুতি ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আসামের কামাখ্যায় বিশেষ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পর সাধক সর্বানন্দ দাস দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন দেবী যেন প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসবে তাঁর জন্মভূমি পাঁচগাঁওয়ে ফিরে আসেন। এ বিশ্বাসকে ঘিরেই লাল বর্ণের প্রতিমায় পূজার ঐতিহ্য গড়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা। পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন্ত দাস বলেন, প্রায় তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তাঁদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা নিয়ে এখানে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে এ পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন চলে আসছে এবং এর পরিচিতি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ পূজামণ্ডপের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে ভক্তরা এখানে আসছেন। এ ঐতিহ্য ধরে রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরৎ এলেই পাঁচগাঁওয়ে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্য শঙ্খধ্বনি পূজার আনুষ্ঠানিকতা আর ভক্তদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে। সপ্তমী অষ্টমী ও নবমীতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। কেউ মানত নিয়ে, কেউ প্রার্থনায় আবার কেউ পারিবারিক ঐতিহ্যের টানে ছুটে আসেন এ পূজামণ্ডপে। ভক্তদের বিশ্বাস, পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গা জাগ্রত দেবী। তাঁদের কাছে এ পূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বিশ্বাস, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। পূজাকে কেন্দ্র করে বসে বড় মেলা। রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। বাহারি পসরা মানুষের ভিড় ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ মেলা স্থানীয় মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ও মিলনমেলার উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। পূজার প্রধান দিনগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয়রা। আয়োজকদের দাবি প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এ আয়োজনে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজামণ্ডপে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনগর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পূজার আয়োজন সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক নানা স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পাঁচগাঁওয়ের নাম। একাত্তরের স্মৃতি ও বিপ্লবী নেত্রী লীলা নাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এ জনপদের রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক পরিচিতি। সময়ের পরিক্রমায় ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় ইতিহাস ও মানুষের বিশ্বাস মিলেমিশে পাঁচগাঁওকে দিয়েছে স্বতন্ত্র অবস্থান। প্রতিবছর শরৎ আসে শুরু হয় পূজার আয়োজন বাজে ঢাক। আর লাল বর্ণের দেবীকে ঘিরে পাঁচগাঁওয়ে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। আয়োজকদের কাছে এটি পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়াস ভক্তদের কাছে বিশ্বাসের প্রতীক আর দর্শনার্থীদের কাছে ব্যতিক্রমী এক ধর্মীয় আয়োজনের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে পাঁচগাঁওয়ের স্বাতন্ত্র্য। লাল দুর্গার পূজা তাই কেবল একটি গ্রামের ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি স্থানীয় ইতিহাস সংস্কৃতি বিশ্বাস ও মানুষের আবেগেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিজয়ী হাফেজদের সম্মাননা দিল জামায়াত
পবিত্র কুরআনের হিফজ চর্চায় উৎসাহ প্রদান ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে রাজধানীতে পাঁচ মাসব্যাপী আয়োজিত হিফজ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে ২৪৩ জন হাফেজে কুরআনকে বর্ণাঢ্য সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে কৃতী হাফেজদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মানচিত্রদেখুন আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এই বৃহৎ প্রতিযোগিতায় ঢাকার প্রায় ৮০০টি কওমি ও আলিয়া মাদরাসার ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ১০, ২০ ও ৩০ পারা—এই তিনটি গ্রুপে দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা ৩ জনসহ সর্বমোট ২৪৩ জন হাফেজকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সম্মাননা হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে ওমরাহ পালনের সুযোগ, নগদ অর্ধকোটি টাকা, ল্যাপটপ, বাইসাইকেল ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে হাফেজদের নিয়ে এমন বিরল ও বৃহৎ আয়োজন আগে কখনো হয়নি। এই কুরআন যাদের বুকে আল্লাহ ধারণ করার তাওফিক দিয়েছেন, তাদের আমরা কেবল মেহরাবে নয়, বরং আগামী দিনে সমাজের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই।’ এ সময় তিনি ১০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিশু হাফেজ রিদওয়ান বিন আলীর বাবা, মা ও উস্তাদকে ব্যক্তিগতভাবে ওমরাহ করানোর বিশেষ ঘোষণা দেন। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘কওমি কিংবা আলিয়া—নেসাবের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে আলেম ও হাফেজরা সবাই এক ও অভিন্ন। হাফেজে কুরআনরা যেন সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এ মহতী সম্মাননার আয়োজন।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা যায়নুল আবেদিন, নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক, মুফতি আলী হাসান ওসামাসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিজয়ী হাফেজদের সম্মাননা দিল জামায়াত
বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর ফোনালাপ কি জায়েজ?
বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ইসলামে বিয়েকে সহজ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ, রোজা তার প্রবৃত্তি দমন করতে সহায়তা করে।’ (বোখারি: ৫০৬৫, মুসলিম: ১৪০০) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন, তারিখ বা মাস নির্ধারণ করা হয়নি। বরং বিয়ের সামর্থ্য অর্জিত হলে অযথা বিলম্ব না করে বিয়ে করাই উত্তম। তবে বর্তমান সময়ে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিয়ের আগে সম্ভাব্য পাত্র বা পাত্রী সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং পাত্রীকে দেখে নেওয়ার বিষয়টি ইসলামে গুরুত্ব পেয়েছে। এটি নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেওয়া উচিত, যা তাকে ওই নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী করে তোলে।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাকে দেখার ইচ্ছা মনে গোপন রেখেছিলাম। পরে গোপনে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই, যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী করে তোলে। এরপর আমি তাকে বিয়ে করি।’ (আবু দাউদ: ২০৮২) কিন্তু বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীকে দেখার পর তাদের মধ্যে কথাবার্তার বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর হবু স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ রাখতে পারবেন, তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের আগে হবু স্বামীর সঙ্গে কথা বলা কি বৈধ? এ বিষয়ে শরিয়াবিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার আগে হবু স্বামী ও হবু স্ত্রী একে অপরের জন্য গায়রে মাহরাম। ফলে তাদের কথাবার্তায় শরিয়তের বিধান মেনে চলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় আলাপ, ঘনিষ্ঠতা কিংবা আবেগপূর্ণ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জানার দরকার হলে সীমিত পরিসরে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কথাবার্তা প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই শালীনতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে। কথাবার্তায় এমন কোমলতা বা ঘনিষ্ঠতা পরিহার করতে হবে, যা অনুচিত সম্পর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করাও উত্তম। এতে পাত্র-পাত্রীর জন্য কল্যাণের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হয়। (ফাতওয়ায়ে শামী: ৯/৫৩০, ফাতওয়ায়ে রহিমিয়া: ১০/১২৬)
বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর ফোনালাপ কি জায়েজ?
X