ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এক বছরে ‍দুইবার রমজান মাস, বিরল এই ঘটনার নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক

  ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৬ পিএম

একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পাওয়ার বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে ২০৩০ সালে। ওই বছর জানুয়ারি ও ডিসেম্বর—দুই সময়ে রমজান শুরু হবে। ফলে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির হিসাবে ২০৩০ সালে মুসলমানরা দুই দফায় রোজা রাখার সুযোগ পাবেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, ইসলামী চান্দ্র বর্ষপঞ্জি ও গ্রেগরিয়ান সৌরবর্ষের দিনের সংখ্যার পার্থক্যের কারণেই এমন ঘটনা ঘটে। ইসলামী বছর সাধারণত গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতি বছর রমজান আগের বছরের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে আসে।

জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের প্রথম রমজান শুরু হতে পারে ৫ জানুয়ারি, যা ১৪৫১ হিজরি সালের রমজান।

একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর শুরু হতে পারে ১৪৫২ হিজরি সালের রমজান। তবে রমজানের আনুষ্ঠানিক শুরু চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় স্থানীয়ভাবে তারিখে একদিনের পার্থক্য হতে পারে।

গালফ নিউজের ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে জ্যোতির্বিদ ইব্রাহিম আল-জারওয়ান জানিয়েছিলেন, ২০৩০ সালে দুই দফায় মিলিয়ে গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে প্রায় ৩৬ দিন রোজা পড়বে—প্রথম রমজানে প্রায় ৩০ দিন এবং ডিসেম্বরের দ্বিতীয় রমজানের শুরুতে আরও কয়েক দিন। এর কারণ ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদের আবর্তনের ওপর নির্ভরশীল।

একটি হিজরি বছর প্রায় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের, যেখানে গ্রেগরিয়ান বছর ৩৬৫ বা অধিবর্ষে ৩৬৬ দিনের। এই ব্যবধানের কারণে রমজান প্রতিবছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে ইসলামী মাসগুলো আবার কাছাকাছি একই সময়ে ফিরে আসে। এর আগে, ১৯৯৭ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে দুইবার রমজান পড়েছিল। ২০৩০ সালের পর আবার ২০৬৩ সালে এমন ঘটনা ঘটার কথা রয়েছে।

রমজান মাসে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। তবে রমজান বছরের কোন সময়ে পড়ছে, তার ওপর রোজার দৈর্ঘ্য নির্ভর করে। শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক অঞ্চলে রোজার সময়ও কম থাকে; বিপরীতে গ্রীষ্মকালে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় রোজার সময় দীর্ঘ হয়।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার মাধ্যমে রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ আগেই নির্ধারণ করা যায়। তবে অনেক মুসলিম দেশে নতুন চাঁদ বা হিলাল দেখার ভিত্তিতে রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। ফলে দেশ ও অঞ্চলের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী চূড়ান্ত তারিখে সামান্য পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পুলিশের প্রতিবেদন বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন এই মাহফিলের অনুমতি দেয়নি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে বিকেল থেকে এই তাফসির মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর আয়োজকরা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার জন্য বারণ করে দেন। ‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের।  এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে পোস্টার ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা এমপির, যিনি গোদাগাড়ীর এই মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি করা হয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর মাহফিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। গত শনিবার সকালে আয়োজকরা অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে জটিলতা সামনে আসে। আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জানান যে মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য লেখার পর প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মাহফিলকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন আয়োজকরা এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল, তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তাফসির মাহফিলটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
শারদীয় দুর্গোৎসবে দেবী দুর্গার প্রতিমা সাধারণত যে রূপে দেখা যায় তার ব্যতিক্রম মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে। এখানে লাল বর্ণের প্রতিমায় পূজিত হন দেবী দুর্গা। প্রায় তিনশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বসে মেলা। ধর্মীয় আবহ, ঐতিহ্য ও মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধক সর্বানন্দ দাসের হাত ধরে পাঁচগাঁওয়ে লাল দুর্গার পূজার প্রচলন হয় প্রায় তিনশ বছর আগে। সেই থেকে বংশপরম্পরায় এ পূজার আয়োজন চলে আসছে। স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গাপূজা আজ স্বতন্ত্র পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় জনশ্রুতি ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আসামের কামাখ্যায় বিশেষ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পর সাধক সর্বানন্দ দাস দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন দেবী যেন প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসবে তাঁর জন্মভূমি পাঁচগাঁওয়ে ফিরে আসেন। এ বিশ্বাসকে ঘিরেই লাল বর্ণের প্রতিমায় পূজার ঐতিহ্য গড়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা। পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন্ত দাস বলেন, প্রায় তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তাঁদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা নিয়ে এখানে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে এ পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন চলে আসছে এবং এর পরিচিতি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ পূজামণ্ডপের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে ভক্তরা এখানে আসছেন। এ ঐতিহ্য ধরে রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরৎ এলেই পাঁচগাঁওয়ে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্য শঙ্খধ্বনি পূজার আনুষ্ঠানিকতা আর ভক্তদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে। সপ্তমী অষ্টমী ও নবমীতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। কেউ মানত নিয়ে, কেউ প্রার্থনায় আবার কেউ পারিবারিক ঐতিহ্যের টানে ছুটে আসেন এ পূজামণ্ডপে। ভক্তদের বিশ্বাস, পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গা জাগ্রত দেবী। তাঁদের কাছে এ পূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বিশ্বাস, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। পূজাকে কেন্দ্র করে বসে বড় মেলা। রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। বাহারি পসরা মানুষের ভিড় ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ মেলা স্থানীয় মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ও মিলনমেলার উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। পূজার প্রধান দিনগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয়রা। আয়োজকদের দাবি প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এ আয়োজনে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজামণ্ডপে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনগর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পূজার আয়োজন সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক নানা স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পাঁচগাঁওয়ের নাম। একাত্তরের স্মৃতি ও বিপ্লবী নেত্রী লীলা নাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এ জনপদের রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক পরিচিতি। সময়ের পরিক্রমায় ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় ইতিহাস ও মানুষের বিশ্বাস মিলেমিশে পাঁচগাঁওকে দিয়েছে স্বতন্ত্র অবস্থান। প্রতিবছর শরৎ আসে শুরু হয় পূজার আয়োজন বাজে ঢাক। আর লাল বর্ণের দেবীকে ঘিরে পাঁচগাঁওয়ে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। আয়োজকদের কাছে এটি পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়াস ভক্তদের কাছে বিশ্বাসের প্রতীক আর দর্শনার্থীদের কাছে ব্যতিক্রমী এক ধর্মীয় আয়োজনের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে পাঁচগাঁওয়ের স্বাতন্ত্র্য। লাল দুর্গার পূজা তাই কেবল একটি গ্রামের ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি স্থানীয় ইতিহাস সংস্কৃতি বিশ্বাস ও মানুষের আবেগেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিজয়ী হাফেজদের সম্মাননা দিল জামায়াত
পবিত্র কুরআনের হিফজ চর্চায় উৎসাহ প্রদান ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে রাজধানীতে পাঁচ মাসব্যাপী আয়োজিত হিফজ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে ২৪৩ জন হাফেজে কুরআনকে বর্ণাঢ্য সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে কৃতী হাফেজদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মানচিত্রদেখুন আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এই বৃহৎ প্রতিযোগিতায় ঢাকার প্রায় ৮০০টি কওমি ও আলিয়া মাদরাসার ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ১০, ২০ ও ৩০ পারা—এই তিনটি গ্রুপে দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা ৩ জনসহ সর্বমোট ২৪৩ জন হাফেজকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সম্মাননা হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে ওমরাহ পালনের সুযোগ, নগদ অর্ধকোটি টাকা, ল্যাপটপ, বাইসাইকেল ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে হাফেজদের নিয়ে এমন বিরল ও বৃহৎ আয়োজন আগে কখনো হয়নি। এই কুরআন যাদের বুকে আল্লাহ ধারণ করার তাওফিক দিয়েছেন, তাদের আমরা কেবল মেহরাবে নয়, বরং আগামী দিনে সমাজের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই।’ এ সময় তিনি ১০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিশু হাফেজ রিদওয়ান বিন আলীর বাবা, মা ও উস্তাদকে ব্যক্তিগতভাবে ওমরাহ করানোর বিশেষ ঘোষণা দেন। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘কওমি কিংবা আলিয়া—নেসাবের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে আলেম ও হাফেজরা সবাই এক ও অভিন্ন। হাফেজে কুরআনরা যেন সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এ মহতী সম্মাননার আয়োজন।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা যায়নুল আবেদিন, নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক, মুফতি আলী হাসান ওসামাসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিজয়ী হাফেজদের সম্মাননা দিল জামায়াত
বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর ফোনালাপ কি জায়েজ?
বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ইসলামে বিয়েকে সহজ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ, রোজা তার প্রবৃত্তি দমন করতে সহায়তা করে।’ (বোখারি: ৫০৬৫, মুসলিম: ১৪০০) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন, তারিখ বা মাস নির্ধারণ করা হয়নি। বরং বিয়ের সামর্থ্য অর্জিত হলে অযথা বিলম্ব না করে বিয়ে করাই উত্তম। তবে বর্তমান সময়ে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিয়ের আগে সম্ভাব্য পাত্র বা পাত্রী সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং পাত্রীকে দেখে নেওয়ার বিষয়টি ইসলামে গুরুত্ব পেয়েছে। এটি নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেওয়া উচিত, যা তাকে ওই নারীকে বিয়ে করতে আগ্রহী করে তোলে।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাকে দেখার ইচ্ছা মনে গোপন রেখেছিলাম। পরে গোপনে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই, যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে আগ্রহী করে তোলে। এরপর আমি তাকে বিয়ে করি।’ (আবু দাউদ: ২০৮২) কিন্তু বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীকে দেখার পর তাদের মধ্যে কথাবার্তার বিষয়টি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর হবু স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ রাখতে পারবেন, তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের আগে হবু স্বামীর সঙ্গে কথা বলা কি বৈধ? এ বিষয়ে শরিয়াবিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার আগে হবু স্বামী ও হবু স্ত্রী একে অপরের জন্য গায়রে মাহরাম। ফলে তাদের কথাবার্তায় শরিয়তের বিধান মেনে চলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় আলাপ, ঘনিষ্ঠতা কিংবা আবেগপূর্ণ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জানার দরকার হলে সীমিত পরিসরে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কথাবার্তা প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই শালীনতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে। কথাবার্তায় এমন কোমলতা বা ঘনিষ্ঠতা পরিহার করতে হবে, যা অনুচিত সম্পর্কের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিয়ের আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করাও উত্তম। এতে পাত্র-পাত্রীর জন্য কল্যাণের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হয়। (ফাতওয়ায়ে শামী: ৯/৫৩০, ফাতওয়ায়ে রহিমিয়া: ১০/১২৬)
বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর ফোনালাপ কি জায়েজ?
মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মক্কায় দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ
মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তদন্ত ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে মক্কা অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সাজা বাস্তবায়ন করা হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। প্রতিবেদন আজেল নিউজের। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধের গুরুতরতা এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের বিবেচনামূলক শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ রায় বহাল রাখে। এরপর দণ্ড কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর বুধবার মক্কা অঞ্চলে নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন প্রয়োগে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধের চেষ্টা করলে তাকেও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সূত্র: আজেল
মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মক্কায় দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ
আরও পড়ুন
রমজান শুরু হতে আর কত দিন, জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ
X