ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ফকির মাহবুব আনাম

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ফকির মাহবুব আনাম

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। যারা দেশের ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, জনগণ তাদেরই সমর্থন দেবেন। ভালো কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি রাজনীতিবিদদের জনসেবায় আরও উৎসাহিত করে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর কড়াইলে বিটিসিএল আবাসিক এলাকায় বিটিসিএল সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে "শারদীয় শুভেচ্ছা" অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসবকথা বলেন।

মন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে রয়েছেন এবং তাদের কল্যাণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পূজা উদযাপনকারীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, আবাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবির বিষয়গুলো তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে দূর্গা পূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে প্রাপ্ত শাড়ি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিতরণ করেন মন্ত্রী।

বিটিসিএল সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসলাম হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিটিসিএল ও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মুসলিমদের পূজায় যাওয়া যাবে কি? যা বললেন আহমাদুল্লাহ
বর্তমান সময় অনেক মুসলিমকে সনাতন ধর্ম হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপে বা উপাসনালয়ে দেখা যায়। এ বিষয়ে এবার মতামত দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন অসাম্প্রদায়িকতা প্রমাণ করতে মুসলিমরা কি পূজায় যেতে পারবেন? জবাবে আহমাদুল্লাহ বলেন, মুসলমানদের যদি কেউ এমনটা করেন, সে ক্ষেত্রে তার ঈমান বিরোধী ও পরিপন্থি কাজ হবে। আপনি যা বিশ্বাস করেন না, তা করছেন। তিনি বলেন, এটি এক ধরনে আত্মপ্রচারণার শামিল।  একজন মুসলিমের চিন্তা অনেক উদার থাকবে, সবাইকে তিনি আপনভাবে রাখবেন, তার মানে এই না যে, আপনি অতি উদার সাজতে গিয়ে পূজায় চলে যাবেন।  তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, যদি কোনো জাতির দল ভারি করতে তাদের ভেতরে চলে যায়, তাহলে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এটা যাওয়া উচিৎ নয়। তাছাড়া শিরক যেখানে হয়, সেখানে আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়। সেখানে যাওয়া মানে নিজেকে লানতের জায়গায় নিয়ে যাওয়া। এটা সমস্ত ওলামা কেরামের ঐকমত্যে না জায়েজ ও গোনাহর কাজ। অর্থাৎ অমুসলিমদের সঙ্গে সামাজিক সৌহার্দ্য ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বজায় রাখা গেলেও ধর্মীয় উপাসনা বা শিরকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ মুসলমানদের জন্য জায়েজ নই।
মুসলিমদের পূজায় যাওয়া যাবে কি? যা বললেন আহমাদুল্লাহ
৫৬ বছরের গৌরবময় সহাবস্থান / ধর্মীয় সম্প্রীতির এক চিরন্তন উপাখ্যান, টাঙ্গাইলে আজানের সুরে থামে ঢাকের বোল
একই সীমানাপ্রাচীরের অভ্যন্তরে মহিমান্বিত রূপে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একপাশে যখন ধূপের সুবাস আর দেবীর আবাহনে ঢাকের বোল, অন্যপাশে তখন ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র আজানের সুমধুর সুর। কোনো ধরনের উসকানি কিংবা সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ছুঁঁতে পারেনি এই আঙিনাকে; বরং যুগ যুগ ধরে এখানে পাশাপাশি চলছে দুই ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের পরম আকুলতায় প্রার্থনা। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়িতে দেখা মিলেছে ধর্মীয় সম্প্রীতির এই চিরন্তন ও গৌরবময় পাখ্যানের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আপামর জনসাধারণের মতে- এখানে কোনো শঙ্কা নেই বরং এই সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়া উচিত সমগ্র বাংলাদেশে।  সরেজমিনে জানা যায়, নাগরপুর সদরের চৌধুরী বাড়িতে স্থানীয় শ্রী পরেশ চন্দ্র ও শৈলেশ চন্দ্র প্রথমে দেবী দুর্গার একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এর কয়েক বছর পর, ১৯৬২ সালে একই চত্বরে মুসলমানদের জন্য নির্মিত হয় ‘চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’। সেই থেকে বিগত প্রায় ৫৬ বছর ধরে একই প্রাঙ্গণে সহাবস্থান করছে এই দুই উপাসনালয়। সীমানাপ্রাচীরের পশ্চিম পাশে মন্দির এবং পূর্ব পাশে মসজিদ; যার দক্ষিণ প্রান্তেই রয়েছে মুসল্লিদের ওযুর সুব্যবস্থা। বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ। ঢাকের আওয়াজ, বর্ণিল আলোকসজ্জা আর ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ থাকলেও সেখানে অক্ষুণ্ন রয়েছে সুগভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা। মসজিদে আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হওয়ার সাথে সাথেই মন্দিরের ঢাক-ঢোল, আতসবাজিসহ সমস্ত বাদ্যযন্ত্র ও আনুষ্ঠানিকতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক ধরে কোনো বাহ্যিক নির্দেশনা ছাড়াই এই অলিখিত নিয়ম নিষ্ঠার সাথে প্রতিপালিত হয়ে আসছে। চৌধুরী বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির আপন মহিমায় বিরাজমান। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এবং স্থানীয় মুসলমানরা মসজিদকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করছেন। আজ পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, কাউকে কোনো বিষয়ে সতর্কও করতে হয়নি। সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সম্প্রীতি টিকিয়ে রেখেছেন।  পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু কুমার সাহা বলেন, আমাদের ধর্মীয় উৎসবে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় মুসলমান ভাইয়েরা অত্যন্ত সজাগ ও সহনশীল। আমরা চাই, নাগরপুরের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে কোথাও কোনো সাম্প্রদায়িক হানাহানির অবকাশ না থাকে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১,৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ ২৭০টি এবং দেলদুয়ার উপজেলায় সর্বনিম্ন ৩৪টি মণ্ডপ রয়েছে। তবে নাগরপুরের এই ঐতিহাসিক চৌধুরী বাড়ির মণ্ডপটি এর অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত।  নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিক জানান, বাংলাদেশ আবহমানকাল ধরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এর একটি জীবন্ত ও উজ্জ্বল উদাহরণ নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ি। একই প্রাঙ্গণে থেকে মুসলমানরা নামাজের সময় নামাজ আদায় করছেন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজার সময় পূজা উদযাপন করছেন। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, জেলায় এবার ১,৩৫৭টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নাগরপুরের চৌধুরী বাড়ির সহাবস্থানটি একটি বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সেখানে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। তবে জেলাজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু জানান, এই মাটিতে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সাথে পালন করবেন- এটাই আমাদের ঐতিহ্য। একই আঙিনায় পূজার্চনা ও নামাজ আদায় হচ্ছে- যা আমাদের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির এক চিরন্তন উপাখ্যান, টাঙ্গাইলে আজানের সুরে থামে ঢাকের বোল
সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
সৌদি আরবে হুতির হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘সৌদি আরবের রিয়াদে ইহরামরত অবস্থায় নিহত নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিলাম আমরা। সঙ্গে তার তিন এতিম সন্তানের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছি।’ মহান আল্লাহর কাছে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণের দোয়া করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে নাসরুল্লাহ বদরের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের প্রার্থনা করেন তিনি। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদর। পবিত্র বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পুলিশের প্রতিবেদন বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন এই মাহফিলের অনুমতি দেয়নি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে বিকেল থেকে এই তাফসির মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর আয়োজকরা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার জন্য বারণ করে দেন। ‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের।  এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে পোস্টার ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা এমপির, যিনি গোদাগাড়ীর এই মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি করা হয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর মাহফিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। গত শনিবার সকালে আয়োজকরা অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে জটিলতা সামনে আসে। আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জানান যে মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য লেখার পর প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মাহফিলকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন আয়োজকরা এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল, তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তাফসির মাহফিলটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
শারদীয় দুর্গোৎসবে দেবী দুর্গার প্রতিমা সাধারণত যে রূপে দেখা যায় তার ব্যতিক্রম মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে। এখানে লাল বর্ণের প্রতিমায় পূজিত হন দেবী দুর্গা। প্রায় তিনশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বসে মেলা। ধর্মীয় আবহ, ঐতিহ্য ও মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধক সর্বানন্দ দাসের হাত ধরে পাঁচগাঁওয়ে লাল দুর্গার পূজার প্রচলন হয় প্রায় তিনশ বছর আগে। সেই থেকে বংশপরম্পরায় এ পূজার আয়োজন চলে আসছে। স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গাপূজা আজ স্বতন্ত্র পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয় জনশ্রুতি ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আসামের কামাখ্যায় বিশেষ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পর সাধক সর্বানন্দ দাস দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন দেবী যেন প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসবে তাঁর জন্মভূমি পাঁচগাঁওয়ে ফিরে আসেন। এ বিশ্বাসকে ঘিরেই লাল বর্ণের প্রতিমায় পূজার ঐতিহ্য গড়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা। পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন্ত দাস বলেন, প্রায় তিনশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তাঁদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা নিয়ে এখানে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে এ পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন চলে আসছে এবং এর পরিচিতি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ পূজামণ্ডপের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। বছরের পর বছর ধরে ভক্তরা এখানে আসছেন। এ ঐতিহ্য ধরে রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরৎ এলেই পাঁচগাঁওয়ে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্য শঙ্খধ্বনি পূজার আনুষ্ঠানিকতা আর ভক্তদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গ্রামজুড়ে। সপ্তমী অষ্টমী ও নবমীতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। কেউ মানত নিয়ে, কেউ প্রার্থনায় আবার কেউ পারিবারিক ঐতিহ্যের টানে ছুটে আসেন এ পূজামণ্ডপে। ভক্তদের বিশ্বাস, পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গা জাগ্রত দেবী। তাঁদের কাছে এ পূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বিশ্বাস, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। পূজাকে কেন্দ্র করে বসে বড় মেলা। রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন পণ্যের দোকান সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। বাহারি পসরা মানুষের ভিড় ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ মেলা স্থানীয় মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ও মিলনমেলার উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। পূজার প্রধান দিনগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয়রা। আয়োজকদের দাবি প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এ আয়োজনে। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজামণ্ডপে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনগর উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পূজার আয়োজন সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি ঐতিহাসিক নানা স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পাঁচগাঁওয়ের নাম। একাত্তরের স্মৃতি ও বিপ্লবী নেত্রী লীলা নাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এ জনপদের রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক পরিচিতি। সময়ের পরিক্রমায় ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় ইতিহাস ও মানুষের বিশ্বাস মিলেমিশে পাঁচগাঁওকে দিয়েছে স্বতন্ত্র অবস্থান। প্রতিবছর শরৎ আসে শুরু হয় পূজার আয়োজন বাজে ঢাক। আর লাল বর্ণের দেবীকে ঘিরে পাঁচগাঁওয়ে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। আয়োজকদের কাছে এটি পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়াস ভক্তদের কাছে বিশ্বাসের প্রতীক আর দর্শনার্থীদের কাছে ব্যতিক্রমী এক ধর্মীয় আয়োজনের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিনের এ ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে পাঁচগাঁওয়ের স্বাতন্ত্র্য। লাল দুর্গার পূজা তাই কেবল একটি গ্রামের ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি স্থানীয় ইতিহাস সংস্কৃতি বিশ্বাস ও মানুষের আবেগেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্য লাল বর্ণে পূজিত হন দেবী দুর্গা
আরও পড়ুন
পূজার জন্য ১ মাস ধরে শাড়ি জমিয়েছেন রুমিন ফারহানা
কাল থেকে টানা ৫ দিনের ছুটি: কারা পাবেন, কারা পাবেন না
দূর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর এসআরবি-৮
শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদ করতে সরকার তৎপর: ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী
X