ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

টকশো ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিএনপির এমপি বাবুল

অনলাইন ডেস্ক

  ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
টকশো ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল। ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে আয়োজিত টকশোতে আলোচনার একপর্যায়ে সঞ্চালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যান ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ওই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে র‍্যাবের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। সঞ্চালক আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় র‍্যাবের এক সক্রিয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তথ্য তুলে ধরলে বাবুল তা নিয়ে আপত্তি জানান এবং সঞ্চালককে ‘বায়াসড’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি এই টকশো করব না।’ একপর্যায়ে তিনি স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান।

এদিন ‘বিএনপির হাতেই র‍্যাবের জন্ম ও বিলুপ্তি’ শিরোনামে আয়োজিত টকশোতে র‍্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানে বিএনপির সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল ছাড়াও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার একপর্যায়ে র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বাবুল দাবি করেন, র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে মানুষ হত্যার অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক ছয় মাসে র‍্যাবের হাতে হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন।

এরপর সঞ্চালক সাম্প্রতিক ছয় মাসের একটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরে বাবুলের বক্তব্যের সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। সঞ্চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি, বাংলাদেশ পুলিশের হ্যান্ডকাফ ও কালো স্কচটেপসহ পাঁচজনকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্রের বরাতে সঞ্চালক দাবি করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন বর্তমানে র‍্যাবে কর্মরত একজন সক্রিয় কর্মকর্তা।

এই তথ্যের পরই দুজনের মধ্যে কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বাবুল বলেন, তিনি ‘খুন করার কথা’ বলছেন, অথচ সঞ্চালক অন্য একটি তথ্য দিয়েছেন। জবাবে সঞ্চালক বলেন, বাবুল যে গত ছয় মাসের কথা বলেছেন, সেই সময়সীমার মধ্যকার একটি তথ্যই তিনি তুলে ধরেছেন।

‘আপনারা তিনজন সরকারের বিপক্ষে, আমি একা সরকারি দল’

এরপর বাবুল অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে তিনি একা সরকারি দলের প্রতিনিধি, বিপরীতে অন্য তিনজন সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার আসা ভুল হয়েছে।’

একপর্যায়ে টেলিভিশন চ্যানেলটির আয়োজন নিয়েও মন্তব্য করেন বাবুল। সঞ্চালক তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলছেন না; বরং আলোচনার ধারাবাহিকতায় একটি তথ্য তুলে ধরেছেন।

সঞ্চালক আরও বলেন, শুধু একটি তথ্য দেওয়ার কারণে পুরো অনুষ্ঠান বা চ্যানেল সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা উচিত হয়নি।

তবে বাবুল সঞ্চালকের অবস্থানকে ‘বায়াসড’ বলে অভিযোগ করেন এবং বলেন, ‘আমি এই টকশো করব না।’ সঞ্চালক তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও দুজনের মধ্যে তর্ক চলতে থাকে। একপর্যায়ে বাবুল চেয়ার ছেড়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান।

শহিদুল ইসলাম বাবুল এর আগেও টেলিভিশন আলোচনায় বক্তব্য ও বিতর্কের কারণে আলোচনায় এসেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে একটি টকশোতে তথ্যগত বক্তব্য নিয়ে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে তার বিতর্ক হয়। ওই সময় বাবুলকে তথ্য যাচাই করে ও পড়াশোনা করে আলোচনায় আসার পরামর্শ দেওয়া হলে পাল্টা বক্তব্যে তিনি সারোয়ার তুষারকে ‘বাছুর’ বলে সম্বোধন করেন বলে আলোচনায় আসে।

এবারের টকশোতে বাবুলের মাঝপথে অনুষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে টকশোতে আলোচিত র‍্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য, সংশ্লিষ্ট মামলার নথি বা র‍্যাবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া এটিকে র‍্যাবের ‘গুমের খাসলত’ বা বাহিনীতে কোনো পরিবর্তন হয়নি- এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

উল্লেখ্য, র‍্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে আয়োজিত ওই আলোচনায় মূল বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত র‍্যাবের কার্যক্রম থেকে সরে গিয়ে অনুষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা ও সঞ্চালকের ভূমিকা নিয়ে বাগবিতণ্ডায় গড়ায়। আর এরই একপর্যায়ে টকশো ছেড়ে বেরিয়ে যান বিএনপির সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
সৌদি আরবে হুতির হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘সৌদি আরবের রিয়াদে ইহরামরত অবস্থায় নিহত নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিলাম আমরা। সঙ্গে তার তিন এতিম সন্তানের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছি।’ মহান আল্লাহর কাছে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণের দোয়া করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে নাসরুল্লাহ বদরের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের প্রার্থনা করেন তিনি। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদর। পবিত্র বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) কর্তৃক আয়োজিত অভিবাসন বিষয়ক "মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড- ২০২৬" প্রদান করা হয়েছে। সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৫ জন সাংবাদিকের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ৩ সদস্যের একটি জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেল  আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিএনডব্লিউএলএর সভাপতি সিমা জাহুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আশরাফুল হক, প্রতিবেদন বাছাই করা জুরি বোর্ডের সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী, বিএমইটি'র পরিচালক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার, সিমস (SIMS) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাফাতুর রহমান রুবা, প্রকল্প সমন্বয়ক সাজ্জিদ আহমেদ, বিএনডব্লিউএল'র সদস্য অ্যাডভোকেট ফেরদৌস নিগার, ডিবিএলএ প্রতিনিধি রিফাত আরা সুলতানা (সিনিয়র সিভিল জজ), চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মাসরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এবারে এডওয়ার্ড পেলেন চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল, ঢাকা স্ট্রিমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক হাসান। অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধাগুলো তুলে ধরতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব বিবেচনায় সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিএনডব্লিউএলএ- এ পুরস্কারের আয়োজন করে ।
অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন। জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধুবা জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। এসব আইডির বিরুদ্ধে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ভিডিওটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আরও যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জহিরুল ইসলামের আর দলে ফেরার সুযোগ থাকবে না বলেও জানান নুরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (১৭ অক্টোবর ) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি লেখেন,অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ‌'একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্য পথ হলো কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা। আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।'  
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরার পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এখন আর কিছু অবশিষ্ট না থাকায় ‘খাওয়া’ বন্ধ হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিএনপি নেতা। তার অভিযোগ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন নিজেদের আত্মীয়দের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পোস্টের শেষে ফয়সাল লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’ পোস্টটি ঘিরে মন্তব্যের ঘরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের এই ইঙ্গিতের পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি। ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত। তিনি লেখেন, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ এ ধরনের বক্তব্য দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিল্লুর রহমান নামে আরেকজন ফেসবুক পোস্টটিকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার দাবি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্যে জামায়াত লাভবান হবে। ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য দেননি মন্তব্যকারীরা।   জয়পুরহাট জেলা পরিষদ সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেছে। ওই কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’ সার ডিলারশিপ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তারা পেলেন না কেন?’ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম দাবি করেন, তার পোস্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’ তবে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত কমিশন এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তুলে ধরেননি ফয়সাল আলিম। এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।’
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
X