
দু’দিন আগেও যারা তাকে ছিচকে চোর বা মাদকসেবী বলে গালমন্দ করতেন, সেই অনিকের বাড়িতে এখন শত শত মানুষ ভিড় করছেন পরিবারটিকে সহানুভূতি বা আর্থিক সাহায্য করার জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও বদলে দিয়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবন।
২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা নিজে হাজির হন অনিকের বাসায়। অনিকের পরিবার এখন নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন। অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে হাঁটতে চান মেধাবী অনিক সরদার। তিনি একটি চাকরি চেয়েছেন। তার আদরের সোনামণিদের নিয়ে দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে সন্তানদের মানুষ করতে পারেন—এমন ব্যবস্থা করতে সমাজের মানুষের প্রতি অনুরোধ করেছেন।
অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস বলেন, তিনি এইচএসসি পাস করেছেন। তার দুটি সন্তান রয়েছে—তুবা বিনতে (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। স্বামী অনিক সরদার আলোর পথে ফিরতে চান। নিজেদের আয়ের কোনো পথ নেই, সংসারে অভাব। সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর কর্মসংস্থান বা নিজের জন্য একটি চাকরি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অশ্রুসজল চোখে অনিক বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ আমাকে আয়-রোজগারের পথ তৈরি করে দিলে আমি নিজেকে পরিবর্তন করব।’
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাবার জন্য মেয়ের ভালোবাসা দেখেছে সারা পৃথিবীর মানুষ। তুবা বিনতের বাবা অনিক সরদার আলোর পথে ফিরলে তিনি সরকারি সহায়তা করে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।’
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ শনিবার ভোররাতে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টাকালে জনতা ওই গ্রামের অনিক সরদারকে বেঁধে মারধর করেন। শনিবার সকালে তার মেয়ে তুবা বিনতে (৯) নিজ বাবাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ভিডিও দেশ রূপান্তরসহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।




