ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

একটা ডিম ১৫ টাকা, গরিবের পেটে লাথি মারছে সরকার: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৯ পিএম

একটি ডিমের দাম ১৫ টাকা হওয়াকে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আতঙ্কের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, মানুষের আয় না বাড়লেও বেঁচে থাকার খরচ বেড়েই চলেছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘একটা ডিম ১৫ টাকা’—এই চার শব্দের বাক্যটি এখন দেশের কোটি নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে আতঙ্কের নাম। যাদের নিয়মিত মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হলে থাকা শিক্ষার্থী ও মেসে থাকা ব্যাচেলর তরুণদের জন্যও ডিমকে ‘লাইফলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেন নাহিদ।

পোস্টে তিনি বলেন, ডিমের দাম একা বাড়েনি। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ ও সবজিসহ প্রায় প্রতিটি মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তাঁর দাবি, ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা এবং কয়েক দিন আগেই দুধের দামও বেড়েছে। অথচ মানুষের আয় সে অনুযায়ী বাড়েনি।

নাহিদ ইসলাম নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করেন—বাজেটের আকার ও সরকারের ব্যয়নীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য এবং সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান মেগা প্রজেক্টকে ‘মেগা দুর্নীতি’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। অথচ মেগা প্রজেক্ট ও বিভিন্ন কার্ড চালুর জন্য প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় এবং ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ বা তাদের ওপর কর বাড়ানোর কার্যকর পরিকল্পনা না থাকায় অতিরিক্ত অর্থের জোগান শেষ পর্যন্ত ভ্যাট বাড়ানো, ঋণ নেওয়া অথবা টাকা ছাপানোর মাধ্যমে করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্যাট বাড়লে সরাসরি পণ্যের দাম বাড়ে, টাকা ছাপালে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং ঋণের সুদও ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হয়।

জ্বালানি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার, পণ্য পরিবহন, দোকানসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের চাপ ভোক্তার ওপরই পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কারণে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক বেশি দামে সাধারণ মানুষকে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ১০ শতাংশ বাড়লে ধনীদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম পড়ে। কিন্তু নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে একই হারে ব্যয় বাড়া তাদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত তৈরি করে—কোন প্রয়োজনটি বাদ দিলে সংসার চালানো সম্ভব হবে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প নীতি নেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও দাবি করেন নাহিদ। তিনি বলেন, এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ছায়া বাজেটে ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্ট এড়িয়ে অর্থের সংস্থান করে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তা দেখানো হয়েছে।

তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ কমানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে বাড়তি ভর্তুকি দেওয়া। তবে সরকার এসব পথে হাঁটেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের নীতি থেকে কারা সুবিধা পেতে পারে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কিংবা মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ পাবেন। জ্বালানি খাত বেসরকারি করা হলে বিএনপি ও তাদের ঘনিষ্ঠ বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসার সুযোগ পেতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে মেগা প্রজেক্টের বড় অঙ্কের কমিশন থেকে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও করেন নাহিদ।

পোস্টের শেষ দিকে নিম্নবিত্ত পরিবারের খাদ্যসংকটের চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম লেখেন, কোটি মা হয়তো রাতে ১৫ টাকার একটি ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দেবেন।

সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
সৌদি আরবে হুতির হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন তিনি। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘সৌদি আরবের রিয়াদে ইহরামরত অবস্থায় নিহত নাসরুল্লাহ বদরের শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এসেছিলাম আমরা। সঙ্গে তার তিন এতিম সন্তানের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছি।’ মহান আল্লাহর কাছে এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণের দোয়া করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে নাসরুল্লাহ বদরের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের প্রার্থনা করেন তিনি। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত হয়েছেন মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদর। পবিত্র বাইতুল্লাহ জিয়ারতের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
সৌদিতে নিহত আলেমের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিলেন আহমাদুল্লাহ
অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) কর্তৃক আয়োজিত অভিবাসন বিষয়ক "মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড- ২০২৬" প্রদান করা হয়েছে। সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৫ জন সাংবাদিকের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ৩ সদস্যের একটি জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেল  আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিএনডব্লিউএলএর সভাপতি সিমা জাহুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আশরাফুল হক, প্রতিবেদন বাছাই করা জুরি বোর্ডের সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী, বিএমইটি'র পরিচালক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার, সিমস (SIMS) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাফাতুর রহমান রুবা, প্রকল্প সমন্বয়ক সাজ্জিদ আহমেদ, বিএনডব্লিউএল'র সদস্য অ্যাডভোকেট ফেরদৌস নিগার, ডিবিএলএ প্রতিনিধি রিফাত আরা সুলতানা (সিনিয়র সিভিল জজ), চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মাসরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এবারে এডওয়ার্ড পেলেন চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল, ঢাকা স্ট্রিমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক হাসান। অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধাগুলো তুলে ধরতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব বিবেচনায় সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিএনডব্লিউএলএ- এ পুরস্কারের আয়োজন করে ।
অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন। জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধুবা জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। এসব আইডির বিরুদ্ধে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ভিডিওটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আরও যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জহিরুল ইসলামের আর দলে ফেরার সুযোগ থাকবে না বলেও জানান নুরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (১৭ অক্টোবর ) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি লেখেন,অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ‌'একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্য পথ হলো কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা। আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।'  
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরার পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এখন আর কিছু অবশিষ্ট না থাকায় ‘খাওয়া’ বন্ধ হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিএনপি নেতা। তার অভিযোগ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন নিজেদের আত্মীয়দের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পোস্টের শেষে ফয়সাল লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’ পোস্টটি ঘিরে মন্তব্যের ঘরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের এই ইঙ্গিতের পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি। ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত। তিনি লেখেন, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ এ ধরনের বক্তব্য দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিল্লুর রহমান নামে আরেকজন ফেসবুক পোস্টটিকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার দাবি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্যে জামায়াত লাভবান হবে। ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য দেননি মন্তব্যকারীরা।   জয়পুরহাট জেলা পরিষদ সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেছে। ওই কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’ সার ডিলারশিপ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তারা পেলেন না কেন?’ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম দাবি করেন, তার পোস্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’ তবে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত কমিশন এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তুলে ধরেননি ফয়সাল আলিম। এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।’
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
X