
সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে বাংলাদেশে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না। পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত অবস্থান, পারিবারিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং স্টুডিও নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মোনায়েম মুন্না লেখেন, ‘সালমান মুক্তাদিরকে নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশে। আমি এই বিষয়ে নাক গলাতে চাইনি কখনোই। কিন্তু সালমান মুক্তাদির বিষয়ক এই ফটোকার্ডটি দেখে আর কিছু না লিখে পারলাম না।’
সালমান মুক্তাদিরের ধূমপান, মদ্যপান ও মাদকবিরোধী অবস্থানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, একজন ‘সুফি প্রকৃতির’ মানুষকে নিয়ে কেন এত সমালোচনা হচ্ছে।
পোস্টে মোনায়েম মুন্না দাবি করেন, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামকে তারা কিশোর বয়স থেকেই চেনেন এবং সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একজন ‘মাস্তান’ হিসেবে তাকে চিনতেন।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ নুরুল ইসলামের আপন মামা সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর। একইসঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরবাড়ির আরেক আত্মীয় হিসেবে ‘সুইডেন আসলাম’-এর নাম উল্লেখ করেন তিনি।
মোনায়েম মুন্নার আরও অভিযোগ, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর বাংলাদেশের ‘সবচাইতে বৃহৎ বৈধ ও অবৈধ মদের কারবারি’।
মোনায়েম মুন্না তার পোস্টে দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালমান মুক্তাদির আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।
এ কারণে তিনি সালমান মুক্তাদিরকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলেও উল্লেখ করেন।
২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নিয়েও সালমান মুক্তাদিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মোনায়েম মুন্না।
তার দাবি, ওই আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য শেখ হাসিনার ‘প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী’ সালমান মুক্তাদির তিনটি কনটেন্ট নির্মাণ করেছিলেন, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে সরে যায়।
এ প্রসঙ্গে তিনি সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌফিক জোয়ারদারের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ওই স্ট্যাটাসে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল।
পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের কাছে কয়েকটি প্রশ্নও রাখেন যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না।
প্রথম প্রশ্নে তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেকে এত ‘সুসভ্য’ দাবি করলেও তার শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি জানতেন কি না। মোনায়েম মুন্নার দাবি, সালমান মুক্তাদির এসব বিষয়ে জানতেন এবং জেনেশুনেই মদ ব্যবসায়ীর মেয়েকে বিয়ে করেছেন।
দ্বিতীয় প্রশ্নে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও নির্মাণের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মোনায়েম মুন্নার দাবি, যে জায়গায় স্টুডিও নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জায়গার মালিক একজন ‘চিহ্নিত ভূমিদস্যু’।
তিনি প্রশ্ন করেন, একজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও সাধারণত শহরের প্রাণকেন্দ্র বা ভালো এলাকায় হওয়ার কথা হলেও মিরপুরের একটি ‘সমস্যা সংকুল’ এলাকায় কেন স্টুডিও নির্মাণ করা হলো।
তৃতীয় প্রশ্নে তিনি ওই এলাকার কথিত ভূমি বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, ‘ভূমিদস্যু’ নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেলের বিরোধ ছিল। সেখানে বিএনপির কোনো ইস্যু ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মোনায়েম মুন্নার অভিযোগ, সালমান মুক্তাদির ‘গায়ের জোরে বিএনপিকে টেনে এনে’ বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ধ্বংসের অপচেষ্টা করেছেন।
পোস্টের শেষাংশে মোনায়েম মুন্না লেখেন, ‘অতএব সাধু সাবধান! বাংলাদেশের মানুষ এই সমস্ত ছদ্মবেশী দুষ্ট লোকদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে পেরেছে।’




