
রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন, অতীতের ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং চাকরির যাচাই-বাছাই নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী নিজেদের পরিচয় আড়াল করে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দাবি করছেন-এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এমন দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এমন মন্তব্য করেন।
একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আগে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকা কিছু ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমের অতীত ছাত্ররাজনীতিতে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বক্তব্যটিতে বলা হয়, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যখন মিছিল করা হয়েছিল, তখন সাদিক কায়েম ছাত্রলীগের হয়ে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই বক্তব্যে দাবি করা হয়, আবরার ফাহাদকে শিবিরের তকমা দিয়ে হত্যা করা হলেও ওই কর্মসূচিতে একজন শিবির নেতার অংশগ্রহণ ছিল না। এ ছাড়া ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, ওই আন্দোলনগুলো না হলে কিছু ব্যক্তি ছাত্রলীগের বড় পদে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতেন।
বক্তব্যটিতে চাকরিপ্রার্থীদের পুলিশি যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসছে, যাঁরা নিজেদের শিবিরের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণে প্রশাসনকে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে বক্তব্যটিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো নেতাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁর পক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে তদবির করা হচ্ছে। তাঁদের কেউ কেউ অতীতে কৌশলগত কারণে ছাত্রলীগে যুক্ত হয়েছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তারা শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত- এমন যুক্তিও তুলে ধরা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী এখন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন-এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।




