ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আগামীতে দুটো দল দেখি, এক জামায়াত, ২ আওয়ামী লীগ: রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক

  ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের মনোজাগতিক যে পরিবর্তন এসেছে তাতে আগামীতে দুটি দল দেখছি— একটা জামায়াত, আরেকটা আওয়ামী লীগ। এটার বাখ্যা ও যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এমন বাখ্যা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্য।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

রুমিন ফারহানা বলেন, আপনি যদি আমাকে লং রানে দেখতে বলেন, আমি জানি বিএনপির ভাইরা দুঃখ ও কষ্ট পাবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মনোজাগতিক যে পরিবর্তন এসেছে। তাতে আমি আগামীতে দুটি দল দেখি—একটা জামায়াত, আরেকটা আওয়ামী লীগ। আমি যে কথাটা বলছি আমি রিকোয়েস্ট করবো আমার দর্শককে যে কথাটা আপনারা ভাববেন।

তিনি বলেন, কথাটা আপনারা এমনভাবে নেবেন না যে, বিএনপি মানে খুব ইজি কোশ্চেন। ও বিএনপি মনোনয়ন দেয় নাই। রুমিন বিএনপিকে পছন্দ করে না। এজন্য বিএনপি রুমিন বলছে। না, আমি বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করি এবং করব। রাজনীতিবিদ হওয়াটাই আমার লক্ষ্য, এমপি ও মন্ত্রী না। সুতরাং আমি এটা নিয়ে এটা এটা আমার ২৪ ঘণ্টার চর্চা। তাই সেই জায়গা থেকে আপনি যদি ফিউচার ফোর্সি করতে বলেন, এগেইন আমি বলব ফিউচার একমাত্র আল্লাহর হাতে। কিন্তু তারপর আপনি যদি আমাকে ফোর্সি করতে বলেন যে আমি কি দেখি আমার ক্যালকুলেশন ইকুয়েশন কি বলে?

তিনি আরও বলেন, একদিকে যাবে লেফট ফোর্সটা। সেন্টার লেফট টু লেফট। আওয়ামী লীগ এবং বাম দল। তারা একটা শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে। আরেকদিকে থাকবে জামায়াত এবং অন্যান্য যে রাইট উইং পার্টিগুলো তারা। হেফাজত কিন্তু আরেকটা বড় শক্তি তৈরি করছে। আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। সেখানে সাতটা দল আছে এবং তারা বলছে যে তারা এখন একটা একক ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে তারা তাদের উত্থান চায়। সুতরাং অদুর ভবিষ্যতে যদি এই হেফাজতের সাথে ইসলামিক ঐক্যের ভিত্তিতে জামায়াতের কোনোরকম কোনো নেগোসিয়েশন হয় যেটা আজকে হয়তো অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে।

‘‘যেটা একেবারে অসম্ভব মনে হচ্ছে। কারণ ওরা বলছে এদের ইসলাম ঠিক না এরা বলছে ওদের ইসলাম ঠিক না। হ্যাঁ তারপরেও যদি রাজনৈতিক ঐক্য হয় আপনি বলেন তাহলে বিএনপির পায়ের নিচের ভিতটা কোথায় যাবে। কারণ এরা তো আওয়ামী লীগের ভোট না। আওয়ামী লীগের যেটা ভোট ওটা আলাদা। ওটা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক না। এরা কিন্তু বিএনপির ভোট ব্যাংক। তাহলে এই হেফাজতের সাতটা, কাওমি মাদ্রাসা, প্লাস যদি জামায়াতে ইসলাম রাজনৈতিক ঐক্যে যায়, ধর্মীয় ঐক্য না। ধর্মের ঐক্যে তাদের আকাশ পাতাল পাথক্য। রাজনৈতিক ঐক্যে যায় ভবিষ্যতে থাকিয়ে দেখেন বিএনপি স্লিম হয়ে যাবে। বিএনপির একটা গুড চাঙ্ক অফ ভোট রাইট ফোর্সের কাছে চলে যাবে। আমরা জামায়াত বা হেফাজত না বলি রাইট ফোর্সের কাছে চলে যাবে। তাই আগামী দিনের রাজনীতি এইভাবে দুই ভাগে বিভক্ত।’’

জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের জন্য কঠিন হবে। তবে পারবে না এটা আমি মনে করি না। ঠিক যেই কারণে আপনি বিজেপিরটা বললেন জামায়াতের ব্যাপারে আমার একই কথা একই হিসাব মাথায় আসে। ওরা খুবই অর্গানাইজড। দলীয় শৃঙ্খলা চমৎকার। আমি যতদূর বাইরে থেকে জানি। আমি তো আর ভেতরে জানি না। ওনাদের দলের ভেতরে যেই ভোটাভোটি হয় সেটার ভিত্তিতেই পদ নির্ধারিত হয়। এমপি ইলেকশন কে করবে না করবে সেটা নির্ধারিত হয় এবং নমিনেশনের সময় টাকা পয়সার লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায় না।

‘‘রাদার ভোটে নাম এসছে এলাকায় জরিপ কার নাম বলছে তার উপর এই সিদ্ধান্তগুলো হয় এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের একেবারে একেবারে রুটে যে কাজ করে রুট লেভেলে যে আছে তারও যেমন মাসের ইনকামের একটা ছোট্ট অংশ জামায়াতকে দিতে হয় একেবারে টপে আমিরের যিনি আছেন আমিরে জামায়াত উনিও কিন্তু তার আয়ের একটা ক্ষুদ্র অংশ দলে ডোনেট করেন। সেই সঙ্গে তো তাদের ইন্টারন্যাশনাল বেক আপ আছেই। এর ফলে যেটা হয় একজন কর্মী যদি জেলে যান বা তার পরিবার যদি দুর্দশায় পড়ে বা দলীয় কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন তখন কিন্তু দল হিসেবে জামায়াত তার পাশে গিয়ে শক্তভাবে দাঁড়ায়।’’

রুমিন ফারহানা বলেন, এই সকল কিছু কিন্তু তৃণমূলে দলটির একটি শক্ত ভিত্তি ধীরে ধীরে তৈরি করছে। দুই হচ্ছে একটা দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে জামায়াত পিক করে। তাকে বিদেশে পড়াশোনা করায়। আমি নাম বলতে পারি কিন্তু আমি বলবো না। কারণ আমাদেরই পরিচিত লোকজন আমি কাউকে টেলিভিশনে আমি হেনস্তা করতে আসিনি। আমি বরং এই ডিসিশনটাকে সম্মান করি। ছেলেটা হয়তো মেধাবী সে পড়তে পারতো না বিদেশে। সে ব্যারিস্টার হইতে পারতো না। কিন্তু জামায়াত তাকে ব্যারিস্টার করে নিয়ে আসে। এই যে ছেলেটার একটা ইন্টিগ্রিটি একটা কৃতজ্ঞতা তৈরি হয় দলটার প্রতি। তখন ছেলেটা কি করে? ছেলেটা জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা ফ্রি করে বা কম ফিতে করে।

‘‘জামায়াতের একটা ছেলে যখন বিবিএ-এমবিএ কমপ্লিট করে জামায়াতের একটা ব্যাংকে তার জব হয়। এমবিবিএস কমপ্লিট করে জামায়াতের একটা হাসপাতালে তার জব হয়। এটা একটা ইকোসিস্টেমট। অরগানাইজ ম্যানার সেটা কাজ হয়। সে কারণেই আমি খুব অবাক হব না যদি না আওয়ামীলীগ-বিএনপি তাদের যার যার অবস্থান সংশোধন করে।’’

অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) কর্তৃক আয়োজিত অভিবাসন বিষয়ক "মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড- ২০২৬" প্রদান করা হয়েছে। সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৫ জন সাংবাদিকের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ৩ সদস্যের একটি জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেল  আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিএনডব্লিউএলএর সভাপতি সিমা জাহুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আশরাফুল হক, প্রতিবেদন বাছাই করা জুরি বোর্ডের সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী, বিএমইটি'র পরিচালক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার, সিমস (SIMS) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাফাতুর রহমান রুবা, প্রকল্প সমন্বয়ক সাজ্জিদ আহমেদ, বিএনডব্লিউএল'র সদস্য অ্যাডভোকেট ফেরদৌস নিগার, ডিবিএলএ প্রতিনিধি রিফাত আরা সুলতানা (সিনিয়র সিভিল জজ), চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মাসরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এবারে এডওয়ার্ড পেলেন চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল, ঢাকা স্ট্রিমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক হাসান। অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধাগুলো তুলে ধরতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব বিবেচনায় সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিএনডব্লিউএলএ- এ পুরস্কারের আয়োজন করে ।
অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন। জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধুবা জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। এসব আইডির বিরুদ্ধে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ভিডিওটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আরও যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জহিরুল ইসলামের আর দলে ফেরার সুযোগ থাকবে না বলেও জানান নুরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (১৭ অক্টোবর ) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি লেখেন,অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ‌'একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্য পথ হলো কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা। আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।'  
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরার পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এখন আর কিছু অবশিষ্ট না থাকায় ‘খাওয়া’ বন্ধ হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিএনপি নেতা। তার অভিযোগ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন নিজেদের আত্মীয়দের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পোস্টের শেষে ফয়সাল লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’ পোস্টটি ঘিরে মন্তব্যের ঘরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের এই ইঙ্গিতের পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি। ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত। তিনি লেখেন, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ এ ধরনের বক্তব্য দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিল্লুর রহমান নামে আরেকজন ফেসবুক পোস্টটিকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার দাবি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্যে জামায়াত লাভবান হবে। ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য দেননি মন্তব্যকারীরা।   জয়পুরহাট জেলা পরিষদ সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেছে। ওই কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’ সার ডিলারশিপ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তারা পেলেন না কেন?’ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম দাবি করেন, তার পোস্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’ তবে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত কমিশন এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তুলে ধরেননি ফয়সাল আলিম। এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।’
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
মাননীয় উপাচার্য মহোদয়, আপনি বড্ড একা: জবি ছাত্রদল নেতা জাফর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনকে উদ্দেশ করে ‘আপনি বড্ড একা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ। উপাচার্যের আশপাশের কিছু মানুষের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, বাইরের প্রতিপক্ষের চেয়ে কাছের মানুষের ভূমিকাই তাকে ব্যর্থ করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জাফর আহমেদ। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, চারপাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী দেখা গেলেও প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী কতজন, তা সময়ই বলে দেবে। ব্যক্তিস্বার্থে মিষ্টি কথা বলা মানুষেরাই সুযোগ বুঝে সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারেন। তাই যাঁদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছেন, তাঁদের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জাফর আহমেদ আরও লেখেন, প্রশংসাকারী মানেই শুভাকাঙ্ক্ষী নন, আর কাছের মানুষ মানেই বিশ্বস্ত নন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কে প্রকৃতপক্ষে ভালো চান আর কে ব্যবহার করে বিতর্কিত করতে চান, তা ভেবে দেখা উচিত। অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে প্রমাণ ও বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। উপাচার্যকে উদ্দেশ করে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, তাকে ব্যর্থ করার জন্য বাইরের প্রতিপক্ষের চেয়ে আশপাশের কিছু মানুষের ভূমিকাই যথেষ্ট হতে পারে। যাঁদের সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করছেন, তাঁদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গোলটেবিল বৈঠক, সভা কিংবা আলোচনায় সুন্দর সুন্দর কথা বলা ও উপদেশ দেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ রাতের আঁধারে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। বিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বার্থ কখনো কখনো বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় উল্লেখ করে কথা বলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে জাফর আহমেদ লেখেন, আপনি আমার থেকে অনেক জ্ঞানী স্যার। তারপরেও আপনার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা দেখে যা মনে হলো তা প্রকাশ করলাম। আপনার সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করি। আমার জন্যও দোয়া করবেন স্যার। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেই ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে পর পর দুইদিন গরু ভুজের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা।
মাননীয় উপাচার্য মহোদয়, আপনি বড্ড একা: জবি ছাত্রদল নেতা জাফর
আরও পড়ুন
বিএনপিতে না থাকাকে ‘আল্লাহর রহমত’ বললেন রুমিন ফারহানা
X