ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতের খালিদুজ্জামানকে ‘ভণ্ড ডাক্তার’ বললেন রাশেদ খান

অনলাইন ডেস্ক

  ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০৭ এএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০৮ এএম
ডা. এস এম খালিদুজ্জামান ও মো. রাশেদ খাঁন। ছবি: কোলাজ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ‘ভণ্ড ডাক্তার’ আখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৭টা ৫৭ মিনিটে দেওয়া রাশেদের সেই পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ভণ্ড ডাক্তার খালিদুজ্জামান ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরে ১৬ সেকেন্ডের জন্যও রাজপথে নামেনি। এমনকি শেখ হাসিনার বিপক্ষে ফেসবুকেও কখনো কোনো পোস্ট দেননি। কিন্তু এ ভণ্ড ডাক্তার প্রায়ই দেখি নেতিবাচকভাবে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম প্রশ্নবিদ্ধ করে পোস্ট করেন। যার মানুষের কাছে পরিচয় দিতে হয়, তারেক রহমানের আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। সে আবার অন্যদের ত্যাগকে ছোট করে কোন লজ্জায়।

এ পরিচয়হীন নির্লজ্জ নব্য রাজাকার, কাপুরষ, গুপ্ত খালিদুজ্জামান ফেসবুক পেজ খুলেছে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্টে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর এসব ভণ্ড খালিদুজ্জামানরা নব্য বিপ্লবী হয়েছে। আবার কখনো শেখ হাসিনা ফিরলে এরা গোঁফ দাড়ি ছেঁটে ফেলে হয়ত নতুন রূপে আবির্ভূত হবে অথবা পাকিস্তানে পালাবে।

এসব সুযোগ সন্ধানী পাকি ভণ্ডরা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। বিগত ১৬ বছরে শেখ হাসিনার সন্তান হিসেবে এরা লীগ হয়ে বেঁচে ছিল। এখন এরা জামায়াত-শিবির রূপে ফিরে এসেছে। এদের দেশ থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা উচিত। গণঅভ্যুত্থানের পরে এরা দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনা হিসেবে দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করছে। একজন প্রকৃত ডাক্তারের ভাষা ও আচরণ ভণ্ড খালিদুজ্জামানের মতো হতে পারে না। এ খালিদুজ্জামান টোটালি একটা বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ।

‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন। জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধুবা জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। এসব আইডির বিরুদ্ধে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ভিডিওটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আরও যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জহিরুল ইসলামের আর দলে ফেরার সুযোগ থাকবে না বলেও জানান নুরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
‘মাদক’ সেবনের ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (১৭ অক্টোবর ) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি লেখেন,অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান, সেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ‌'একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্য পথ হলো কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা। আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।'  
নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে: তাসনিম জারা
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ এবং সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরার পর দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টে ফয়সাল আলিম লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ গত ছয় মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, এখন আর কিছু অবশিষ্ট না থাকায় ‘খাওয়া’ বন্ধ হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিএনপি নেতা। তার অভিযোগ, নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন নিজেদের আত্মীয়দের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পোস্টের শেষে ফয়সাল লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’ পোস্টটি ঘিরে মন্তব্যের ঘরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের এই ইঙ্গিতের পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি। ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত। তিনি লেখেন, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ এ ধরনের বক্তব্য দলের মধ্যে বিতর্ক ও কোন্দল বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জিল্লুর রহমান নামে আরেকজন ফেসবুক পোস্টটিকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার দাবি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্যে জামায়াত লাভবান হবে। ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য দেননি মন্তব্যকারীরা।   জয়পুরহাট জেলা পরিষদ সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেছে। ওই কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’ সার ডিলারশিপ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তারা পেলেন না কেন?’ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় ফয়সাল আলিম দাবি করেন, তার পোস্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’ তবে ল্যাপটপ বিতরণ, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত কমিশন এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিস্তারিত তুলে ধরেননি ফয়সাল আলিম। এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তার কিছুই মনে হয়নি।’
‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন’
মাননীয় উপাচার্য মহোদয়, আপনি বড্ড একা: জবি ছাত্রদল নেতা জাফর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনকে উদ্দেশ করে ‘আপনি বড্ড একা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ। উপাচার্যের আশপাশের কিছু মানুষের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, বাইরের প্রতিপক্ষের চেয়ে কাছের মানুষের ভূমিকাই তাকে ব্যর্থ করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জাফর আহমেদ। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, চারপাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী দেখা গেলেও প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী কতজন, তা সময়ই বলে দেবে। ব্যক্তিস্বার্থে মিষ্টি কথা বলা মানুষেরাই সুযোগ বুঝে সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারেন। তাই যাঁদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছেন, তাঁদের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জাফর আহমেদ আরও লেখেন, প্রশংসাকারী মানেই শুভাকাঙ্ক্ষী নন, আর কাছের মানুষ মানেই বিশ্বস্ত নন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কে প্রকৃতপক্ষে ভালো চান আর কে ব্যবহার করে বিতর্কিত করতে চান, তা ভেবে দেখা উচিত। অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে প্রমাণ ও বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। উপাচার্যকে উদ্দেশ করে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, তাকে ব্যর্থ করার জন্য বাইরের প্রতিপক্ষের চেয়ে আশপাশের কিছু মানুষের ভূমিকাই যথেষ্ট হতে পারে। যাঁদের সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করছেন, তাঁদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গোলটেবিল বৈঠক, সভা কিংবা আলোচনায় সুন্দর সুন্দর কথা বলা ও উপদেশ দেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ রাতের আঁধারে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। বিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বার্থ কখনো কখনো বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় উল্লেখ করে কথা বলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে জাফর আহমেদ লেখেন, আপনি আমার থেকে অনেক জ্ঞানী স্যার। তারপরেও আপনার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা দেখে যা মনে হলো তা প্রকাশ করলাম। আপনার সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করি। আমার জন্যও দোয়া করবেন স্যার। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর মাংস রান্নাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেই ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে পর পর দুইদিন গরু ভুজের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা।
মাননীয় উপাচার্য মহোদয়, আপনি বড্ড একা: জবি ছাত্রদল নেতা জাফর
জামায়াতের আদর্শ বিস্তারের অভিযোগে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের বিস্তার ঘটেছে অভিযোগ করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আবদুর রহমান। আবদুর রহমান শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এনসিপির আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে শেয়ার করেছেন। পদত্যাগপত্রে আবদুর রহমান লিখেছেন, নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক অবস্থান এবং জামায়াতের সঙ্গে গড়ে ওঠা নির্বাচনি ও রাজনৈতিক জোটের কারণে এনসিপি তার ঘোষিত আদর্শ থেকে সরে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা পেরিয়ে নাগরিক কমিটির হাত ধরে পরবর্তী সময়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার তাকে এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তবে দলটির নির্বাচনি ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন আবদুর রহমান। তার ভাষ্য, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে গঠিত নির্বাচনি ও রাজনৈতিক জোটের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতি আদর্শ বিস্তার লাভ করেছে। জামায়াত প্রশ্নে দলের বহু প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব এনসিপি ত্যাগ করেছেন। আবদুর রহমান লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট এক হবে না’—এমন প্রত্যাশা থেকে তিনি এনসিপির সঙ্গে থেকে যান। কিন্তু দিনে দিনে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে দ্বিচারিতা যেন বেড়েই চলেছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিক জোট হিসেবে একাকার হয়ে গেছে, যা এনসিপির একজন কর্মী হিসেবে তার মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পদত্যাগপত্রে সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশের কারণে তাকে ‘মুজিববাদী’ তকমা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ জানান আবদুর রহমান। তার মতে, এ ধরনের আচরণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে এবং সহকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তির শাসনের ইতিহাসকে পৃথক দুটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের অবস্থান বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের অবস্থানের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। ফলে আদর্শিক প্রশ্নেও দলটির স্বতন্ত্র অবস্থান জামায়াতের বয়ানের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। এসব কারণে এনসিপির সঙ্গে পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে আবদুর রহমান তার পদত্যাগপত্রে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার অনুরোধ জানান তিনি। পদত্যাগপত্রের শেষাংশে এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দলটি ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন আশা করেন তিনি।
জামায়াতের আদর্শ বিস্তারের অভিযোগে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক
আরও পড়ুন
জৈনপুরী দরবার শরীফ নিয়ে উচ্চারণগত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ রাশেদ খাঁনের
সরকার পরিচালনায় আব্বাসীর সহযোগিতা চাইলেন রাশেদ খাঁন
যে কারণে জামায়াত থেকে শিশির মনিরের বহিস্কার চাইলেন রাশেদ
‘আর কখনও, কোনো ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে না’
X