
লমিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত। তার গোলে গতকাল রাতে উয়েফা নেশনস লিগে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্পেন।
ম্যাচে একটি করে গোল করেছেন অধিনায়ক রদ্রি হার্নান্দেস ও মিকেল মেরিনোও। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ৩’-এর শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
একই দিনে ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ইংলিশদের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে স্পেন।
ওভিয়েদোয় ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় স্পেন। ষষ্ঠ মিনিটেই দুর্দান্ত এক গোলে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।
বক্সের ডান দিক থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জায়গা তৈরি করেন বার্সেলোনার এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এরপর বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান তিনি।
ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচেও দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেছিলেন ইয়ামাল। এবার অবশ্য গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ষষ্ঠ মিনিট পর্যন্ত।
৩৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রি। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দারুণ এক শটে জালে পাঠান ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই মিডফিল্ডার। জাতীয় দলের হয়ে দুই বছরেরও বেশি সময় পর গোল পেলেন তিনি।
বিরতির সময় ইয়ামালকে তুলে নেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মঙ্গলবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে তরুণ ফরোয়ার্ডকে বিশ্রাম দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে চেক প্রজাতন্ত্র। আদাম হ্লোজেকের পাস থেকে ৭০ মিনিটে গোল করে ব্যবধান কমান ইয়ারি স্লামা। গোলরক্ষক দাভিদ রায়ার পাশ দিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি।
এরপর সমতা ফেরানোর সুযোগও পেয়েছিল সফরকারীরা। গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ভুল পাস দিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান রায়া। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র। পরে রায়ার ভুলে রায়ান নাদেরি বল জালে পাঠালেও রবিন লে নরম্যান্ডকে ফাউল করার কারণে গোলটি বাতিল হয়।
শেষ দিকে লাদিস্লাভ ক্রেইচির লাল কার্ডে আরও চাপে পড়ে চেক প্রজাতন্ত্র। রবার্তো ফের্নান্দেজকে টেনে ধরায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। এরপর ৮০ মিনিটের পর মিকেল মেরিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
এই জয়ে টানা ৪১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছে স্পেন। গত জুলাইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের জয়ও রয়েছে এই ধারাবাহিকতার মধ্যে।
ম্যাচ শেষে রদ্রি বলেন, ‘তারা গোছানো একটি দল। আমার মনে হয়েছিল, এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন ম্যাচগুলোর একটি হবে, শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। ম্যাচটি কঠিন ছিল, তবে আমরা কিছু সুযোগ তৈরি করেছি। সব ম্যাচে সমান সুযোগ তৈরি করা যায় না। দল হিসেবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছি।’
জাতীয় দলের হয়ে গোল করতে পেরে উচ্ছ্বসিত রদ্রি আরও বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে গোল করা সব সময়ই বিশেষ কিছু। অনেক দিন গোল পাচ্ছিলাম না। আশা করি, এবার সেই ধারায় ফিরতে পেরেছি। গোল করার ক্ষেত্রে আমাদের সবারই অবদান রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে, ইয়ামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, ইয়ামালের সেরাটা এখনো দেখা বাকি।
স্পেন কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে আমাদের সবাইকে প্রতিনিয়ত অবাক করে চলেছে। তার এত প্রতিভা, এত গুণ যে আমরা এখনো লমিনের সেরা রূপের ধারেকাছেও পৌঁছাইনি। তার দেওয়ার আরও অনেক কিছু বাকি। সে অসাধারণ দক্ষ, প্রতিভাবান এবং বিপুল সম্ভাবনাময়।’
ইয়ামাল নিজেও জাতীয় দলে ফিরে এমন পারফরম্যান্সে খুশি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো করছি, আমি খুব খুশি। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলে ফেরার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। এর চেয়ে ভালোভাবে ফেরা সম্ভব নয়।’
১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের সাম্প্রতিক ফর্মও চোখে পড়ার মতো। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বশেষ ৯ ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন তিনি। ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে তাকে।




