
লামিন ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ডানা মেলে উড়ছে বার্সেলোনা। ১০ জনের রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পর্শ করেছে রিয়াল মাদ্রিদের বহু পুরনো এক রেকর্ড। ম্যাচ শেষে ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গারকে সংসংকোচে ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক।
সেভিয়ার লা কারতুহা স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে স্প্যানিশ লা লিগায় টানা নবম জয়ের স্বাদ পেল কাতালানরা। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে টানা নয় জয় দিয়ে লিগ শুরুর রেকর্ড গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। দীর্ঘ ৫৭ বছর পর সেই কীর্তিতে ভাগ বসাল বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত টানা ১১ ম্যাচ জিতল ফ্লিকের দল।
এই পারফেক্ট জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে স্পষ্ট ৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান সুসংহত করল তারা। ম্যাচের দশম মিনিটেই একক নৈপুণ্যে চোখধাঁধানো এক গোলে বার্সাকে এগিয়ে নেন ইয়ামাল। ডি-বক্সের মুখে চমৎকার টার্নে ফাকুন্দো বের্নালকে চক্কর খাইয়ে বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান এই তরুণ।
সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচের মুখে তাই কেবলই ইয়ামাল-বন্দনা, ‘ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ম্যাচটি দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল। ইয়ামালের প্রথম গোলটার কথা যদি বলেন—এক কথায় অবিশ্বাস্য! আমার চোখে এই মুহূর্তে সে-ই বিশ্বের সেরা।’
আক্রমণে ঝড় তুললেও বার্সার রক্ষণে অবশ্য বেশ কিছু ভুলভ্রান্তি ছিল। ২৯ মিনিটে বালেনতিন গোমেসের হেডে সমতায় ফিরে ম্যাচের আমেজ বদলে দেয় বেতিস।
তবে বেতিসের আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হতে দেয়নি সফরকারীরা। কর্নার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেডে বার্সাকে ফের এগিয়ে দেন রদ্রি। এর পরপরই জিওভানি লো সেলসো দূরপাল্লার শটে গোল করলেও আক্রমণের শুরুতে কুচো এরনান্দেসের হ্যান্ডবল হওয়ায় ভিএআরে তা বাতিল হয়।
বিরতির পর খেলা শুরুর ছয় মিনিটের মাথায় ব্যবধান ৩-১ করেন গাব্রিয়েল জেসুস। ইয়ামালের নিখুঁত কাট-ব্যাক থেকেই বল পান এই ব্রাজিলিয়ান। তবে কয়েক মিনিটের মাথায় বেতিসের হয়ে এক গোল শোধ করে ম্যাচে নাটকীয়তা ফেরান এজ আবদে।
তবে সমতায় ফেরার সে চেষ্টা ভেস্তে যায় বের্নালের এক বোকামিতে। ইয়ামালকে মাথা দিয়ে আঘাত করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এ নিয়ে মাঠজুড়ে উত্তেজনা ছড়ালে অন্য ফুটবলারদের সঙ্গে ইয়ামালকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বেতিসকে চেপে ধরতে দেরি করেনি বার্সা। কাছ থেকে ব্যবধান ৪-২ করেন এরিক গার্সিয়া। আর শেষ দিকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিপুণ শটে বড় জয় নিশ্চিত করেন দানি ওলমো।
আগামী সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এল ক্লাসিকোর মহারণ। তার আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে ইয়ামাল যাতে নিষিদ্ধ না হন, তাই শেষ দিকে তাকে তুলে নেন ফ্লিক।
ফ্লিক বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে তাকে তুলে নেওয়াটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। তাকে বলেছি, তার আজকের খেলায় আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
লা লিগায় জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পর এবার ইউরোপ সেরার মঞ্চে নামছে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হবে তারা।




