
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞানকারী ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে প্রায় ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ফলে এখানে গর্ভবতী মায়েরা প্রসবকালীন জরুরি ও জটিল সময়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শুধু গাইনি নয়, এই হাসপাতালে সার্জারিই, মেডিসিন, শিশুসহ বিশেষজ্ঞের ১১ পদই শূন্য। কার্যক্রম চালু না থাকায় অস্ত্রোপচার কক্ষে থাকা কোটি টাকার সরঞ্জামও পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, রায়পুর উপজেলার ৪ লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার অপারেশনের জন্য আছে অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। কিন্তু এখানে প্রায় ২ বছর ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অজ্ঞানকারী ডাক্তার না পারায় এ হাসপাতালটিতে বন্ধ রয়েছে মায়েদের প্রসবকালীন জটিল ও জরুরি সময়ের সিজারিয়ান অপারেশন।
রোগী আসছেন-যাচ্ছেন। এর মধ্যেই অস্ত্রোপচার কক্ষের দরজায় বড় তালা ঝুলছে। ২ বছর পূর্বে এখানে নিয়মিত সিজার অপারেশন হতো। বর্তমানে এটি বন্ধ থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে প্রাইভেট ক্লিনিকে। এছাড়াও নার্সসহ কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংকটও প্রকট। চিকিৎসক, কর্মকর্তা–কর্মচারী, চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটসহ নানা সমস্যায় এখানে এসে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন, ২ বছর ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় জরুরি সময়ে এখানে অপারেশন করানোর সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি খরচও হচ্ছে। সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তো দূরের কথা, দক্ষ নার্সও নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল পাওয়া গেলে দ্রুতই অপারেশন কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




