
মধুখালী পৌরসভার পূর্ব গাড়াখোলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত অজিত কুমার সরকারের স্ত্রী মায়া রানীকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছেন তার সৎ দুই ছেলে রজনীকান্ত ও অমিতাভ। সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করে তারা নিজের মাকে দেখিয়েছেন মৃত। আর এ কাজে সহযোগিতা করেছেন ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কুল শিক্ষিকা নাসিমা বেগম। মায়া রানী মৃত বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই এ ব্যাপারে মধুখালী নির্বাচন অফিসে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মায়া রানী বলেন, তিনি এখনো জীবিত আছেন, তবে কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে জানতে পারেন তার ভোটার আইডি কার্ডে নামের আগে মৃত দেখানো হচ্ছে। লোকমুখে জানতে পারেন আমার শেষ সম্বল বসতভিটা, শুকৌশলে ছেলেরা অন্যথায় বিক্রয় করে দিয়েছেন। এ কাজটি করেছেন আমার সৎ ছেলেরা।
মায়া রানী সাংবাদিকদের আরও জানান, সৎ ছেলেদের পরামর্শে সৎ মেয়ের বাড়িতে চোখের চিকিৎসার জন্য দুই মাস অবস্থান করি। সেই সুযোগে তার সৎ ছেলেদের পরামর্শে ২০২২ সনে ভোটার তালিকা হালনাদাগকারী মধুখালী রইসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষিকা নাসিমা বেগম এ কাজটি করেন। এ বিষযে মধুখালী নির্বাচন অফিসে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করলে, নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আদিল সমস্যাটি সমাধান করে দেন।
এদিকে এলাকাবাসী শিক্ষক নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ না করে তার স্বামীকে দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ করেছেন। যার ফলে ভোটার নিবন্ধন তথ্যে ভুল ভ্রান্তি হয়েছে। নাসিমা বেগম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অল্প কিছু তথ্য আমার স্বামী সংগ্রহ করেছে, বেশিরভাগ তথ্য আমরা দুজনে একসাথেই সংগ্রহ করেছি, ফলে আমি কোন ভুল করিনি।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আদেলের কাছে শিক্ষকা নাসিমা বেগমের এমন ভুল তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে মায়া রানীর ছোট ছেলে রজনীকান্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই চক্রান্তের সাথে তিনি সম্পৃক্ত নয়, তবে তার অংশটুকু তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। বড় ছেলে অমিতাভের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, একজন অসহায়, বিধবা মহিলার সাথে এরকম প্রতারণায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।




