
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একজন কর্মকর্তার কাঁধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরের দায়িত্ব থাকায় জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতিজনিত কারণে পাকুন্দিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান কে গত ২০ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন এর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের আদেশ জারি করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান গত ৩ আগষ্ট বদলি হলে থেকে ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান ইউএনও। এর আগে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়রের পদ শূন্য হওয়ায় ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়। ফলে বর্তমানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন তিনি। এবং ৯টি ওয়ার্ডের কমিশনার পদ শূন্য হওয়ায় বিভিন্ন দপ্তর প্রধান নিজের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি ওয়ার্ড কমিশনার এর দায়িত্ব পালন করছেন।
পাকুন্দিয়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাকিবুল আলম ছোটন বলেন, আগে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষ সহজেই সেবা পেতেন। যাদের কে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা নিজের অফিসের নির্ধারিত কাজ শেষ করে পৌরসভার কাজগুলো করতে হয়, অনেক সময় তারা ব্যক্তিগতভাবে অনেক কে চিনেন না এজন্যই উনাদের কাজ করতে সমস্যা হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নেই, মেয়র নেই, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেই। ফলে বিভিন্ন সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মাসুম মিয়া জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একটি কাজের জন্য অনেক সময় একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে।
পাকুন্দিয়া পৌরসভায় সেবা নিতে আসা বরাটিয়ার জাকিয়া আক্তার বলেন, দুই মাস যাবৎ ঘুরতেছি একটা জন্ম নিবন্ধনের জন্য, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা মেয়র না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই। আজও এসেছি অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে জন্ম নিবন্ধন করার জন্য। প্রশাসক হিসেবে (ইউএনও) দায়িত্বে আছেন, কিন্তু তিনি দাপ্তরিক কাজে বাহিরে থাকায় আজও সংশোধন করা যাচ্ছে না জন্ম নিবন্ধনটি।
একাধিক জনপ্রতিনিধি বলেন, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একসঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কঠিন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদের দায়িত্ব যুক্ত হওয়ার পর ইউএনওর কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করার পরও তাকে ভূমি অফিসের ফাইল নিষ্পত্তি করতে হয়। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় বসেও কাজ করতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারটি দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউএনওকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিভিন্ন সরকারি সভা, আইনশৃঙ্খলা সভা, উন্নয়ন সমন্বয় সভাসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। ফলে সব দপ্তরে সমান গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে জনসেবায়।
এ বিষয়ে ইউএনও রুপম দাস বলেন, প্রতিদিন আমি আমার নিজের অফিস শেষে বাংলো অফিসে রাত ৯ টা দশটা পর্যন্ত কাজ করেছি। তারপরেও ইউএনও হিসেবে অনেক কাজ করতে গেলেও অনেক কাজ থাকে যেমন জেলা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা মিটিং বিভিন্ন সরকারি প্রোগ্রাম ভ্রাম্যমাণ আদালত সহ অনেক কাজ করতে হয়। সব মিলিয়ে এক সাথে চারটা দায়িত্ব পালন করা অনেক কঠিন। আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সেবা দেওয়া তার সর্বোচ্চটা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, নতুন সরকারি কমিশনার (ভূমি) কবে যোগদান করে তা জানা নেই। সরকারি কমিশনার (ভূমি) থাকলে অত্যান্ত ভালো হতো।




