
মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় নিহত সেই বৃদ্ধ মো. এছাহাক সরদার(৭৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামী মোঃ তুহিন মোল্লাকে(২৫) পলাতক অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া তুহিন মোল্লা পৌর এলাকার উত্তর জনারদন্দি গ্রামের জালাল মোল্লার ছেলে।
গ্রেফতার শেষে তাকে আজ রোববার দুপুরে মাদারীপুর জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ। মামলা ও নিহতের পরিবার জানায়, পৌরসভার উত্তর জনারদন্দী গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এছাহাকের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন পূর্বশত্রুতা চলছিল। গত ২২ আগস্ট রাতে এছাহাক মোল্লা একা পাশের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পথে ওতপেতে থাকা ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে মোঃ তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লা, রবিউল মোল্লা, লিমন মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন মিলে এছাহাকের পথরোধ করে।
এরপর তারা অতর্কিতভাবে এছাহাক সরদারকে কুপিয়ে জখম করে দুই পায়ের রগ কেটে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। এ মামলার প্রধান আসামী তুহিন মোল্লাকে রাজধানী ঢাকা থেকে পলাতক অবস্থায় গ্রেফতার করে পুলিশ।
নিহতের ভাতিজা রাসেল সরদার জানান, আমার চাচা এছাহাক সরদারকে একা পেয়ে ঝালু মোল্লা ও তার লোকজন কুপিয় জখম শেষে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে করে হাসপাতাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরের দিন ২৩ আগস্ট পুনরায় ঝালু মোল্লার নেতৃত্বে দেলোয়ার হাওলাদারসহ বেশ কয়েজন বৃদ্ধ এছাহাকের বাড়ির সামনে দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুটি বসতঘর ভাঙচুর করে।
তাদের বাধা দিলে জাহিদ খান, রাজিব সরদার, নাজমুল বেপারী আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঝালু মোল্লাকে এলাকায় বা ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, এছাহাক হত্যা মামলার প্রধান আসামী তুহিন মোল্লাকে পলাতক অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।




