
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চাঞ্চল্যকর ফারহানা ইয়াসমিন তমা (১৮) হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত তমার সাবেক স্বামীসহ দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। নিহত ফারহানা ইয়াসমিন তমা ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।
ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারহানা ইয়াসমিন তমা ভেড়ামারার ফকিরারবাদ গ্রামের তোজাম্মেল হকের মেয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকালে তমা গোলাপনগর বাজারের একটি বিউটি পার্লারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার আউড়ের বিলের মোড় এলাকায় রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়। তমাকে প্রথমে স্থানীয় বাজার ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
১৯শে সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তমার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ও ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং নিবিড় তদন্তের পর পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং এজাহারনামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—তমার সাবেক স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (২৮) এবং তাদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার মধ্যস্থতাকারী রাসেল আলী (৩০)।
পুলিশি তদন্তে আরো জানা যায়, ৩ মাস পূর্বে আবু বকর সিদ্দিকের সাথে তমার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য রাসেল আলী মধ্যস্থতা করতে আসেন এবং একপর্যায়ে রাসেলের সাথে তমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাতে রাসেলের ডাকে সাড়া দিয়ে তমা ফকিরারবাদ বাজারে দেখা করতে যান। পরে রাসেলের মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় আউড়ের বিলের মোড়ে তমা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী রাসেল তাকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, ভিকটিমকে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হতে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।




