
জীববৈচিত্র রক্ষা ও পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চান্দহর নদীর কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার চান্দহর নদীর কয়েক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে কচুরিপানার স্তূপ জমে নৌযান চলাচলে অচলাবস্থা তৈরি হয়। নদীর নাব্যতা কমে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক পানির প্রবাহ। এতে একদিকে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দেয়। ক্ষতির সম্মুখীন হন স্থানীয় কৃষক শ্রমিক ও মৎসজীবিরা। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে নদীর পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও আসন্ন চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন ও দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কচুরিপানা অপসারণের জন্য সাড়ে ছয় লাখ ব্যায়ে কেনা হয় আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির মেশিন।
নদীর কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম উপলক্ষ্যে সোমবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শান্ত বলেন, আমি ২০০৬ সালে এমপি হয়ে চান্দহর নদীকে অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। অভয়ারণ্য হলো-যেখানে বন্যপ্রাণীরা মানুষের কোনো রকম বাধা বা শিকারের ভয় ছাড়া স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে। অভয়ারণ্যে বন্যপ্রাণী হত্যা, শিকার বা ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি। এবং সেখানে প্রাণীদের আজীবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে সেটা করা সম্ভব হয়নি। আগামীতে চান্দহর নদীকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বর্তমান নদীর ওপর যে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে সেটার জন্যও আমি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার দিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চান্দহর নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার জন্য জেলে সম্প্রদায় ও স্থানীয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি করার নির্দেশ দেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুন্নাহার, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আল-আমিন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: কিশোর আহমেদ ও উপজেলা প্রকৌশলী মো: গোলাম সামদানী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আজিবর হোসেন, আজিজুল ইসলাম টিক্কা, আরশাদ মুন্সি ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমূখ।
অনুষ্ঠান শেষে মেশিনের মাধ্যমে নদীর কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।
স্থানীয়রা জানান, কচুরিপানার স্তুপের কারণে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নানাবিধ সমস্যা ও ভোগান্তির শিকার হন স্থানীয় মানুষজন। এলাকাবাসী কচুরিপানা অপসারণের জন্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে কচুরিপানা অপসারণের এগিয়ে আসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন। নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছিলাম। আজ আমজাদ হোসেনের এই উদ্যোগক স্বাগত জানিয়ে আমরা স্বেচ্ছায় কচুরিপানা অপসারণ কাজে নেমেছি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, চান্দহর নদীতে কচুরিপানার স্তুপ জমে থাকার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণ নানাবিধ সমস্যা ও ভোগান্তি পোহাচ্ছিল। সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত'র অনুপ্রেরণা ও পরামর্শক্রমে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় ও স্বেচ্ছাশ্রমে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবই আমার মূল লক্ষ্য। সরকারি বরাদ্দের আশা না করে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে নদীর কচুরিপানা অপসারণ করছি। যতদিন নদী কচুরিপানা মুক্ত না হয়, ততদিন আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে।




