
ময়লার ভাগাড় অপসারণ করতে গিয়ে চলন্ত এক্সকাভেটরের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৭০ বছরের দিনমজুর মাজু মুন্সির। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে এখন অসহায় তার ১২ বছরের একমাত্র কন্যা সুরাইয়া। বাবাকে হারিয়ে এক মুহূর্তেই যেন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শিশুটির ভবিষ্যৎ।
তবে এই কঠিন সময়ে সুরাইয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে শ্রীপুর পৌরসভা। নিহত মাজু মুন্সির একমাত্র কন্যা সুরাইয়ার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার গরুহাট মাঠ এলাকায় ময়লার ভাগাড় অপসারণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাজু মুন্সিকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মাজু মুন্সি শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় হাতেম আলী আকন্দের বাড়ির পাশে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। জীবিকার তাগিদে তিনি দিনমজুরি করতেন। স্ত্রী না থাকায় ১২ বছরের কন্যা সুরাইয়াকে নিয়েই ছিল তার সংসার। মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়েই ছিল তার সব স্বপ্ন।
পৌরসভা সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তার ও উৎপত্তিস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে শ্রীপুর পৌরসভা পূর্বঘোষিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু করে। এর অংশ হিসেবে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও ভাগাড় অপসারণের কাজ চলছিল। শনিবার সকালে গরুহাট মাঠ এলাকার ময়লার ভাগাড়ও অপসারণ শুরু হয়।
এ সময় ময়লা অপসারণের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাজু মুন্সির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান।
দুর্ঘটনার পর পৌরসভার কর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পৌর প্রশাসকসহ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নিহতের মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে পৌরসভার সহযোগিতায় তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় পাঠানো হয়।
এদিকে বাবাকে হারিয়ে ১২ বছরের সুরাইয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-তার ভবিষ্যৎ কী হবে? যে বাবা দিনমজুরি করে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতেন, সেই বাবাই আর নেই। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে শিশুটির জীবন যেন হঠাৎ করেই থমকে গেছে।
এই অবস্থায় সুরাইয়ার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীপুর পৌরসভা। পৌরসভার প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া জানান, নিহত মাজু মুন্সির একমাত্র কন্যা সুরাইয়ার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব পৌরসভা নেবে।
পৌর প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সময় শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি।




