
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ও পৌর যুবদলের সদ্য দুই বহিষ্কৃত নেতাকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমপি দুই নেতাকে উপজেলা ও পৌর যুবদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দিতে শোনা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফেসবুক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন এবং পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পেশিশক্তি প্রদর্শন, সহযোদ্ধাকে রক্তাক্ত করা ও বিভিন্ন অনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত দুই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর এক সপ্তাহর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর নাঙ্গলকোটের সব ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। ওই সভার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এমপি আবদুল মমিনকে উপজেলা যুবদল এবং নুর আহমদকে পৌর যুবদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করতে শোনা যায়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত দুই নেতাকে কীভাবে আবার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলো। তাঁদের ভাষ্য, যুবদলের কমিটি গঠন বা কাউকে পদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সাংগঠনিক নিয়মের মাধ্যমে হওয়ার কথা। তাদের প্রশ্ন একজন এমপি কীভাবে কেন্দ্রীয় কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করতে পারে?
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীদের গ্রুপিংয়ের কারণে যুবদলের সব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ওই বিলুপ্ত কমিটির দুই সদস্যকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এমপির বহিষ্কৃত দুই নেতাকে নিয়ে সভাপতি ঘোষণা দেওয়ার ভিডিওটি দেখেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কয়েকটি স্ক্রিনশটও আছে। তাঁরা তো বর্তমানে কোনো কমিটিতেই নেই।
এ বিষয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার ভাষ্য, তারা আমার সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। তারা দলের জন্য সব সময় কাজ করেছে। আমি তাদের এই বহিষ্কার মানি না। তাই তাদেরকে সভাপতি ঘোষণা করেছি। আমি ক্লিয়ার করে দিয়েছি—যেখানে বহিষ্কার, সেখানেই আবিষ্কার।
কেন্দ্রীয় যুবদলের বহিষ্কারাদেশের পরও দুই নেতাকে নিয়ে স্থানীয় এমপির এমন বক্তব্যে নাঙ্গলকোটের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য :- নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া হাইস্কুল গেট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। গত ১৩ আগস্টের ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী। হামলায় আহত ব্যক্তিরা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার অনুসারী বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ওই দিন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিলে আবদুল মমিন ও তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। এ ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় যুবদল আবদুল মমিন ও নুর আহমদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।




