
মৌলভীবাজারের রাজনগরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রবীণদের অধিকার মর্যাদা স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ কে এম মুক্তাদির বিল্লাহ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন শাহা তাহমিনা বেগম ও সাংবাদিক জুয়েল আহমদসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত তাঁদের অভিজ্ঞতা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সমাজের জন্য মূল্যবান সম্পদ। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের প্রতি দায়িত্ব আরও বাড়ে। প্রবীণদের যথাযথ সম্মান নিরাপদ জীবনযাপন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রবীণদের অনেকেই বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হন। তাঁদের একাকিত্ব দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারিবারিকভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রবীণদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞানকে নতুন প্রজন্মের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা সাংবাদিক জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দিবসটির কর্মসূচিতে প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।



