
বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে হাজির হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। আদালতে হাজিরার আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পুনরায় ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার কথা রয়েছে।
তানভীরের আইনজীবী ও এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, তার মক্কেল গুরুতর অসুস্থ। কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী দাবি করেন, একটি প্রকাশ্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তানভীরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিমান্ডে নেওয়া ও কারাগারে থাকার সময় তানভীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে আইনজীবীর এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলার নথি ও আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মণিপুরীপাড়া এলাকা থেকে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই তাকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ১০ আগস্ট আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আইনজীবীর ভাষ্য, রিমান্ড ও কারাগারে থাকার সময় ব্রেন স্ট্রোক, প্যানিক ডিজঅর্ডার এবং সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তানভীরের অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে গুরুতর অসুস্থ একজন আসামিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালতে হাজির করার ঘটনা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করে। তানভীরের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ এবং আইনজীবীর পক্ষ থেকে করা নির্যাতনের দাবিগুলো পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




