
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের রাণীরহাট বন্দরে একটি যানবাহন সার্ভিসিং সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ব্যবসায়ী ফরহাদ আলম শাহের স্ত্রী বেলী বেগম ও ছেলে মাহিমুর রহমান বিভোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাণীরহাট বন্দরের একটি মসজিদের উত্তর পাশে ফরহাদ আলম শাহের মালিকানাধীন সার্ভিসিং সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বেলী বেগম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আশেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুর রহমান আকাশ, মো. আতিক, মো. আরাফাত রহমান, মো. রাশেদ ও মো. সিহাব উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে আসামিরা একটি হাইস মাইক্রোবাসে করে সার্ভিসিং সেন্টারে যান। সেখানে ব্যবসায়ী ফরহাদ আলম শাহকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে একটি ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে রাখা হয়।
এ সময় তাঁর ছেলে মাহিমুর রহমান বিভোর বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা লোহার রড, হকিস্টিক ও এসএস পাইপ দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বেলী বেগম গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর বাম চোখের ওপর ও মাথায় লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। একই ঘটনায় সার্ভিসিং সেন্টারের ভাড়াটিয়া মো. মিজানও আহত হন।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। এ সময় সার্ভিসিং সেন্টারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মালামাল ভাঙচুর করা হয়, এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী দাবি করেছেন।
এ ছাড়া বেলী বেগমের গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন এবং কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আহতদের রক্ষা করতে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তাঁদেরও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা একটি মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলী বেগমের মাথায় গুরুতর জখমের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাদী বেলী বেগমের দাবি, আসামিদের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আশিক ইকবাল বলেন, উক্ত ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।




