ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

গাংনীতে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৪১২, নমুনা সংগ্রহ ৭২ জনের  

মজনুর রহমান আকাশ, গাংনী(মেহেরপুর)

  ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৩ পিএম

এক বা দুই বছর নয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ চলছে মেহেরপুরের গাংনীতে। কখনো আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে, আবার কখনো তা বেড়েছে কয়েক গুণ। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭৯৩ জন, পরের বছর ৬৮৬ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত ছিলেন আরও ৬৩৭ জন।চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১২ জনে। বছরের শেষ তিন মাস বাকি থাকতেই চার শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় রোগটির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

গাংনীতে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের ধরন, জীবাণুর বৈশিষ্ট্য ও দ্রুত শনাক্তের পদ্ধতি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আক্রান্ত রোগীদের রক্ত ও ক্ষত থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭২ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ টিম। পাশাপাশি ২০০টি নমুনা সংগ্রহ করে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তে আরডিটি নিয়ে একটি সার্ভেও চালানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অনুসন্ধানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশে বিদ্যমান তিন ধরনের অ্যানথ্রাক্সের মধ্যে গাংনীতে কোন ধরনের সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, তা নির্ণয় করা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রোগীদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আইইডিসিআরের টিমটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. আরিফ। তার সঙ্গে রয়েছেন টেকনিশিয়ান আব্দুল গাফফারসহ আরও দুই সদস্য। তবে গাংনীতে কাজ করা তিন সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে গাইবান্ধায় পাঠানো হয়েছে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সেখানে চার থেকে পাঁচ দিনের কাজ শেষ করে তাঁরা আবার মেহেরপুরে ফিরবেন।

তবে আইইডিসিআরের এই অনুসন্ধানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯৯ জন। ২০১৪ সালে ২০৩, ২০১৫ সালে ১৫৪, ২০১৬ সালে ২৪০, ২০১৭ সালে ২৮১, ২০১৮ সালে ৪০৮, ২০১৯ সালে ৬৬০, ২০২০ সালে ৩৭৮, ২০২১ সালে ৪১৭, ২০২২ সালে ৬৪৪, ২০২৩ সালে ৭৯৩ এবং ২০২৪ সালে ৬৮৬ জন আক্রান্ত হন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত ছিলেন আরও ৬৩৭ জন।

অর্থাৎ বছরের পর বছর আক্রান্তের সংখ্যা ওঠানামা করলেও গাংনী থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং কয়েকটি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছয় থেকে সাত শ ছাড়িয়েছে। এবারও সেপ্টেম্বরেই আক্রান্তের সংখ্যা চার শতাধিক।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ রোগাক্রান্ত গরু-ছাগলের মাংস কাটাকাটি বা নাড়াচাড়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে গবাদিপশুতে অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি, আক্রান্ত পশু জবাই এবং সেই পশুর মাংস বা দেহজাত পদার্থ মানুষের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি সংক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে সামনে এসেছে।

মেহেরপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামাম উল হক বলেন, অ্যানথ্রাক্স মূলত তিন ধরনের হলেও মেহেরপুর জেলায় বর্তমানে শুধু কিউটেনিয়াস বা ত্বকের অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণই দেখা যাচ্ছে। এটি কিছুটা স্বস্তির বিষয়। নিকট অতীতে মেহেরপুরে আক্রান্ত রোগীদের কারও ফুসফুস বা অন্ত্রনালিতে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

তবে চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। ডা. ইনজামাম আরো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম্য চিকিৎসকেরা সাধারণ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন। এতে আক্রান্ত রোগীদের তথ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ আগে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত ওষুধের তথ্য অনুসরণ করে নিজেরাই চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তার ভাষায়, অ্যানথ্রাক্সের ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, সংক্রমণের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ এবং মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। তাই অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগীর তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে পৌঁছানো জরুরি।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, তিন ধরনের অ্যানথ্রাক্স হয়ে থাকে। এর মধ্যে এ এলাকায় কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। সমন্বিত কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি জানান, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পশুসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গবাদিপশুর সংখ্যা ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৪০০। এর মধ্যে গরু ৩ লাখ ৭৩ হাজার, মহিষ ১ হাজার ৪০০, ছাগল ৬ লাখ ৭১ হাজার এবং ভেড়া ২৯ হাজার।

এই বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে চলতি অর্থবছরে ২৪ হাজার ডোজ এবং গত অর্থবছরে ৭৮ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ছোট জেলা হওয়ায় মেহেরপুরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টিকার বরাদ্দ তুলনামূলক কম। তবে গাংনীকে অ্যানথ্রাক্সপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার পর গত বছর মেহেরপুর জেলার ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকার বরাদ্দ এসেছিল।

মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করছে। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বা সন্দেহজনক গবাদিপশু জবাই না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানো এবং আক্রান্ত পশুর মাংস স্পর্শ ও নাড়াচাড়া থেকে বিরত থাকতে গবাদিপশু পালনকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এর জীবাণু স্পোর তৈরি করে, যা মাটি, পানি ও পরিবেশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। দূষিত মাটি বা ঘাসের মাধ্যমে গবাদিপশু আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস, চামড়া, হাড় কিংবা অন্যান্য দেহজাত পদার্থের সংস্পর্শে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে আক্রান্ত পশু জবাই, মাংস কাটা, চামড়া ছাড়ানো বা মৃতদেহ নাড়াচাড়ার সময় ঝুঁকি বাড়ে।

মেহেরপুরে বর্তমানে যে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে প্রথমে চুলকানি বা ছোট ক্ষত দেখা দিতে পারে। পরে ক্ষতস্থানে কালো অংশসহ ঘা এবং আশপাশে ফোলা হতে পারে। অন্যদিকে খাবারের মাধ্যমে অন্ত্রনালির এবং শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসীয় অ্যানথ্রাক্স হতে পারে, যা গুরুতর।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হঠাৎ মারা যাওয়া বা অ্যানথ্রাক্স সন্দেহযুক্ত পশু জবাই কিংবা খাওয়া যাবে না। মৃত পশুর চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটা বা দেহ খোলা থেকেও বিরত থাকতে হবে। মৃতদেহ খোলা জায়গায় ফেলে রাখা বা কেটে টুকরা না করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদে নিষ্পত্তি করতে হবে। আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস, চামড়া বা অন্যান্য দেহজাত পদার্থ স্পর্শ করার প্রয়োজন হলে গ্লাভস, মাস্ক ও সুরক্ষাবস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি পরে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

অ্যানথ্রাক্স অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসাযোগ্য হলেও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত বা সন্দেহজনক পশুর সংস্পর্শের পর ত্বকে অস্বাভাবিক কালো ঘা, দ্রুত ফোলা, জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
মেহেরপুরের গাংনীর রংমহল সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিরোধ বিজিবির
গাংনীতে তিনটি মেছো বাঘের শাবক উদ্ধার
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গাংনীতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
গাংনীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩
X