
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের বজ্রকণ্ঠ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি-সম্পাদক, পাঁচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা আনসার কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, যানজট নিরসন, পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পূজামণ্ডপের আশপাশের সড়কে দোকানপাট বা মেলা বসানো যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে দুই শিফটে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত জেনারেটর ও এসি-ডিসি বাতির ব্যবস্থা, রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার মোট ৮৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৮৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় ৩টি, পাটগাতী ইউনিয়নে ১১টি, ডুমুরিয়া ইউনিয়নে ২০টি, গোপালপুর ইউনিয়নে ৪৭টি, কুশলী ইউনিয়নে ৪টি এবং বর্ণী ইউনিয়নে ৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে।
উপজেলা আনসার কর্মকর্তা সালমা আক্তার জানান, উপজেলার ৮৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মোট ৫৫৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১০টি পূজামণ্ডপে আটজন করে মোট ৮০ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশের তিনটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি ১৬টি কেন্দ্রে ১৬ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শুকদেব মণ্ডল ও সম্পাদক দুলাল চন্দ্র সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে পূজা উদযাপনের সুযোগ করে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।




