
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া লস্কর গ্রামের ঐতিহাসিক খানবাড়ি জামে মসজিদ। প্রায় ৪১৮ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য এই নিদর্শন। মসজিদের দেয়ালে প্রাচীন কারুকাজ, এক গম্বুজের নির্মাণশৈলী ও চুন-সুরকির গাঁথুনি আজও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলা ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে প্রাচীন স্থাপনাটি। ঐতিহাসিক এই নিদর্শন সংরক্ষণে দ্রুত সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ ও একজন সরকারি খাদেম নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত খানবাড়ি জামে মসজিদ। মসজিদের দরজায় খোদাই করা শিলালিপিতে হিজরি ১০১৬ ও ইংরেজি ১৬০৮ সালের উল্লেখ রয়েছে। সেই হিসাবে মসজিদটির ইতিহাস প্রায় চার শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। স্থানীয় ইতিহাস ও প্রবীণদের বর্ণনায়, স্থাপনাটির সঙ্গে বাংলার নবাবি আমলের নানা ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে।
মসজিদের মূল ভবনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট করে। দেয়ালের গাঁথুনি প্রায় চার ফুট পুরু। চুন-সুরকির নির্মাণশৈলী, ভেতরের মেহরাব, ফুল ও ফুলদানির নকশাসহ বিভিন্ন কারুকাজে ফুটে উঠেছে তৎকালীন স্থাপত্যশিল্পের নিপুণতা। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের নির্মাণশৈলী প্রাচীন স্থাপত্যের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বহন করছে।
মসজিদের মূল ভবনের ভেতরে একসঙ্গে ইমাম ছাড়া প্রায় ৩০ জন মুসল্লি তিন কাতারে নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ছাড়া বারান্দায়ও নামাজ পড়েন মুসল্লিরা। ছোট পরিসরের এই মসজিদটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ফজলুল করিম বলেন, একসময় মসজিদটির দেখভালের জন্য সরকারি খাদেম নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থা না থাকায় নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করা হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় মুসুল্লী একাব্বর আলী বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে প্রাচীন এই স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মসজিদটির মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত সংস্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ, একজন সরকারি খাদেম নিয়োগ এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এর পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন বলেন, “প্রাচীন এই মসজিদটির দেখভাল, সংরক্ষণ ও সংস্কারের মূল দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ভঙ্গুর অবস্থা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হবে।”



