
দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক জনপদ বৃহত্তর দোহাজারীকে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু’ নামে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ে এবার অনশন, মশাল মিছিল এবং মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ‘বৃহত্তর দোহাজারীর সর্বস্তরের জনসাধারণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিশাল মানববন্ধনে দোহাজারীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধনটি গণদাবির সমাবেশে রূপ নেয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে দোহাজারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এতে এ অঞ্চলের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নিকার (NICAR)-এর অনুমোদনসাপেক্ষে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ বাস্তবায়নের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি আদায়ে পর্যায়ক্রমে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি ও কালো পতাকা মিছিল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ অবরোধের পাশাপাশি আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন স্থানীয় জনগণ। তবে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হবে দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি আদায় এবং দোহাজারী অঞ্চলের প্রশাসনিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
২০১৮ সালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ
আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ‘দোহাজারী-সাঙ্গু’ নামে নতুন থানা গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। বর্তমানে দোহাজারী আধুনিক শহর ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হলেও প্রস্তাবিত থানা কিংবা উপজেলা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো ঝুলে রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা একটি চিঠিতে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়ি ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।
এ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, দোহাজারী পৌরসভা ও ধোপাছড়িকে অন্তর্ভুক্ত না করে বিকল্পভাবে উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা বৃহত্তর দোহাজারীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মতি ও নির্দেশনার আলোকে প্রস্তাবিত ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দীর্ঘদিনের জনদাবিকে উপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট সব এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ‘দোহাজারী-সাঙ্গু উপজেলা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।




