
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজার দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে শুভ মহালয়া উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পৌরাণিক ধর্মীয় নাটক ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তারুণ্যের আলো নাট্যগোষ্ঠী’র পরিবেশনাশ শনিবার রাতে পৌর শহরের সাধুপাড়া মিলন সংঘ মন্দির চত্বরে এই নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনন্দ-আবহ তৈরি করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নাটক পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শুরু হতেই মন্দির চত্বর ও এর চারপাশের এলাকা দর্শক ও ভক্তদের সমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নাটকটি উপভোগ করতে সাধুপাড়া মিলন সংঘ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।
সনাতন ধর্মের মূল পুরাণ ও শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মূলভাবের আদলে নির্মিত এই নাটকে তুলে ধরা হয় স্বর্গীয় শান্তি বিনষ্টকারী মহিষাসুরের চরম অত্যাচার, দেবগণের অসহায়ত্ব ও ব্যাকুল আকুল প্রার্থনা। পরবর্তীতে পরমেশ্বরী মহামায়া দেবী দুর্গার স্বর্গীয় আবাহন ও অলৌকিক শক্তিরূপে আবির্ভূত হওয়ার দৃশ্যসমূহ জীবন্ত হয়ে ওঠে দক্ষ অভিনয়শিল্পীদের নৈপুণ্যে। দেবী দুর্গা ও মহিষাসুরের রণক্ষেত্রের চরম দৃশ্য এবং চূড়ান্তপর্যায়ে মহিষাসুর বধের মাধ্যমে পৃথিবীতে আবার শান্তি, ন্যায় ও সত্যের পুর্নপ্রতিষ্ঠার কাহিনি নাটকটিতে অত্যন্ত আবেগঘন ও প্রাণবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমন ঘটে এবং অশুভ ও বিনাশকারী শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তির সূচনা হয়। এই নাটকের মূল উদ্দেশ্য হলো পৌরাণিক ইতিহাস ও সনাতন সংস্কৃতির আধ্যাত্মিক বার্তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সমাজের সকল অন্যায়-অশুভকে দূরে ঠেলে দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।




