ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শেষ মূহুর্তে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শেষ মূহুর্তে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। জেলায় এবার ৬২৮ টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়য় মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরীর শেষ মূহুর্তের কাজ।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মাটির কাজ শেষ করে এখন চলছে সাজসজ্জার কাজ। রঙের আঁচড়ে দেবী দুর্গাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বর্ণিল সাজে। পূজা ঘনিয়ে আসায় এখন রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা। প্রতিটি প্রতিমাকে রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে রাঙাতে ব্যস্ত শিল্পীরা। চলছে সাজ-সজ্জার কাজও।

দেবী দুর্গার সাথে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী আর সরস্বতী দেবীকেও। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই মৃৎশিল্পীদের। পুরুষদের কাজে সাহায্য করছে বাড়ির নারীরাও।

এদিকে ভক্তরা দোবী দুর্গার রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করার জন্যে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। তারা বলছেন মায়ের আগমনের ক্ষণকালে ভক্তরা সকলেই পুলকিত। ভক্তদের মনে লেগেছে আনন্দের দৌলা।

জেলা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তুলি সাহা ও রিপন শীল জানান, মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই বেশ খুশি। পরিবারের সকলের জন্য কেনাকাটা করেছি। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো।
জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা ইন্দ্র বনিক ও অয়ন বিশ্বাস বলেন, আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি কখন আসবে মাহেন্দ্রক্ষণ। মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো। এবার জগৎ জননী মায়ের কাছে দেশের জন্য দশের জন্য প্রার্থনা করবো মা যেন সকলকে রোগশোক থেকে আমাদের মুক্ত রাখে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্বপাইক পাড়া গগনসাহা বাড়ি রোড সার্ব্বজনীন দূর্গা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার সাহা জানান, এ বছর মায়ের আগমনে আমরা অনেকটাই পুলকিত। ইতোমধ্যে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ডপে প্রতিমা আনা হয়েছে। সাজ শয্যার কাজ চলছে। এখন অপেক্ষা ক্ষণকাল গননা করা। আমরা পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাড়া প্রতিবেশীসহ পূজা কমিটির সকলকে সাথে নিয়ে মায়ের রাতুল চরণে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবো।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের মৃৎশিল্পী বরেন পাল জানান, দুর্গাপূজার আর মাত্র কযেক দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে আমরা প্রতিমার গায়ের সাজশয্যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। কেননা প্রত্যেকের হাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তুলে দিতে হবে। তারা প্রতিমা নিয়ে নিজ-নিজ এলাকায় মন্ডপে স্থাপন করবেন। সেজন্য নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি।

একই কথা জানান মলাই চন্দ্র পাল নামে অপর এক মৃৎশিল্পী। তিনি জানান, কাজ শেষ হতে এখনও বাকি আছে। যার কারণে অনেক ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। তবে শেষ সময়ের আগেই কাজ সমাপ্ত করে পূজারীদের হাতে প্রতিমা তুলে দেবো। সেজন্য রাতদিন কাজ করছি। তিনি বলেন গতবার ৩৫ টি প্রতিমা বানিয়ে ছিলাম। এবার ৪৬ প্রতিমা বানাচ্ছি। ভক্তদের পক্ষ থেকে তারা আছে। তাই যত দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে চেষ্টা করছি।

জেলা শহরের কান্দিপাড়া রঘুনাথ জিউর আখড়ার প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, এ বছর ১৮ টি মূর্তির অর্ডার পেয়েছিলাম। শেষ মূহুর্তে এখন দম পেলার সময় পাচ্ছি না। কারন সময় মত সকলের কাজ শেষ করতে হবে। এ বছর সর্বনিম্ন ৫০ হাজার এবং সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকায় মূর্তি অর্ডার নেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন বলেন, এবছর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারবো। পূজায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্হা জোড়দার করা হবে। গত ৩০ অক্টোবর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে বৈঠক হয়েছে।

যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে।

তিনি আরো জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেলায় এবছর জেলার ৯ টি উপজেলায় মোট ৬২৮টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছর সংখ্যা ছিল ৫৭৮টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের চেয়ে এ বছর মন্ডপ বেড়েছে ৫০টি। ৬২৮টি মন্ডপের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৮৫টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১৪২টি, নবীনগর উপজেলায় ১৩২টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৬৪টি, সরাইল উপজেলায় ৫৬টি, কসবা উপজেলায় ৫৬টি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪৬টি, আখাউড়া উপজেলায় ২৯টি ও আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি মন্ডপ রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের নিয়মিত টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশের টহল দলও দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজা পালন করে হবে। আগামী ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের তৎপরতা
দুর্গাপূজায় নাশকতার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা, যশোর-নড়াইলে এসআরবি-৬-এর নজরদারি
শারদীয় দুর্গোৎসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০০ নারীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার 
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর এসআরবি-৮
X