কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের অন্যতম বৃহৎ করপোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি উন্মোচন, ‘বিজিএমইএ-বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন’ ও মেগা অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান অতিথি ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর ট্রফি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, সাবেক পরিচালক মো. ইমরানুর রহমান, স্পোর্টস কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ আলী খান এবং সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান সাপুসহ বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিএমইএর পরিচালক ও স্পোর্টস কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ শাহ রাঈদ চৌধুরী বিজিএমইএ ও বাফুফের সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। এ সময় নারী পোশাককর্মীদের নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ওভিসি প্রদর্শন করা হয়। এতে পোশাককর্মীদের কর্মদক্ষতার পাশাপাশি সবুজ মাঠে তাদের ফুটবল নৈপুণ্য তুলে ধরা হয়।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই নতুন করে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের টুর্নামেন্ট তাদের সঙ্গে শিল্পের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।
তিনি ঢাকার পরিত্যক্ত মাঠগুলোর মধ্য থেকে একটি মাঠ বিজিএমইএকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। মাঠ বরাদ্দ পেলে করপোরেট স্পন্সরদের সহায়তায় বিজিএমইএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেগুলোর আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে বলেও জানান তিনি।
বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম বলেন, বিজিএমইএ একটি সুসংগঠিত পরিবার। যৌথভাবে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাণিজ্য সংগঠন হলেও বিজিএমইএ বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। ঢাকার অভ্যন্তরে উপযুক্ত মাঠ পাওয়া গেলে বিজিএমইএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেগুলোর উন্নয়ন ও দেখভাল করবে।
তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ যুক্ত করার কাজ চলছে। অচিরেই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর কারিকুলামেও এটি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বিগত ৫৬ বছরে ক্রীড়াঙ্গনকে যেভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে গড়ে তোলা উচিত ছিল, তা হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ক্রীড়াঙ্গনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালুর পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার উত্তরা তৃতীয় ফেজ এলাকায় একটি মাঠ বরাদ্দের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানের সভাপতির হাতে বিশেষ জার্সি তুলে দেন।
পরে ১৬টি দলের মেগা অকশনের মধ্য দিয়ে আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘বিজিএমইএ কাপ ২০২৬’-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।




