ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কার্যকর কাঠামো তৈরির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের 

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৫ পিএম

মেধাস্বত্ব সুরক্ষার নতুন বাস্তবতা বাংলাদেশের ঔষধ, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি ও অন্যান্য শিল্পখাতে যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তেমনি উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও মূল্য সংযোজনের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্রাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

"এলডিসি-পরবর্তী সময়ে শিল্পখাতের রূপান্তর: মেধাস্বত্ব অধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নির্ধারণ” শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ এ আলোচনায় বক্তারা এলডিসি হতে উত্তরণের পর মেধাস্বত্ব সুরক্ষা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সচিব মোঃ শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট তাসকীন আহমেদ।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পণ্যের মেধাস্বত্বের বিষয়টির গুরুত্ব প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী মেধাস্বত্ব অধিকারের ইকোসিস্টেম একান্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশের ওষুধ, তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সামনের দিনগুলোতে শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়ানোর ওপর নজর না দিয়ে উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি বিনিময় এবং মূল্য সংযোজনের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তবে দেশে মেধাস্বত্ব আইনের বিদ্যমান কাঠামোগত দীর্ঘসূত্রতা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা, প্রয়োজনীয় নীতিমালার অভাব, সীমিত সক্ষমতা এবং সর্বোপরি বেসরকারি খাতে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তাসকীন আহমেদ। একটি আধুনিক ও কার্যকর মেধাস্বত্ব অধিকার বিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইপি ট্রাইব্যুনাল চালু করা, ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশনে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইআরডি সচিব মোঃ শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বা এসএমই খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এ খাতের ওপর আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। ইআরডি সচিব বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তেমনি এসব পণ্যের ডিজাইন ও গুণমান আরও উন্নত করা গেলে তা বহির্বিশ্বে রপ্তানিরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যবহৃত হচ্ছে না। আবার এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নেই—এমন অভিযোগও রয়েছে। তার মানে হলো, সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যা নিরসন করা প্রয়োজন।

ইআরডি সচিব জানান, এসএমই খাতের জন্য সরকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করছে। তবে এ ধরনের বরাদ্দ বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো ও টেকসই উন্নয়ন জরুরি। তিনি আরও বলেন, সরকার এসএসজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে খাতভিত্তিক কারিগরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কার করা হবে। তবে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি সব ধরনের সেবা ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই চালু হবে বলে আশা করা যায়।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এবং ওয়াইপো একাডেমির সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম। তিনি বলেন, এলডিসি-উত্তর যুগে বাংলাদেশের শিল্পখাতকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মেধাস্বত্ব অধিকার বা আইপিআরকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ওষুধ, সফটওয়্যার ও আইটি, কৃষি, ও শিল্প-নকশাসহ বিভিন্ন খাতে ট্রিপস্ ও সম্ভাব্য ট্রিপস্-প্লাস বাধ্যবাধকতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এগুলো উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও শিল্পের রূপান্তরের সুযোগও তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইপিআর সংক্রান্ত আইনি নমনীয়তা কাজে লাগানোর পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন, শিল্প-শিক্ষাঙ্গন সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনে প্রণোদনা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে এসএসজিপি’র প্রকল্প পরিচালক ও ইআরডি-এর অতিরিক্ত সচিব এ.এইচ.এম জাহাঙ্গীর বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে আমাদের বেসরকারি খাত। এক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগ, শিল্পখাতের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন একান্ত অপরিহার্য।

এছাড়াও অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, কপিরাইট অফিস বাংলাদেশ-এর রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এস. এম. আরশাদ ইমাম, এসএসজিপি-এর প্রকল্প উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবদুল বাকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ট্রেড সাপোর্ট মেজারস উইং) ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুরেজা এম. মুজারেবা, বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএ-এর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল ড. মোঃ শাহেদুল ইসলাম (অব.), ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক মোঃ আজিজুর রহমান, এফসিএস, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাইসুল কবির এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ফায়েজ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে শিল্পের প্রতিটি খাতের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এ লক্ষ্যে সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যথাযথ উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।

এসএসজিপি-এর প্রকল্প উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আবদুল বাকী বলেন, এলডিসি উত্তরণের বর্ধিত সময়সীমা ভালোভাবে কাজে লাগাতে সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।

মেজর জেনারেল ড. মোঃ শাহেদুল ইসলাম (অব.) বলেন, এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের নিজস্ব মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ ও উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা সহায়তা প্রদান জরুরি। বিজিএমইএ ইতোমধ্যে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপন করেছে, যেখানে তৈরি পোশাক খাতে নতুন পণ্যের ডিজাইন ও মেধাস্বত্ব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এগ্রোকেমিক্যাল খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে কার্যকর ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করার আহ্বান জানান এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মোস্তাফিজুর রহমান।

রাইসুল কবির বলেন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর প্রাধান্য না দিয়ে শুধুমাত্র আউটসোর্সিংয়ের জন্য কাজ করলে আগামীতে সফল হওয়া যাবে না। তাই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনের ওপর বেশি হারে নজর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় এবং আইপি নিরাপত্তা ও মেধাস্বত্ব আইনের কার্যকর প্রয়োগে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ফায়েজ আহমেদ বলেন, ঔষধ খাতে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে দেশীয় বাজারে আন্তর্জাতিকভাবে মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ করলে ঔষধের দাম বেশ বাড়বে, ফলে দেশের জনগণ ভুক্তভোগী হবে। তাই বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজস্ব পণ্যের ব্র্যান্ড তৈরি, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের ওপর জোরারোপ করেন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক মোঃ আজিজুর রহমান।

নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের জিআই নিবন্ধনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকীকরণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুরেজা এম. মুজারেবা।

ডিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

টেকসই পোশাকশিল্প গড়তে বিজিএমইএর ইএসজি প্ল্যাটফর্ম চালু
বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, পরিবেশগত ও সামাজিক মানদণ্ড পূরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য ‘ইএসজি প্ল্যাটফর্ম’ চালু করেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ পর্যন্ত ৩২৬টি কারখানা এই প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিয়েছে। শিল্পের স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিগগিরই সদস্য কারখানাগুলোর জন্য প্ল্যাটফর্মে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। সোমবার রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে ‘ইএসজি প্ল্যাটফর্ম’ বা ইএসজি ড্যাশবোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।  ইএসজি বলতে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত মানদণ্ডকে বোঝায়। বৈশ্বিক ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গুরুত্ব বাড়তে থাকায় পোশাকশিল্পে এসব মানদণ্ড পূরণ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত চাহিদা ও টেকসই পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারখানাগুলোকে আরও বেশি কমপ্লায়েন্ট ও তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। বিজিএমইএর উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্ম সদস্য কারখানাগুলোর পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৩২৬টি কারখানা প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। শিল্পের সার্বিক স্বার্থে শিগগিরই সদস্য কারখানাগুলোর জন্য তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রয়োজনে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে কাজ করবে।  জ্বালানি খাতে আট মাসে ৪১২ কোটি ডলার ভর্তুকি অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, গত আট মাসে সরকার জ্বালানি খাতে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিয়েছে। আগের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে সক্ষম ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তিনি আরও বলেন, ২০২৯ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশ নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সংস্কার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরাও এ অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।  কমপ্লায়েন্স থেকে টেকসই উন্নয়নে জোর বিজিএমইএর পরিচালক ও ইএসজি প্ল্যাটফর্মের অন্যতম উদ্যোক্তা শেখ হোসাইন মোহাম্মদ মুস্তাফিজ বলেন, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য তৈরি পোশাকশিল্পকে শুধু কমপ্লায়েন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করা। ৩২৬টি কারখানার তথ্য নিয়ে তৈরি প্ল্যাটফর্মটি শিল্পের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য, পুনর্গঠন ও উত্তরণপ্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যকর সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি পোশাকশিল্প। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রচলিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার গণ্ডি পেরিয়ে সাসটেইনেবিলিটির দিকে এগোনো এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী রপ্তানিভিত্তি অপরিহার্য। ইএসজি-সংক্রান্ত তথ্যকে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগে রূপান্তর করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের সাফল্য অর্জন সহজ হবে।  ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান বিজিএমইএর সব সদস্য কারখানাকে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক নাফিস উদ দৌলা এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা। বিজিএমইএর উদ্যোগে চালু হওয়া প্ল্যাটফর্মটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে ডেনমার্ক দূতাবাস। কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং ম্যাপড ইন বাংলাদেশ (এমআইবি)।  
টেকসই পোশাকশিল্প গড়তে বিজিএমইএর ইএসজি প্ল্যাটফর্ম চালু
যে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবার সই করা পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তাঁর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিলের জন্য সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া সুপারিশ ও সম্মতির আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পরিবর্তন ব্যাংক খাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দুই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ কেন বাতিল করা হচ্ছে, চিঠিতে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মশিউর অর্ণব
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পেছানোর বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাড়তি সময়কে প্রস্তুতির কাজে লাগাতে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে সরকার। উত্তরণেরত্ত আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইআরএফ ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। উত্তরণ পেছানোর প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ধাপ বাংলাদেশ পার করেছে। এরপর জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) তিন বছর সময় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও বাংলাদেশের বাড়তি সময় পাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী, সামনের সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে আমরা জিনিসটার একটা নিষ্পত্তি দেখব।’ আগামী ২৪ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি। তিন বছর সময় চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি ছিল না। অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের চেয়ে উত্তরণকে রাজনৈতিকভাবে মহিমান্বিত করার চেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, উত্তরণের সুবিধা কাজে লাগানো এবং সম্ভাব্য অসুবিধা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরিতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বাড়তি সময় পাওয়া গেলে তা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়ে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) বা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাঁর লক্ষ্য, বাংলাদেশের উত্তরণের আগেই আলোচনা শেষ করা। ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতিও একই সঙ্গে চলবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তবে আশা করি জিএসপি প্লাসের অপশনটা আমাদের নিতে হবে না, তার আগেই আমরা এফটিএটা কমপ্লিট করব।’ আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসেপ) যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন প্রক্রিয়াগত কাজ এগোচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং বিরোধের স্বচ্ছ আইনি সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং রপ্তানির জন্য বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব ও প্রাথমিক ছাড়পত্র নেওয়ার পর আমদানি নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা পর্যন্ত গড়ে ৩৫৫ দিন লেগে যায়। এত সময় ব্যয় হলে উদ্যোক্তার উদ্যম ধরে রাখা কঠিন। এ পরিস্থিতি বদলাতে একক অনলাইন পোর্টাল থেকে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও ফি পরিশোধ করে দেশ-বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে লাইসেন্স নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছে ফি পৌঁছে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) সেবা পুরোপুরি অনলাইনে আনা এবং বিভিন্ন লাইসেন্সের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের বদলে সমন্বিত পরিদর্শন চালুর কথাও বলেন তিনি। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রত্যাশা, এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে লাইসেন্স ও অনুমতির জন্য উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয়ের পরিস্থিতি থেকে বের করা সম্ভব হবে। জ্বালানিসংকটকে নতুন বিনিয়োগের বড় বাধা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরবরাহ বাড়াতে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাসকূপ খননে কাজ চলছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতেও সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এলএনজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুতব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে বাংলাদেশ চাপে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য কৌশলগত মজুত ও সংরক্ষণসক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মন্ত্রী। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, ব্যবসা সহজ করা এবং বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকার তৈরির সমন্বিত লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোস্তফা আবিদ খান। ইআরএফ-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএসএম মঈনুল হক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
মশিউর অর্ণব
ব্যবসা করতে তরুণদের ২০ লাখ টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেভাবে করবেন আবেদন
তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কর্মসূচিতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের ৫৬ জেলার সব উপজেলায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আগ্রহীরা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কর্মসূচির আওতায় সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা চিহ্নিত করে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে আট জেলায় ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার ৬৪টি উপজেলায় আবেদন নেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৩৫১টি আবেদন পড়েছে নেত্রকোণায়। এ উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার ঘটানো। কারা আবেদন করতে পারবেন? আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। যে উপজেলার জন্য আবেদন করবেন, সেই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ব্যবসা করার পরিকল্পনা বা ভালো ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে। আগে থেকে ব্যবসা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ নেওয়া ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এ সুবিধা পাবেন না। আবেদন করবেন যেভাবে ১ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। ফরম পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট www.bb.org.bd এবং এসএমই পোর্টালে www.bb.org.bd/smespd_portal।
মশিউর অর্ণব
পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন, দেখুন
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, নতুন বেতনকাঠামোর বাইরে থাকা যেসব ভাতা মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মচারী চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত থেকে মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে প্রচলিত বিভিন্ন ভাতা পেয়ে থাকেন, পরবর্তী আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ওই ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে। নতুন পে-স্কেলের বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটরে হিসাব করবেন যেভাবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সম্ভাব্য বকেয়া বেতনের পরিমাণ জানতে আগ্রহী সরকারি চাকরিজীবীরা। তাঁদের হিসাব সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক ক্যালকুলেটর। এতে গ্রেড ও মূল বেতনের প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা, বাড়িভাড়া ভাতার সমন্বয় এবং তিন মাসের সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব দেখা যায়। তবে ক্যালকুলেটরে দেওয়া সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই হিসাবের যথার্থতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এসআরও নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বেতন স্লিপ অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতার হারও যাচাই করতে হবে। ক্যালকুলেটরটি সরকারি বেতন নির্ধারণের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নয়। এটি কেবল সম্ভাব্য হিসাব করার সহায়ক উপকরণ। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ব্যক্তিগত তথ্য যেভাবে দেবেন ক্যালকুলেটরে নিজের নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা যাবে। এসব তথ্য তৈরি হওয়া হিসাবের বিবরণীর শুরুতে দেখানো হবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রেখেও হিসাব করা যাবে। বেতনসংক্রান্ত তথ্য পূরণের নিয়ম গ্রেড: ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুন যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন: বেতন স্লিপ অনুযায়ী মূল বেতনের অঙ্ক নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় তা না থাকলে বিকল্প ঘরে অঙ্কটি লিখতে হবে। ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে গৃহীত মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী যে মূল বেতন পেয়েছেন, তা উল্লেখ করতে হবে। কর্মস্থল: বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণের জন্য কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে বেতন স্লিপের সঙ্গে মিলিয়ে হার সংশোধন করা যাবে। বকেয়ার মাস: প্রাথমিকভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের হিসাব নির্ধারিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করা যাবে। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে সংশ্লিষ্ট টিকচিহ্নটি তুলে দিতে হবে। ঐচ্ছিক তথ্য যুক্ত করার পদ্ধতি বেতন স্লিপে উল্লেখিত বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার পরিমাণ ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে প্রকৃত অঙ্কটি নির্দিষ্ট ঘরে দেওয়া যাবে। একইভাবে, আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও যুক্ত করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর দেওয়া অঙ্কের ভিত্তিতে হিসাব করবে। ক্যালকুলেটরে যে হিসাব পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং প্রথম পর্যায়ে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাসিক হিসাবের বিবরণীতে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনের ভিত্তিতে পাওয়া বাড়িভাড়ার সমন্বয় দেখানো হবে। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশের অঙ্কও হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। সতর্কতা: ক্যালকুলেটরে পাওয়া বকেয়া ও ভাতার হিসাবকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন, মূল গেজেট এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার পরই প্রকৃত পাওনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন, দেখুন
আরও পড়ুন
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত অক্টোবরেই আসবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
X