
বর্তমান সরকার উচ্চতর ডিগ্রিধারী তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার দুপুরে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম পরিচালনা ও গবেষণার জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেকেন্ডের মধ্যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য নিখুঁত, উপযুক্ত ও নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব মানুষেরই। এআই দ্রুত গতিতে উত্তর দিতে পারে, কিন্তু সঠিক বিচারবোধই সেটিকে নির্ভরযোগ্য করে তোলে।’ গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি যেন দেশের মানুষ, কৃষক ও কারখানার শ্রমিকদের উপকারে আসে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাকে সাশ্রয়ী করে তোলে, সেই দিকে প্রকৌশলীদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সততা, সামাজিক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আইইউটির মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম। ১৯৭৮ সালে সেনেগালের ডাকারে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরে ৩০ একর জমি দান করেন এবং ১৯৮১ সালের ২৭ মার্চ ইয়াসির আরাফাত ও তৎকালীন ওআইসি মহাসচিব ড. হাবিব চ্যাটিকে সঙ্গে নিয়ে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।’
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আইইউটির এই সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজ। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. হোসেন আরাবি নূরসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথি, কূটনৈতিক, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তনের প্রধান অতিথি গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাদের কৌতূহলী মনোভাব বজায় রাখা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত ছিলেন। তারা গ্র্যাজুয়েটদের সততা বজায় রাখা, আজীবন শেখার মানসিকতা ধারণ করা এবং অর্জিত জ্ঞান সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। সমাবর্তনে ওআইসির ১৬টি সদস্য দেশের মোট ৬৫৯ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫৫ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৯ জন, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৪৭ জন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১২৬ জন, বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে ৫৭ জন এবং টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন বিভাগে ২৫ জন ডিগ্রি অর্জন করেন।




