
ভারতীয় চলচ্চিত্রের বরেণ্য নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও মারা গেছেন। শনিবার রাতে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম উদ্ভাবনী সব সিনেমা পরিচালনার জন্য বিখ্যাত সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও। বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চেন্নাইয়ের কাভেরি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সিঙ্গীতমের নাতি অশ্বিন জানিয়েছেন, রোববার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের এভিএম শ্মশানে এই চলচ্চিত্র নির্মাতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
‘পুষ্পক বিমানম’, ‘টাইম-ট্রাভেল’ বিষয়ক মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘আদিত্য ৩৬৯’-এর মতো সিনেমার জন্য পরিচিত ছিলেন সিঙ্গীতম। ছয় দশকের ক্যারিয়ারে পাঁচটি ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি। বিস্তৃত কর্মজীবনে প্রথা-বহির্ভূত ধারণা, গল্প বলার কৌশল এবং বিভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য একটি স্থান তৈরি করেছিলেন। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৬০টি।
১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুদুরে জন্ম সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাওয়ের। সিনেমায় তার হাতেখড়ি কিংবদন্তি পরিচালক কে ভি রেড্ডির সহকারী হিসেবে। ‘মায়াবাজার’ (১৯৫৭) ও ‘জগদেকা ভীরুনি কথা’-এর (১৯৬১) মতো গুরুত্বপূর্ণ সিনেমার নির্মাণপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার নিজস্ব চলচ্চিত্রভাষা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। ১৯৭২ সালে ‘নীতি নিজায়িতি’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সিঙ্গীতম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সামাজিক গল্প থেকে শুরু করে ব্যতিক্রমী কল্পকাহিনি, প্রতিটি সিনেমায় নতুন কিছু করার চেষ্টা ছিল তার।
১৯৭৪ সালে সিঙ্গীতম নির্মাণ করেন ‘দিক্কাত্র পার্বতী’। সিনেমাটি তামিল ভাষার সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। ১৯৭৭ সালের ‘থারাম মারিন্দি’ ও সিঙ্গীতমকে এনে দেয় নান্দী পুরস্কার। ১৯৮৫ সালের ‘ময়ুরি’ ছিল সিঙ্গীতমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ। ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রনের জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমায় সুধাই অভিনয় করেছিলেন। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। কেবল তাই নয়, একাধিক পুরস্কারও অর্জন করে এটি। পরে এটি ‘নাচে ময়ুরি’ নামে হিন্দিতে নির্মিত হয়।




