ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেলেন মৌসুমী, খুলল দেশে আসার দরজা

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩২ পিএম
চিত্রনায়িকা মৌসুমী

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবরটি নিজেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-পরবর্তী একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে এ আনন্দের খবর ভাগ করে নেন তিনি। তার ভক্তরা জানান এবার তার দেশে আসার দরজা খুললো। তিনি হয়তো খুব দ্রুত দেশে আসবেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মৌসুমী। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। মেয়ে ফাইজার পড়াশোনার দেখভালের পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার বিষয়টিও সামলাচ্ছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি না থাকায় দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছিল তাকে বলে জানা গেছে।

অবশেষে গ্রিন কার্ড পাওয়ায় সেই অপেক্ষার অবসান হলো মৌসুমীর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থায় গ্রিন কার্ডধারীরা দেশটিতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার পথও খোলা থাকে তাদের সামনে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মৌসুমী দীর্ঘদিনের পরিচিত ও জনপ্রিয় এক নাম। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে অভিনয়গুণ, পর্দায় উপস্থিতি ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।

নারী জাগরণ ও কুসংস্কার ভাঙার গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দুর্গা’
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত জনপদে নারীর স্বাস্থ্য, সামাজিক কুসংস্কার ও ক্ষমতার দাপটের বিরুদ্ধে এক সাধারণ নারীর লড়াই নিয়ে নির্মিত হয়েছে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘দুর্গা’। রাজ ব্যানার্জি পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনা করেছে মা শঙ্করী পিকচার্স। নারীর আত্মমর্যাদা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বার্তা উঠে এসেছে এর গল্পে। ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা সুন্দরবনের একটি গ্রামকে ঘিরে কাহিনি। প্রকৃতির সৌন্দর্যের আড়ালে সেখানে দারিদ্র্য ও লিঙ্গবৈষম্যের পাশাপাশি গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে নানা কুসংস্কার। বিশেষ করে ঋতুস্রাব নিয়ে প্রচলিত ধারণা নারীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করে। এই গ্রামেরই নারী দুর্গা। স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী হলেও তার পরিচয় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক মানুষ হিসেবে। ঋতুস্রাবকে অপবিত্র মনে করা এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার নিয়ে সামাজিক সংকোচ তাকে ভাবিয়ে তোলে। সে প্রশ্ন করে, স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি মেয়েকে কেন লজ্জা ও বৈষম্যের মুখে পড়তে হবে? নারীদের সচেতন করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গার পথচলা। প্রথমে অনেকে দ্বিধায় থাকলেও পরে কয়েকজন তার পাশে দাঁড়ান। তাদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামেই স্বল্পমূল্যের স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির কারখানা গড়ার উদ্যোগ নেয় সে। ছোট এই উদ্যোগ দ্রুতই হয়ে ওঠে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নারীর আত্মনির্ভরতার প্রতীক। কিন্তু দুর্গার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রভাবশালী পঞ্চায়েত প্রধান রূপচাঁদ। দুর্নীতি ও নানা অপরাধে জড়িত রূপচাঁদ এই উদ্যোগকে নিজের কর্তৃত্বের জন্য হুমকি মনে করে। অনুমতিপত্র আটকে দেওয়া, অর্থের পথ বন্ধ করা, গুজব ছড়ানো এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে দুর্গাকে থামানোর চেষ্টা চলে। সামাজিক বয়কট ও অর্থনৈতিক চাপেও দমে যায় না দুর্গা। পুলিশের সৎ কর্মকর্তাদের সহায়তায় রূপচাঁদের বিরুদ্ধে নথি, সাক্ষ্য ও অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করে সে। শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয় রূপচাঁদ। বাধা কাটতেই আবার ঘুরতে শুরু করে কারখানার চাকা। ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগ ক্রমে বড় শিল্পে রূপ নেয় এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করে। যে বিষয়টি একসময় লজ্জা ও সংকোচে ঢাকা ছিল, সেটিই হয়ে ওঠে নারীদের জীবিকা ও আত্মবিশ্বাসের উৎস। দুর্গার কাজের খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের সীমানার বাইরেও। আসে সম্মাননা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ঋতুস্রাব নিয়ে সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে মস্কোর রাশিয়ান উইমেন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন থেকেও আমন্ত্রণ পায় সে। ‘দুর্গা’ শেষ পর্যন্ত শুধু একজন নারীর সাফল্যের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং নারীর নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ যেমন প্রবল জোয়ারেও টিকে থাকে, তেমনি দুর্গাও হয়ে ওঠে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নারীর অদম্য শক্তির প্রতীক। ছবিটির নাম ভূমিকায় মৌবনী সরকার, প্রযোজক:স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রযোজনা সংস্থা:মা শঙ্করী পিকচার্স, চিত্রগ্রাহক: বিশ্বজিৎ মণ্ডল, প্রচার ও জনসংযোগ: সামসুন নবী, অভিনয়শিল্পীরা হলেন: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, রাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইকবাল সুলতান, মমতাজ সঙ্ঘমিতা, মলয় রায়, গৌতম মিত্র, মন্দিরা মণ্ডল, তনুজা রায় (এনএসডি), শ্রাবণী দত্ত, গোপাল সরকার, মিতা দেবনাথ প্রমুখ। সংগীত পরিচালক: চন্দন রায় চৌধুরী, প্লেব্যাক শিল্পী: বীণা চক্রবর্তী, গীতিকার: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন ফকির ও বীণা চক্রবর্তী, সম্পাদক: দীপক মণ্ডল, কালারিস্ট: সুজয় কুমার মিশ্র, রূপসজ্জা: সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু, শিল্প নির্দেশনা: রাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তড়িৎ রায়।  
নারী জাগরণ ও কুসংস্কার ভাঙার গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র ‘দুর্গা’
আদালতে সোহানা সাবা, বললেন ফাঁসানোর কথা
অভিনেত্রী সোহানা সাবা দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওর ক্যাপশনে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। একই দিন জুলাই-সংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতেও যান এই অভিনেত্রী। জানা গেছে, ১৯ অক্টোবর সোহানা সাবার একমাত্র ছেলের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে আদালতে হাজির হতে হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিও বার্তায় নিজের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানান, জন্মদিনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাকে আদালতে আসতে হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে সোহানা সাবা লেখেন, ‘রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো একজন ব্যক্তির জীবন’। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সমালোচকদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাদের উদ্দেশে ‘অক্ষত’, ‘ফেকু প্রোফাইল’ এবং ‘বিদেশে বসে দেশ উদ্ধার’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করেন তিনি। পাশাপাশি সমালোচকদের চেহারা ও মানসিকতা নিয়েও মন্তব্য করেন। ছেলের জন্মদিনে আদালতে হাজিরা এবং নিজেকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর শিকার বলে উল্লেখ করে দেওয়া তার এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আদালতে সোহানা সাবা, বললেন ফাঁসানোর কথা
অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি, রাজস্থানে গ্রেপ্তার ৩
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের সময় তাদের আটক করা হয়। পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হরিয়ানার সোনিপতের ১৭ বছর বয়সী ফুল সিং, বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং সোনিপতের ১৮ বছর বয়সী রেহান।  রাজস্থান পুলিশের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (এজিটিএফ) ও কোটা সিটি পুলিশের যৌথ দল মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্তদের দুজন সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া ভাড়াটে বন্দুকধারী। তৃতীয়জন হামলার পর তাদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা মনে করছেন, হামলাকারীরা প্রশিক্ষিত ছিল এবং গুলি চালানোর আগে টাইগার শ্রফের চলাফেরার ওপর নজর রেখেছিল। অভিনেতার সাপ্তাহিক রুটিন পর্যবেক্ষণ করে হামলার সময় নির্ধারণ করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, টাইগার প্রতি রোববার জুহুর একটি ফুটবল মাঠে যেতেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে ফেরার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা ভিলে পার্লে ও আন্ধেরি হয়ে এসভি রোড ধরে পালিয়ে যায় বলে ধারণা পুলিশের। পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে তারা বোরিভালির উদ্দেশে ট্রেনে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এড়াতে তারা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটেও গিয়েছিল বলে প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর আগে হামলাকারীদের কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। মুম্বাই পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করার সময় প্রকাশিত একটি ছবিতে দুজনকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের একজনের মাথায় ছিল কালো টুপি। এদিকে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় মুম্বাইয়ে গ্যাং-সহিংসতা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। রোববার গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অভিনেতার বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। পাশাপাশি অভিনেতার উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। শিন্ডে বলেন, অপরাধী চক্রগুলোর শিকড় আবারও উপড়ে ফেলতে হবে। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে গ্যাং-সংঘাতের সময় অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছিল। আবারও একইভাবে তাদের নির্মূল করার সময় এসেছে।’ টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনা প্রসঙ্গে শিন্ডে বলেন, এ ধরনের হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সী অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও আরও একজন আহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি।  
অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি, রাজস্থানে গ্রেপ্তার ৩
পরিচালক আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল : নীতি টেইলর
রুপালি জগতের আলোর ঝলকানির পেছনে অন্ধকার দিকও রয়েছে। প্রায়ই কাস্টিং কাউচ, যৌন হেনস্তা, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ শোনা যায়। এ নিয়ে অনেক তারকা অভিনয়শিল্পী কথা বলেছেন। এবার নীরবতা ভাঙলেন ভারতীয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। কয়েক দিন আগে ভারতীয় গণমাধ্যম হাটারফ্লাইকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হিন্দি টিভি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতি টেইলর। এ আলাপচারিতায় তিনি অভিযোগ করেন—পরিচালক তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন।   ঘটনা বর্ণনা করে ৩১ বছর বয়েসি নীতি টেইলর বলেন, ‘আমার প্রথম সিনেমার পরিচালক আরেকটি সিনেমার কাজের জন্য ফোন করেছিলেন। সিনেমার বিষয়ে আলোচনা শেষে তিনি বলেন, ‘এবারের সিনেমায় কাজ করতে হলে, তোমাকে আমার সঙ্গে শুতে হবে।’ বুঝতেই পারছেন, এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, তা বুঝে উঠতে পারবেন না। আমি শুধু ফোন কেটে দিয়েছিলাম, তার ফোন নম্বর ব্লক করে দিয়েছিলাম। তারপর মাকে ফোন করে বলেছিলাম—ওই বুড়ো লোকটার কথা একবার ভাবো!’  পরিচালকের কুপ্রস্তাবে নীতি এতটাই হতবাক হন যে, তাকে সরাসরি কিছু বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এর আগেও ওই পরিচালককে অন্য অভিনেত্রীদের সঙ্গে দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু কখনো ভাবেননি, তাকেও এমন প্রস্তাব দেবেন। এই অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয় বলেও জানান নীতি।  এ বিষয়ে নীতি টেইলর বলেন, ‘আমি তাকে অন্য মেয়েদের সঙ্গেও এ ধরনের আচরণ করতে দেখেছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি, আমার সঙ্গেও এমন কিছু করার চেষ্টা করবেন। সেই ঘটনার পরই সিদ্ধান্ত নিই, আর কখনো কোনো সিনেমায় অভিনয় করব না। আমি এতটাই হতবাক হয়েছিলাম যে, শুধু তার ফোন নম্বর ব্লক করেছিলাম। বিষয়টি কাউকে বলিনি। কারণ আমি পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম।’ ২০১২ সালে তেলেগু ভাষার ‘মেম বায়াসুকু ভাচাম’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় নীতি টেইলরের। এটি পরিচালনা করেন ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তানিশ। মুক্তির পর সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পেয়েছিল। সাক্ষাৎকারে পরিচালকের নাম উল্লেখ করেননি নীতি। তবে কোনো সংশয় নেই যে, কুপ্রস্তাব দেওয়া পরিচালকের নাম—ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা। ২০১৩ সালে নীতি অভিনয় করেন ‘পেল্লি পুস্তকাম’ সিনেমায়। রামকৃষ্ণ মাচাকান্তি পরিচালিত এই সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় ছিলেন রাহুল রবীন্দ্রন। তবে প্রথম সিনেমার মতো সাফল্য পায়নি এটি। বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি সমালোচকদের কাছ থেকেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় সিনেমাটি।   নীতি অভিনীত তৃতীয় ও শেষ তেলেগু সিনেমা ‘লাভ ডট কম’ মুক্তি পায় ২০১৪ সালে। রাজা ভান্নেম রেড্ডি পরিচালিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছিলেন সিএইচভি বৃন্দা রেড্ডি। এতে নীতির বিপরীতে অভিনয় করেন আর্য সন্দীপ। মুক্তির পর এ সিনেমাও বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা সাফল্য পায়নি। এই তিনটি তেলেগু সিনেমার পর আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি নীতি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিন্দি ধারাবাহিক ‘পেয়ার কা বন্ধন’-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক হয় নীতি টেইলরের। ২০১৪ সালে প্রচারিত ‘কাইসি ইয়ে ইয়ারিয়া’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি। এরপর ‘বড়ে আচ্ছা লাগতে হ্যায় টু’-সহ একাধিক টেলিভিশন ধারাবাহিকে দেখা গেছে নীতিকে। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ অংশ নিয়ে সেমিফাইনালিস্ট হয়েছিলেন নীতি। ওই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন মিনি মাথুর।  
পরিচালক আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল : নীতি টেইলর
‘দেবদাস’ থেকে ‘কাহানি’, বলিউডের সিনেমায় দুর্গাপূজার নানা রূপ
দুর্গাপূজার উৎসবকে হিন্দি সিনেমায় কখনো গানে-নাচে, কখনো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে, আবার কখনো বাঙালি সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘দেবদাস’, ‘কাহানি’ থেকে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’; বিভিন্ন সিনেমায় দুর্গাপূজা পেয়েছে নানা মাত্রা। গান ও নাচে উৎসবের উদযাপন :সঞ্জয় লীলা বানসালি ও করণ জোহরের মতো নির্মাতারা ‘ডোলা রে ডোলা’ এবং ‘ঢিনঢোরা বাজে রে’-এর মতো গান উপহার দিয়েছেন, যা সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ‘ডোলা রে ডোলা’ একটি আইকনিক গান। চলতি মাসে গানটি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেও জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ‘ঢিনঢোরা বাজে রে’ গানের কোরিওগ্রাফির জন্য বৈভবী মার্চেন্ট দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। লাল রঙের আবহ, নারীত্বের উদযাপন এবং দেবী দুর্গার শক্তির প্রকাশ; সব মিলিয়ে গানগুলো দুর্গাপূজা উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এসব গানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ যেন নতুন করে পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। গল্পে বড় মোড় এনে দেয় দুর্গাপূজা : দুর্গাপূজার জাঁকজমক ও মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভারতীয় সিনেমায় বহুবার গল্পের বড় কোনো রহস্য উন্মোচনের পটভূমি হয়েছে। ২০১২ সালের ‘কাহানি’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে বিদ্যা বালানের নকল অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশের কথা কে ভুলতে পারেন? সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় রহস্য উন্মোচন হিসেবে দৃশ্যটি এখনো আলোচিত। ‘গুন্ডে’ সিনেমাতেও দুর্গাপূজা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে এসেছে। উৎসবের আয়োজনে রণবীর সিং ও অর্জুন কাপুরের অভিনীত দুই চরিত্রের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার চরিত্র তাদের একজনকে সেখানে নিয়ে যায়। উৎসবের চোখধাঁধানো আয়োজনের সঙ্গে নির্মম ও মর্মান্তিক সহিংসতার বৈপরীত্য গল্পকে নতুন দিকে এগিয়ে নেয়। বাঙালি সংস্কৃতির জানালা দুর্গাপূজা : বাঙালি সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার অন্যতম সুযোগ দুর্গাপূজার উৎসব। বলিউডও বিভিন্ন সিনেমায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতমের অভিনীত বাঙালি চরিত্রটি আয়ুষ্মান খুরানার পাঞ্জাবি চরিত্রকে নিজের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ সময় সে তাকে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বেড়ায়। ‘বুলবুল’ সিনেমায় দুর্গাপূজা ও কালীপূজার উপস্থিতি বাংলার প্রেক্ষাপটকে আরো স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, ‘পরিণীতা’ সিনেমায় পূজা মূল প্রেমের গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে কোমলতা, ঈর্ষা ও আগলে রাখার প্রবণতার মতো অনুভূতিগুলোও উঠে এসেছে পূজার আবহে।  
‘দেবদাস’ থেকে ‘কাহানি’, বলিউডের সিনেমায় দুর্গাপূজার নানা রূপ
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পেলে যা করবেন
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন নিহত
X