
দেশের দুর্গম উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে প্রস্তাবিত ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ সময় নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান তার সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনকালে দুই প্রতিমন্ত্রী ভাসমান তরী পরিদর্শন করে এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসা সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলায় জটিল ও সাধারণ রোগের আধুনিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সার্জারি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নৌ-পরিবহন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে একটি নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে দুর্গম উপকূলীয় এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী যত্ন, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারণ অর্থোপেডিক ও হাড়ের সার্জারি এবং চোখের ছানি অপারেশনের মতো সেবার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দল গঠন করে ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে এসব সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিকল্প ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় যেতে সক্ষম নন, তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নতুন সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীসহ বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




