ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাবঞ্চিতদের শেষ আশ্রয়স্থল মানহীন ক্লিনিক

খালেদ মাহমুদ সুজন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

  ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪২ পিএম
ছবি প্রতিনিধি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঈশ্বরদী ইপিজেড, পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়, ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্রসহ অনেকগুলো সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ঈশ্বরদীতে হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঈশ্বরদীতে এসে বসবাসকারী দেশি-বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর আদমশুমারি-২০২২-এর তথ্যানুযায়ী, ঈশ্বরদী উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪০২ জন। ২৪৬ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ভূখণ্ডের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও প্রতিনিয়ত মানুষ চিকিৎসা নিতে এই উপজেলায় আসেন। এ ছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি। ইপিজেডে কর্মরত ২১ হাজার শ্রমিকের অর্ধেকের বেশি আসেন পার্শ্ববর্তী জেলা নাটোর ও কুষ্টিয়া থেকে।

কর্মের পরিধি ও পারস্পরিক যোগাযোগব্যবস্থার কারণে ঈশ্বরদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসার জায়গা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। যেখানে কর্মী সংকটে হাসপাতালটি নিজেই নানা জটিলতায় ভুগছে দীর্ঘদিন ধরে। বৃহৎ এই জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ শয্যার এই একটি মাত্র হাসপাতালে যেন ভোগান্তির অভয়াশ্রম।

উপজেলা শহরের পূর্ব নূর-মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু ডাক্তার তো দূরের কথা, এখানে কর্মরত সেবিকাদের সঙ্গে কথা বলাই দায়। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ও ময়লা-আবৃত বেডশিট—সব মিলিয়ে হাসপাতাল তো নয়, এ যেন ময়লার ভাগাড়। যেখানে কোনো সুস্থ মানুষও অসুস্থ হতে বাধ্য।’

বুকের ব্যথা নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন পৌরসভার রহিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিহাব উদ্দিন। টানা ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেও ডাক্তারের সাক্ষাৎ না পেয়ে নিজেই হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে আসেন ডাক্তারের খোঁজে। পরে ডাক্তারের সাক্ষাৎ পেলেও সঠিক চিকিৎসা পাননি। ফলে ডাক্তারি নানা পরীক্ষার জন্য তাঁকে ছুটতে হয়েছে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে। যেখানে তৈরি করা রিপোর্টের মান নিয়েও নানা অজুহাত রয়েছে চিকিৎসকদের।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা খাতুন বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো শৃঙ্খলা নেই। প্রতিবাদ করলেই স্টাফদের রোষানলে পড়তে হয়। চিকিৎসা বলতে কেবল গ্যাস আর সর্দি-কাশির বড়ি ছাড়া তেমন ওষুধ নেই। রোগীর কথা শুনতে চায় না। কথা বলতে গেলেই বাইরের ক্লিনিক বা রাজশাহীতে যেতে বলে।’

সরকারি হাসপাতালের জঞ্জাল এড়াতে এবং স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসার প্রত্যাশায় স্ত্রীকে নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের নামকরা বহুতল ভবনের একটি ক্লিনিকে যান শিহাব উদ্দিন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও রিপোর্ট শেষে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর স্ত্রীর ওভারিতে সিস্টের বিভীষিকাময় অবস্থা। এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে মা হতে না পারার বিষয়ে ওই দম্পতিকে ভয়ও দেখানো হয়। কিন্তু ঈশ্বরদীর বাইরের চিকিৎসকেরা বলেন, তাঁর স্ত্রীর এমন কিছুই হয়নি। উল্টো রয়েছে সুখবর।

বাসচালক উজ্জল হোসেন পিঠের ব্যথা নিয়ে আরেকটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। ২০ হাজার টাকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর হার্টে ৬০ শতাংশ ব্লক রয়েছে। চিকিৎসকের কথায় অর্ধমৃত উজ্জল চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে রওনা হন। সেখানে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, তাঁর সমস্যা হার্টে নয়, বরং মাথার পেছনের আঘাতের কারণে।

অসুস্থতা থেকে বাঁচতে চিকিৎসা নিতে আসা এমন হাজারো ভুক্তভোগীর অজানা গল্প এখন নিত্যদিনের। যে ধাঁধায় আটকে আর্থিক ও শারীরিকভাবে ধ্বংস হচ্ছে বহু পরিবার। ভুল চিকিৎসায় হারাচ্ছে নিজের বসতভিটা ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ঈশ্বরদীর গুরুত্ব ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা অত্যন্ত সামান্য। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য প্রায়ই রাজশাহী ও ঢাকায় যেতে হয়। ঈশ্বরদীর সঙ্গে রাজশাহী বা ঢাকার দূরত্ব এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার কারণে প্রায়ই বিপদগ্রস্ত হন অনেকে। অনেকের মৃত্যুও হয় রাস্তায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আরএমও শফিকুল ইসলাম শামীম জানান, যতদিন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিলেন, ততদিন দায়িত্বের সঙ্গে সব কাজ করেছেন। পরিচিতদের কাছ থেকে জেনেছেন, বর্তমানে জনবল সংকটে সেখানকার চিকিৎসাব্যবস্থা বিপন্নপ্রায়। এ ছাড়া শহরজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ক্লিনিকগুলোর গুণগত মান নিয়েও সংশয় রয়েছে। কেননা এসব ক্লিনিকে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় অচল। সে কারণে পরীক্ষার ফলাফলেও বড় ধরনের গরমিল আসে। সেগুলো একজন রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন পাল বলেন, ‘আমাদের সাধ্যমতো আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। এর মধ্যেও কেউ কোনো অভিযোগ করলে আসলে কিছুই বলার থাকে না। তবে গত তিন মাস ধরে আমাদের এখানে অ্যানেসথেশিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞ নেই। তাই এ বিভাগের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও তাদের চিকিৎসার মান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন উপজেলা প্রশাসন। এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।’

জানতে চাইলে ঈশ্বরদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘সঠিক সেবা নাগরিকের অধিকার। এটা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ সোয়াইবকে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের নারীরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিলম্বের কারণে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারছেন না। এতে তাঁরা যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্তন ক্যান্সার নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব নয়। এ জন্য চিকিৎসকদের সরাসরি জনগণের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে স্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
পুরুষের শরীরে এমন একটি হরমোন রয়েছে, যা শুধু যৌনস্বাস্থ্য নয়, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সেই টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ সময়ে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। এ প্রবণতা পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির বার্ষিক সভায় গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। কেন কমছে টেস্টোস্টেরন? টেস্টোস্টেরন পুরুষের প্রধান যৌন হরমোন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তন, পেশি ও হাড়ের গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে এ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস, ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া এবং প্রজননস্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণের অন্য কারণও থাকতে পারে। গবেষকদের ধারণা, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় সমস্যার প্রভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদানও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য ও প্লাস্টিকে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের উপাদানকে বলা হয় এন্ডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিক। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে হরমোনের মাত্রার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন। তবে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব কারণের প্রত্যেকটির ভূমিকা কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় গত কয়েক দশকে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা উঠে এসেছে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার তথ্য সেই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের হরমোন বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা বলেন, বিভিন্ন সময়ের তথ্য নিয়ে গবেষণা করায় ফলাফলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। তাঁর মতে, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং সময়ের সঙ্গে এ প্রবণতা আরও বাড়ছে। তিনি বিষয়টিকে পুরো মানবজাতির জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। কী করণীয়? টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জীবনযাপনের এসব অভ্যাস সব ক্ষেত্রে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া বা প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গ ও পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে হরমোনের মাত্রা যাচাই করতে পারেন। শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নিজে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করা ঠিক নয়।
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
গোপনে দানা বাঁধছে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন!
বিশ্বজুড়ে প্রজনন সমস্যায় ভোগা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রে পুরুষের শরীরেও কোনো না কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়। পুরুষের বন্ধ্যত্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। সাধারণত সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এটি ধরা পড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে শরীর আগেভাগেই ইঙ্গিত দেয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি: ১. যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া ২. উত্থানের সমস্যা ৩. বীর্যপাতের সমস্যা ৪. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব ৫. শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ৬. মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া   কীভাবে নির্ণয় করা হয় সঠিক চিকিৎসার জন্য আগে কারণ জানা দরকার। চিকিৎসকেরা সাধারণত চারটি পরীক্ষা করান: বীর্য পরীক্ষা: এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকার ও গুণগত মান যাচাই করা হয়। রক্ত পরীক্ষা: বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা দেখে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি: ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক ত্রুটি আছে কি না, তা দেখা হয়। জিনগত পরীক্ষা: জিনগত কারণ সন্দেহ হলে বিশেষ ক্ষেত্রে এটি করা হয়।   কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন ১. এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও সন্তান না হলে ২. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব থাকলে ৩. যৌনক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিলে ৪. আগে অণ্ডকোষে আঘাত লাগলে বা অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে ৫. ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলে
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
ঈশ্বরদীতে কিশোরী ধর্ষনের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
নভেম্বরের শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা
রূপপুর প্রকল্পের বর্জ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ 
তোকে মেরে সতর্ক করলাম, মেম্বারকে মেরে ফেলব
X