
হৃদরোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে তারা এ কথা বলেন।
চিকিৎসকরা জানান, বিশ্বে প্রতি বছর হৃদরোগের কারণে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকালমৃত্যুবরণ করেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশেও হৃদরোগজনিত মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ হৃদরোগের কারণে ঘটে বলে তারা জানান।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য উচ্চ রক্তচাপ দায়ী বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বাজেট বাড়িয়ে তার উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হলে হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এনআইসিভিডির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদউল্লাহ, অধ্যাপক ইব্রাহিম চৌধুরী, অধ্যাপক মহসিন হোসেন, অধ্যাপক মুর্শিদুর রহমান, অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, উপ-পরিচালক ডা. মুনির আহমেদ খানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে বিনামূল্যে ব্লাড প্রেসার মনিটরিং, ব্লাড সুগার পরীক্ষা, ডায়েট কাউন্সেলিং এবং উচ্চতা ও ওজন পরিমাপের মাধ্যমে বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) নির্ণয় ও কাউন্সেলিং করা হয়।




