ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

১৩০ বছর বয়সে হজ করা সেই নারী মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৪ পিএম
ছবি:সংগৃহীত

১৩২ বছর বয়সী আলজেরিয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ নারী হাজ্জা সারহুদা সিতিতি মারা গেছেন। সম্প্রতি সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া তার পবিত্র হজ পালনের বিশেষ ভিডিওচিত্র শেয়ার করে এই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। হাজ্জার জন্ম গালমা প্রদেশের শিনিউ এলাকায়। পরে তিনি তেবেসা শহরে বসবাস করতেন। ১৮৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করা এই নারী দীর্ঘ জীবন, বড় পরিবার এবং জীবনের শেষ দিকে হজ পালনের কারণে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। তার মৃত্যুতে আলজেরিয়ায় শোকের পাশাপাশি ব্যাপক আগ্রহও তৈরি হয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

২০ বছর বয়সে বিয়ে করেন সারহুদা। তার ১৫ জন সন্তান ছিল। জীবনের বড় অংশটাই তিনি সন্তান, নাতি-নাতনি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুনে ১৩০ বছর বয়সে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এতে তিনি বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়ার খবর তখন গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পায়। এর আগে তিনি দুইবার ওমরাহ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮৯৪ সালের জন্মসন ধরলে সারহুদার জীবদ্দশায় আলজেরিয়ার ইতিহাসের বড় বড় পরিবর্তন ঘটে গেছে। তিনি ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন দেখেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সময়কাল পার করেছেন। এরপর কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনেরও সাক্ষী ছিলেন তিনি।

তেবেসায় পরিবারের সঙ্গে থাকা এই নারীর জীবনকাহিনি আলজেরিয়ার মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তার দীর্ঘ জীবন একাধিক প্রজন্মের পরিবর্তন ও দেশের ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

ককরোচ ঠেকাতে ভারতে নতুন দল ‘লাল হিট জনতা পার্টি’
ভারতে চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির পাল্টা রাজনৈতিক অবস্থান নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’।  রাজধানী দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে দলটির প্রথম সদস্য সমাবেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়। সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করেন লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা। তাদের অভিযোগ, সিজেপি ও কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের এসব কর্মসূচির ফলে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক খাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। দলটির প্রধান অয়ন ভাটনগর জানান, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষা ও সুসংহত করার লক্ষ্যেই লাল হিট জনতা পার্টি গঠন করা হয়েছে। সিজেপির বিক্ষোভের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজপথে সক্রিয় হতে হবে। আজ সিইসির পদত্যাগ দাবি করা হলে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলা হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসারেই বর্তমান সিইসি নিযুক্ত হয়েছেন। কেবল রাস্তায় বিপুল মানুষের জমায়েত দেখে অন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া সমীচীন নয়। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, সিজেপির এই আন্দোলনের কারণে দিল্লিসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক শহরে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় তিন হাজার কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে এবং তা ১০ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্ত দেশের ঐক্য রক্ষায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গৃহীত নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। 
মশিউর অর্ণব
অভিবাসীদের হৃদয়ের ঘৃণায় ফ্রান্স জ্বলছে : ট্রাম্প
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতার জন্য দেশটিতে বসবাসকারী অভিবাসীদের সরাসরি দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিবাসীদের ‘হৃদয়ে থাকা ঘৃণার আগুনে’ ফ্রান্স জ্বলছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গত কাল রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত থেকে আসা মানুষ—যাদের হৃদয়ে রয়েছে ঘৃণা—তারা একসময়ের মহান এই দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিন!” ফ্রান্সে চলমান অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। স্কুলগুলোতে আরও শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে স্বতঃস্ফূর্ত ও অহিংস আন্দোলন শুরু করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী-শিক্ষক। পরবর্তীতে এ আন্দোলনে যোগ দেয় বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং এমন মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের লোকজন, যারা জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গতকাল শনিবার উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে; অন্যদিকে ফ্রান্সের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম শ্রমিক অধিকার সংগঠন সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, রোববারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ৮ লাখ। এখন পর্যন্ত যেসব দাবির কথা জানা গেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দ্রব্যমূল্য ও সরকারি পরিষেবা—অভিবাসন নয়। শান্তিপূর্ণ মিছিলগুলো পরবর্তীতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং সরকারি ভবনের ওপর হামলায় রূপ নেয়। দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভের আড়ালেই ঘটেছে এসব সহিংস ঘটনা। রোববার ফ্রান্সজুড়ে ছিল ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরেন্ট নুনেজ রবিবার 'এক্স' (X)-এ জানিয়েছেন, "প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে, যাতে তাদের বিচারের আওতায় আনা যায়।" প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাতে রেকর্ড  ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহরের রাস্তাগুলোতে পড়ে ছিল সাইকেল, ডাস্টবিন ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডের পোড়া ধ্বংসাবশেষ অনেক সড়কে দেখা গেছে দোকানের ভাঙা কাঁচ আর পুড়ে যাওয়া গাড়ি। প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা অসংখ্য দোকানে লুটপাট চালিয়েছে। তাদের হামলায় প্রায় ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী ও প্যারামেডিক আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের এই অস্থিরতা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতাকে নিয়ে উপহাস করে বলেছিলেন, “চলুন ফ্রান্সে যাই? দারুণ একটা জায়গা। কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। অথচ দেখুন, ফ্রান্স যেন বিপ্লবের জন্য একেবারে আদর্শ জায়গা! অবিশ্বাস্য! চলুন ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।” ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে অভিবাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রোববার পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, “পাশ্চাত্যের উদারপন্থীরা বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির দোহাই দিয়ে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। তারা আত্মীকরণ ও সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।” ফ্রান্সের সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল উল্লেখ করে এক্সাবর্তায় ভ্যান্স আরও বলেন, “তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে এমনটা ঘটতে পারে, কিন্তু তারা শোনেনি। আমি প্রার্থনা করি, ফ্রান্স—চমৎকার সব মানুষের এক সুন্দর দেশ—যেন আরও বেশি স্থাপনা পুড়ে ছাই হওয়ার আগেই এই পাগলামি থামিয়ে দেয়। আশা করি, মার্কিনিরা বিষয়টি খেয়াল করছেন। ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য ঠিক এমন ভবিষ্যৎই চায়।” ট্রাম্প আগেও নিজ দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন অস্থিরতা ও সামাজিক সমস্যার সঙ্গে অভিবাসনের যোগসূত্র টেনেছেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা তাঁর রাজনীতির অন্যতম প্রধান বিষয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি অবৈধ অভিবাসনকে একটি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এদিকে রোববার এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, যারা এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
অভিবাসীদের হৃদয়ের ঘৃণায় ফ্রান্স জ্বলছে : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পেলে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার (এনভিসি) থেকে কেস খোলার চিঠি পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই চিঠি পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদন বা সাক্ষাৎকারের তারিখ নিশ্চিত হওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) কোনো অভিবাসন পিটিশন অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট আবেদনগুলো এনভিসিতে পাঠায়। সেখানে কেস খোলার পর আবেদনকারীকে কেস নম্বর ও ইনভয়েস আইডি দিয়ে অনলাইনে আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ, কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (সিইএসি) ডিএস-২৬০ ফরম পূরণ এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। নথিতে ঘাটতি থাকলে এনভিসি অতিরিক্ত কাগজপত্র বা সংশোধনের নির্দেশনা দিতে পারে। সরকারি নির্দেশনায় আলাদাভাবে বলা না থাকলে মূল কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। এনভিসি নথিপত্র পর্যালোচনা করে সবকিছু গ্রহণযোগ্য পেলে আবেদনকারীকে জানায় যে তাঁর কেস নথির দিক থেকে সম্পূর্ণ। তবে এরপরও সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। ভিসার ধরন, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওপর সাক্ষাৎকারের সময় নির্ভর করে। পাঠকের পাঠানো একটি চিঠির তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৩। তাই শুধু ওই চিঠি দেখে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আবেদনকারীকে সিইএসি-তে কেসের অবস্থা যাচাই করতে হবে এবং এনভিসির সর্বশেষ বার্তা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে এনভিসির নির্ধারিত যোগাযোগব্যবস্থায় যোগাযোগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া কেস নম্বর, ইনভয়েস আইডি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদে রাখা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিঠির ছবি প্রকাশের সময় এসব তথ্য ও বারকোড আড়াল করা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, কেস খোলার চিঠি পাওয়া ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে ভিসার ধরন, আবেদনের বর্তমান অবস্থা ও সরকারি নির্দেশনার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার চিঠি পেলে যা করবেন
নির্বাচনে জয় নিয়ে শঙ্কায় নেতানিয়াহু, বললেন ‘খুবই চিন্তিত’
ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিজের বিজয় নিশ্চিত নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও নির্বাচনে পরাজিত হলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) রেডিও নর্থকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে নিজের জয়ের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ নিয়ে ‘খুবই চিন্তিত’। নির্বাচনে পরাজিত হলে কিংবা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘না, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব না।’ সাক্ষাৎকারে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও আবিগদোর লিবারম্যানের কঠোর সমালোচনা করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। তাদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলে দাবি করেন তিনি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, বিরোধীরা নির্বাচনি হিসাব যেভাবেই তুলে ধরুক না কেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের আরব দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের বাড়িয়ে বলা সংখ্যার হিসাব ধরলেও মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবিকে ছাড়া গাদি আইজেনকোট কোনো সরকার গঠন করতে পারবেন না। ৬১টি আসন পূর্ণ করতে তাদের এই দুজনেরই সাহায্য লাগবে।’ ভোটারদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, যারা এমন একটি ‘আত্মসমর্পণকারী ও অকার্যকর সরকার’ চান, যা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে শত্রুদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে না, তারা যেন গাদি আইজেনকোটকে ভোট দেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের নেতৃত্বে সম্ভাব্য সরকার ইসরাইলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাব্য হুমকি নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, এ বিষয়ে আইজেনকোটের অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, আইজেনকোট আগে ‘পারমাণবিক ইরানকে মেনে নিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলা চালানোকে ভুল সিদ্ধান্ত বলেছিলেন। নেতানিয়াহুর মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামলালেই চলবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি হলে কোনো আপস করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইজেনকোটের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আইজেনকোট কি আমেরিকায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন? তিনি কি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন? ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বমঞ্চে শক্ত অবস্থান নেওয়া একজন ব্যক্তিত্ব হতে হবে, যিনি জানেন অস্তিত্বের হুমকির মুখে কোনো আপস চলে না। গাদি বা তার সঙ্গীরা তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’ সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বারের সঙ্গেও বিরোধের প্রসঙ্গ তোলেন নেতানিয়াহু। তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন এবং বারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যা দেন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নথিপত্র থাকার দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন। তার দাবি, এসব নথির কয়েকটি ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়। হামলার দুই দিন আগেও রোনেন বার একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহুর অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনে সুবিধার বিনিময়ে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে রোনেন বারকে নিয়ে নেতানিয়াহুর এসব বক্তব্য তার নিজস্ব দাবি। সাক্ষাৎকারে দেওয়া অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। নির্বাচনে নিজের জয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বিরোধীদের নেতৃত্ব, ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের বিষয়গুলো সামনে এনে নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।
নির্বাচনে জয় নিয়ে শঙ্কায় নেতানিয়াহু, বললেন ‘খুবই চিন্তিত’
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি আগামী কয়েক মাসে আরও বাড়তে পারে এবং ২০২৭ সালজুড়েও এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট খরার কারণে শস্যের সরবরাহ কমে আসায় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।  ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কেন্দ্রীয় এলাকায় ৬৩ বছর বয়সী পার্কিং সহকারী মুহাম্মদ ইয়াসিন রয়টার্সকে জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি খাবার খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন। ইয়াসিন বলেন, আগে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার রুপিয়ায় (০.৩৯ থেকে ০.৪৪ ডলার) চাল, টেম্পে ও টোফু কিনতে পারতাম। এখন সেগুলোর দাম ১৫ হাজার রুপিয়া। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, এসব কারণে পুরো ব্যবস্থার ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বছরের শেষ দিকে, আগামী বছরের শুরুতে এবং সম্ভবত পুরো আগামী বছরজুড়েই এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যাবে। খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ায় বিশ্বের দরিদ্রতম ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বাড়ছে। এসব অঞ্চলে পরিবারের মোট ব্যয়ের বড় অংশই খাবার কেনার পেছনে খরচ হয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বিশ্লেষণ করা ১৫০টি দেশের মধ্যে ২২ শতাংশ দেশে গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ১৪ শতাংশ।আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন হওয়া বিভিন্ন পণ্যের মাসিক মূল্যপরিবর্তন পরিমাপকারী এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক গত সেপ্টেম্বরে গড়ে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত দেরিতে হওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যে চালের দাম ইতিমধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মিসরে রুটির দাম এক-চতুর্থাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারতে চিনির দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সরবরাহে একাধিক সংকট কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শস্য অবকাঠামোয় হামলার কারণে গমের চালান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মিসর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে চলাচল করতে হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার রপ্তানি ব্যাহত করেছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে, এল নিনোর প্রভাবে শুষ্ক আবহাওয়া ভারতে ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফসলের উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। ২০২৬ সালে গমের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বড় মজুত থাকা সত্ত্বেও এশিয়ার প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর সারের দাম কিছুটা কমেছে, তবে এখনো তা তুলনামূলক বেশি। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছানোর শঙ্কা আইএমএফের নেসলে ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি, এখন বাস্তবতা।’ পণ্য উৎপাদনের কাঁচামালের বাড়তি ব্যয়ের কারণে পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিসরে ভর্তুকিবিহীন বড় আকারের একেকটি রুটির দাম জুলাই মাসের চার মিসরীয় পাউন্ড থেকে বেড়ে প্রায় পাঁচ পাউন্ড হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়াতেও এ বছর ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। ভারতে উৎপাদন ঘাটতির কারণে সেপ্টেম্বরে এক মাসের ব্যবধানে চিনি, পেঁয়াজ ও ডালের দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কায়রোর কেন্দ্রস্থলের বেকারি ব্যবসায়ী সায়েদ আবদেল হামিদ মোহাম্মদ বলেন, শুধু ময়দার দামই বাড়েনি। তিনি বলেন, দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে গেলেও অনেক খরচ হয়। বিদ্যুৎ, পানি, ইস্ট এবং ভোক্তাদের জন্য রুটি তৈরি করতে ব্যবহৃত সব উপকরণের দামই বেড়েছে। তেলের দাম এবং যুদ্ধজনিত বাড়তি মাশুল বৃদ্ধির কারণে কৃষ্ণসাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পণ্য পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক নৌপথে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার যেসব বড় আমদানিকারক দেশ স্থানীয়ভাবে ভালো ফসল উৎপাদনের কারণে এত দিন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনাকাটা কমিয়ে রেখেছিল, তাদের এখন আবার বিশ্ববাজারে ফিরতে হচ্ছে। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আলেকজান্ডার কারাভাইতসেভ বলেন, কয়েক মাসের মধ্যে আমদানিকারকেরা আবার বাজারে ফিরলে চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য নতুন ঢেউ তৈরি হতে পারে। এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরেরো বলেন, বিশ্বজুড়ে শস্যের রেকর্ড মজুত থেকে পাওয়া সুরক্ষা ক্রমেই কমে আসছে। তিনি বলেন, আগের মৌসুমগুলোর ভালো ফলন ও মজুত আমাদের একটি সুরক্ষাবলয় দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুরক্ষাবলয়ের ওপর এখন চাপ বাড়ছে। এর অর্থ, পণ্যের দাম আরও জোরালোভাবে বাড়তে পারে। সাধারণত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তিন থেকে ছয় মাসের চুক্তিতে কাঁচামাল কেনে। এখন এসব চুক্তি নবায়নের সময় তাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রার দুর্বলতা যুক্ত হয়ে আমদানি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম খাদ্য কোম্পানি পিটি ইন্দোফুডের পরিচালক ফ্রান্সিসকাস ওয়েলিরাং বলেন, পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। রুপিয়ায় হিসাব করলে ইন্দোনেশীয় মুদ্রার দুর্বলতার কারণে এর প্রভাব আরও বেড়ে যায়। দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহেও সমস্যায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জাকার্তাভিত্তিক একটি ময়দা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গমের চালান কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বেশ কয়েকটি গমকল তাদের উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করছে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই নির্বাহী নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। কে-প্লারের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় সেপ্টেম্বরে গমের চালান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে ৪ লাখ ৯১ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। সামনে শস্যের দাম আরও বাড়তে পারে বর্তমানে সয়াবিন ও ভুট্টার মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এসব পণ্যের সরবরাহ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার উৎপাদনের ওপর। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জৈব জ্বালানি তৈরিতে এসব শস্যের ব্যবহার বাড়ছে, যা দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের অর্থনীতিবিদ কারাভাইতসেভের মতে, দক্ষিণ গোলার্ধে গমের অনুকূল ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো রপ্তানিকারক দেশে উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে তা বাজারে দাম বাড়ার নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, দাম আরও বাড়ার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ
X