
ক্রিয়েটিনিন শরীরের পেশির বিপাকক্রিয়া থেকে তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ। সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ক্রিয়েটিনিন ছেঁকে মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। তবে কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে শুধু খাবার পরিবর্তন না করে এর কারণ শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাদের শরীরে পানি জমার সমস্যা রয়েছে, তারা নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত পানি পান না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
খাবারের বিষয়ে সতর্কতা: অতিরিক্ত মাংস, বিশেষ করে রান্না করা লাল মাংস খেলে সাময়িকভাবে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে পারে। কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন, তা রোগের ধরন ও কিডনির কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। তাই নিজে থেকে পুরোপুরি প্রোটিন বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
পরিবর্তে শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু ফল ও সবজিতে থাকা পটাশিয়াম বা ফসফরাসের পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন: কঠোর বা অতিরিক্ত ব্যায়ামের পর পেশিতে ক্রিয়েটিনিন উৎপাদন বেড়ে রক্ত পরীক্ষায় এর মাত্রা সাময়িকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। তাই ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করার আগে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে। তবে নিয়মিত হালকা বা মাঝারি ব্যায়াম সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, যদি না চিকিৎসক অন্য পরামর্শ দেন।
ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টে সতর্কতা: কিছু ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বা রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ বা নানা ধরনের হারবাল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেও চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন।
অ্যাপল সিডার ভিনেগার বা দারুচিনি কি সমাধান?
ক্রিয়েটিনিন কমানোর জন্য অ্যাপল সিডার ভিনেগার বা দারুচিনি ব্যবহারের কথা বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখায় বলা হলেও এগুলোকে কিডনির কার্যকারিতা বাড়ানোর প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অতিরিক্ত ভিনেগার বা দারুচিনি খেলে উল্টো কিছু মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে কী করবেন?
একবার রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিন বেশি পাওয়া গেলেই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, কিছু ওষুধ, বেশি মাংস খাওয়া এবং অন্যান্য কারণেও এর মাত্রা সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
তবে ক্রিয়েটিনিন বারবার বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক eGFR, প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তচাপসহ অন্যান্য পরীক্ষা করে কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ক্রিয়েটিনিন কমানোর জন্য কোনো একটি খাবার বা ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে এর পেছনের কারণ শনাক্ত করা। কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ও জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণ করাই নিরাপদ পদ্ধতি।




