
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এএএম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক, সফরের বিভিন্ন অর্জন এবং সফরসংশ্লিষ্ট সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে নিউইয়র্কে গিয়ে মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবেও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং নতুন অংশীদারত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সফরকালে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও একাধিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে তিনি নারীনেতৃত্ব, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।
চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর এসব সরকারি কর্মসূচি, বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসংক্রান্ত আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়গুলো আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।




