
দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি সহজ করতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান ল্যাবের যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় সহজ হবে। এতে রোগীদের অযথা হয়রানি ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়বে।
দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে:
টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত জানান, হাম প্রতিরোধে চলমান টিকাদান ও ক্যাচ-আপ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা ও লার্ভা নিধন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবায় দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার:
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা অধিক কার্যকর। এ কারণে টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে জনবল সংকট নিরসনের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।




