ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নারীরা রাজনৈতিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দিলেও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে যায় 

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৮ পিএম
নারীরা রাজনৈতিক রূপান্তরে নেতৃত্ব দিলেও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে যায় 

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BIGD), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উইমেন লিভিং আন্ডার মুসলিম লজ (WLUML) যৌথভাবে “Women, Power, and Political Orders in Muslim Society Contexts” শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ও সিরিয়ার শিক্ষাবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট, আইনপ্রণেতা, আইনজীবী, ও নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া, রূপান্তরকালীন ন্যায়বিচার, এবং রূপান্তর-পরবর্তী প্রতিষ্ঠান গঠনে নারীরা কীভাবে ভূমিকা রাখেন এবং কীভাবে সেই প্রক্রিয়াগুলো থেকে তাঁদের প্রায়ই দূরে রাখা হয় সে বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনে নারীরা প্রায়ই সামনের সারিতে থাকেন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের সময়ে তাঁদের নেতৃত্ব খুব কমক্ষেত্রেই পরবর্তী সময়ে আলোচনার টেবিলে, সংবিধান প্রণয়নে, এবং নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। এই ব্যবধান কমাতে সুনির্দিষ্ট শিক্ষা ও কৌশল চিহ্নিত করাই ছিল সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।

রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে BIGD, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন বলেন, “রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে নারীরা যেমন চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখেন, তেমনি নতুন শক্তির উত্থানের ফলে ক্ষতিগ্রস্তও হন। এই পরিসরকে আমরা যদি সুসংগঠিত করতে পারি, তাহলে নারীরা পরিবর্তনের শক্তিশালী কারিগর হয়ে উঠতে পারবেন।”

এ বিষয়ে কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত (Emerita) অধ্যাপক ও WLUML-এর নির্বাহী পর্ষদের সদস্য ড. হোমা হুদফার বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে অর্জিত নারীর অধিকার প্রায়ই খর্ব হয়। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার তুলনা করে তিনি বলেন, “নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার নিয়মকানুন প্রণয়নের সময় নারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানে সমতার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলতে হবে।”

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এবং WLUML-এর নির্বাহী পর্ষদের সদস্য ড. মোনা তাজালি বলেন, “একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে জেন্ডারসমতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এমন পরিবর্তনের সময়ে আমরা ক্ষমতায় কিছু নারীকে দেখতে পারি, কিন্তু তাঁদের এই অবস্থান সাময়িক এবং অত্যন্ত নাজুক।”

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (BLAST) অনোরারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নারীদের অধিকার নিয়ে যে প্রাণবন্ত আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা থেকে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে, নইলে একই পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।” তিনি নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট ও সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী সম্মেলনে বক্তারা আলোচনা করেন, কীভাবে নারীরা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে নারীদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মুমতাজ বলেন, “পেশিশক্তির (muscle power) ব্যবহার ছাড়াই নারীরা যাতে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান পথ তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, নারী ও পুরুষ একসঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা গড়ে তুলুক। শুধু জামায়াতে ইসলামীতে নয়, সব রাজনৈতিক দলেই আমরা এটি দেখতে চাই।”

ক্ষমতার কাঠামোতে নারীর অবস্থান নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মুমতাজ একটি ইসলামি রাজনৈতিক দলে নারীর ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের জন্য আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান সুযোগ তৈরি করতে হবে, যেখানে জোরজবরদস্তির কোনো স্থান থাকবে না। আমরা চাই, নারী ও পুরুষ একসঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখুন। শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সব রাজনৈতিক দলেই আমরা এমন অংশগ্রহণ দেখতে চাই।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ-এর প্রসিকিউটর (সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল) ব্যারিস্টার শাইখ মাহদি গুমবিরোধী আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মা, মেয়ে, ও স্ত্রীরাই রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। নারীপক্ষের সাফিয়া আজিম বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি এবং এখনো যেসব অধিকারের জন্য লড়াই চলছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলেন।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন ড. সামিয়া হক মুসলিম সমাজে নারীর অগ্রগতির জন্য আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে সংহতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “নারীদের ব্যক্তিসত্তার বৈচিত্র্যকে বিবেচনায় নিতে হবে এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া রাজনৈতিক, সামাজিক, ও অর্থনৈতিক শক্তির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। নারীদের নিজস্ব পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলার সুযোগ দিলে মুসলিম সমাজে নারী ও পুরুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোও যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।”

এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. ফিরদৌস আজিম, BIGD-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ শাহান, BIGD-এর সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তাহরিমা বিনতে তারিক, BIGD-এর প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট জিনাত খান মধ্যমা; বাংলাদেশের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের BIGD-এর সিনিয়র ফেলো অব প্র্যাকটিস মাহীন সুলতান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য উমামা ফাতেমা, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ULAB) সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের পরিচালক অবন্তী হারুন, কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অ্যাফিলিয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. আফরা জালালি (সিরিয়া), এশিয়ান মুসলিম অ্যাকশন নেটওয়ার্কের মহাসচিব রুবিয়ান্তি খলিফা (ইন্দোনেশিয়া), বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, আফগানিস্তানের সাবেক ন্যায়পাল এবং সংবিধান বাস্তবায়ন তদারকির স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার গিজাল হারেস, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ শিমা ইসমাইলিয়ান, অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য ড. সানা আলসারঘালি; যুক্তরাষ্ট্রের কার্লেটন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামার ফরেস্টার, পাকিস্তানের জাতীয় নারী মর্যাদা কমিশনের সাবেক সভাপতি খাওয়ার মমতাজ, এবং ইন্দোনেশিয়ার নারী ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা আই.জি.এ. পুত্রি অ্যাস্ট্রিড কার্তিকা।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের দুই মামলার আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম রোববার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১৫ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে কাতার পুলিশ। ইন্টারপোল মেইলের মাধ্যমে দুদককে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। সেদিন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অর্থের উৎস গোপন করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। অপর মামলায় হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বামীর সহায়তায় তাহমিদা এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। ওই মামলায় তাহমিদার পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কানাডায় তার সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করা হবে বলে সে সময় জানানো হয়। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। পরদিন দুদকের আবেদনে হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আদালত। একই বছরের ২৪ মে হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন হান্নান। চলতি বছরের ৩০ মার্চ হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেয় আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর হান্নানের নামে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স রুমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।  এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন উপস্থিত ছিলেন।  কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সহ ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি মোট পাঁচ দিনব্যাপী চলবে। ১৮-১৯ অক্টোবর এবং ২৫-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে চালকদের সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে সড়কে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো এবং চালকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।  সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। 
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত) মি. ফিলিপ অং-এর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রবিবার ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক একীভূতকরণ ও সমন্বয়ের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রতিষ্ঠানকে এর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
আরও পড়ুন
প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন করতে হবে: শেখ রবিউল আলম
ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
যে কারণে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্পটে আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর উত্তরায় পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০
X