ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীর মৃ'ত্যুদণ্ড, অবশেষে জানা গেল পরিচয়

বিশেষ প্রতিনিধি

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪১ পিএম

সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন আব্দুল বাছির। আশা ছিল, ছেলে বিদেশে কাজ করে টাকা পাঠাবেন, সংসারের অভাব দূর হবে, ধীরে ধীরে শোধ হবে ঋণ। কিন্তু সেই আশার জায়গায় এখন নেমে এসেছে শোক আর অনিশ্চয়তা। সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলামের বাবা তিনি। ছেলের মৃত্যুর খবরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা প্রশ্ন—কী অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নজরুল, কীভাবে কাটল তাঁর কারাবন্দি জীবন, আর শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল তাঁর ভাগ্যে?

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ। বিদেশে যাওয়ার সময় তাঁর পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, কাজ করে উপার্জন করবেন এবং সেই অর্থে সংসারের হাল ধরবেন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর ছয় মাসের মাথায় সেই স্বপ্নে ছেদ পড়ে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরুল ও সুইটিকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পেরেছিল। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি তারা। এরপর দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয় নজরুলকে।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কাটে কারাগারে। এই দীর্ঘ সময়ে পরিবারের কাছে তাঁর জীবন কেমন ছিল, কীভাবে চলেছে আইনি প্রক্রিয়া কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিণতি কী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি স্বজনেরা।

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর পর তাঁরা আশা করেছিলেন, সে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে সহায়তা করবে। কিন্তু কাজ শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রেপ্তারের খবর আসে। এরপর থেকে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের।

আব্দুল বাছিরের ভাষ্য, “ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।”

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন নজরুলের বাবা। তাঁর বক্তব্য, সুইটি আক্তারকে তাঁদের পরিবার চেনে না। নজরুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল—এমন তথ্যও তাঁরা জানেন না।

ঋণের বোঝা, ছেলেকে হারানোর শোক

নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন আব্দুল বাছির। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে—এই আশাতেই এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। কিন্তু নজরুলের কাছ থেকে পাওয়া গেছে মাত্র দেড় লাখ টাকা। এখনো ঋণের বড় অংশ বাকি। ছেলের মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধের চাপও তাঁকে তাড়া করছে।

আব্দুল বাছির বলেন, “সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।”

একজন বাবার কাছে সন্তানের মৃত্যুর সংবাদই সবচেয়ে বড় আঘাত। তার সঙ্গে যখন যুক্ত হয় বিদেশের মাটিতে সন্তানের শেষ পরিণতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তা, তখন সেই শোক আরও গভীর হয়ে ওঠে। আব্দুল বাছিরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তেমনটাই। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একের পর এক শোকের ঘটনায় পরিবারটি এখন বিপর্যস্ত।

মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষা

নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে নজরুল ও সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নজরুলের বাবা। একই সঙ্গে দুজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—এমন তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। বিদেশের মাটিতে মৃত্যুর পর সন্তানের শেষ বিদায়টুকু জানাতে চান আব্দুল বাছির। তাঁর দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পেছনে অন্যায় বা অবিচার থেকে থাকলে তার বিচার হতে হবে।

গ্রামজুড়ে শোক

নজরুলের মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে বিরামপুর গ্রামের মানুষ তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন, সমবেদনা জানাচ্ছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। যে তরুণকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন ছিল, তাঁর এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না অনেকে।

নজরুলের জীবনের শেষ তিন বছর তিন মাস কেটেছে কারাগারে। সেই সময়ে তাঁর পরিবার জানতে পারেনি, ঠিক কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কী। এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরের পরও পরিবারের সামনে রয়ে গেছে অনেক প্রশ্ন।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
সকল ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আসুন আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম আলাদা হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রটা আমাদের সকলের। বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রটি আমাদের সকলের। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, আমরা বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। সবার আগে এটিই হচ্ছে আমাদের পরিচয়।  এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান- যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনো জিজ্ঞেসও করিনি।’ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় দেশে গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছে। তখনও কিন্তু আন্দোলনকারী একজন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেনি, ভাই আপনি কি মুসলমান, নাকি আপনি হিন্দু, নাকি আপনি বৌদ্ধ, নাকি আপনি খ্রিষ্টান? কেউ তো জিজ্ঞেস করেনি। সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বেশি দিন আগের কথা নয়। এই তো মাত্র আড়াই বছরও হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে। সেই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ?’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিষ্টানও আছে। সকলেই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের পরিবর্তন ঘটলে, দেশের মানুষের পরিবর্তন ঘটলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব।’ তিনি বলেন, ‘যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনো মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমরা একে অপরকে  আরেকজনকে চিনি ও জানি।’ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।’
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
সৌদিতে শি'রশ্ছেদ: সিথি নয়, সেই নারীর নাম সুইটি, জানা গেল পরিচয়!
মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে জানিয়েছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তিনি দাবি করেছেন, সুইটি আক্তারকে তারা চেনেন না। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিরের ছেলে। আব্দুল বাছির বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। তবে কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানেন না পরিবারের সদস্যরা। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পেয়ে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান আব্দুল বাছির। তিনি আরও বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।’ স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২৫ বছর বয়সী নজরুল। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানতে পারেনি। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে আসছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন তারা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, নজরুলকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অপরাধ তিনি করেছেন বলে মনে করেন না। সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্‌ঘাটন করা হোক। তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। দূতাবাস যোগাযোগ করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের একই ধরনের সাজা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির দেশের দূতাবাস ব্যবস্থা নিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গেও কেউ যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
মশিউর অর্ণব
চাটখিলে এক বাড়ির সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ এক আবাসিক গ্রাহকের ৫টি লাইট, ২টি ফ্যান, ১টি ফ্রিজ ও ১টি সিসি ক্যামেরার বিপরীতে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিল করেছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। এ বিল দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, ভুতুড়ে বিলের নিবন্ধিত গ্রাহক ওই বাড়ির মৃত আবু তাহের। তার মৃত্যুর পর তার নাতি শহিদুল ইসলাম রনি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। শহিদুল ইসলাম রনি অভিযোগ করেন, সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকার একটি ভুতুড়ে বিল পাঠানো হয়েছে। গত পাঁচ মাস ধরে তাদের ঘরে গড়ে মাত্র ১২৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের বিলে সরাসরি ৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত। সাধারণ বাতি-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে?’ পল্লী বিদ্যুতের বিল প্রস্তুতে নিয়োজিত কর্মীদের গাফিলতি ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিল হাতে পাওয়ার পর বিদ্যুৎ বিল বিতরণকারী কর্মীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি চাটখিল কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে আরও ক্ষুব্ধ হন শহিদুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব—এটি কোন ধরনের আচরণ? আমি চাই, এই গাফিলতির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মূল বিলের কপি পাঠানোর পর তিনি ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি ভুলবশত হয়েছে। শিগগিরই আমাদের লোকজন ওই গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন এবং দ্রুত বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হবে।’
চাটখিলে এক বাড়ির সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা!
সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড: সেই সিথি আক্তার ছিলেন ওমরাহ যাত্রী, জানা গেল পরিচয়
সৌদি আরবের মক্কার একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিক নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া দাবি ছড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে- তারা পরস্পরের স্বামী-স্ত্রী এবং নবদম্পতি, ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবের গিয়েছিলেন। তাছাড়া মসজিদে কপালে চুমু দেওয়ার কারণে ওই দুই তরুণ-তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অবশেষে তাদের দুইজনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী। তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা।  আকাশ পথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও এ সময় জানান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই বাংলাদেশি হলেন- নজরুল ইসলাম আবদুল বসির এবং সিথি আক্তার। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে স্থানান্তর করা হলে বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।  তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গত ১৭ অক্টোবর বিবিসি বাংলায় এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যে দুজনের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে তাদের বিষয়ে কোনো তথ্যই এখনো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মশিউর অর্ণব
যে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি ও রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবার সই করা পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী তাঁর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিলের জন্য সরকারের সুপারিশ ও সম্মতি দেওয়া হয়েছে। তার ক্ষেত্রেও ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের বিধান অনুযায়ী নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধিগত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া সুপারিশ ও সম্মতির আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পরিবর্তন ব্যাংক খাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, ঋণ আদায়, মূলধন ঘাটতি, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দুই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ কেন বাতিল করা হচ্ছে, চিঠিতে তার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে শুধু ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
সৌদিতে শি'রশ্ছেদ: সিথি নয়, সেই নারীর নাম সুইটি, জানা গেল পরিচয়!
সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড: সেই সিথি আক্তার ছিলেন ওমরাহ যাত্রী, জানা গেল পরিচয়
সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড কার্যকর: সেই পাকিস্তানি নাগরিকই ফাঁসিয়েছে নজরুলকে!
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুলের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল, জানালেন বাবা
X