ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব ব্যর্থতা দিবস আজ: ব্যর্থতা থেকেই জন্ম নেয় সাফল্যের গল্প

চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ

  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম
প্রতীকি ছবি

সাফল্যের গল্প শুনতে সবাই ভালোবাসে। কে কীভাবে জীবনের প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছেছেন, কীভাবে একের পর এক বাধা অতিক্রম করে গড়ে তুলেছেন নিজের অবস্থান—এসব গল্প মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যর্থতা, প্রত্যাখ্যান, হতাশা আর নতুন করে শুরু করার গল্পগুলো কতজনই বা জানতে চান? অথচ বাস্তবতা হলো, অনেক সাফল্যের পেছনেই থাকে অসংখ্য ভুল, ব্যর্থ চেষ্টা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ইতিহাস।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শিক্ষা নেওয়া, ভুল স্বীকার করে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং নতুন কিছু করার সাহস অর্জনের বার্তা নিয়েই আজ ১৩ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস। ইংরেজিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেইলিউর ডে’ নামে পরিচিত এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, ব্যর্থতাকে লজ্জা, অপমান কিংবা চূড়ান্ত পরাজয় হিসেবে দেখার প্রচলিত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে মানুষকে উৎসাহিত করা।

দিবসটির নাম শুনে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—ব্যর্থতা উদ্‌যাপনের আবার কী প্রয়োজন? যে অভিজ্ঞতা মানুষকে হতাশ করে, আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে কিংবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করার কারণ কী? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ব্যর্থতাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। ব্যর্থতা জীবনের শেষ কথা নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজের সীমাবদ্ধতা চেনা, ভুল সংশোধন করা এবং নতুন সম্ভাবনার পথ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

ব্যর্থতাকে ভয় নয়, শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা:
জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা হতে পারে। শিক্ষার্থী পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না-ও পেতে পারেন। চাকরিপ্রার্থী একাধিক সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে ব্যর্থ হতে পারেন। একজন উদ্যোক্তার ব্যবসায় লোকসান হতে পারে, নতুন উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাড়া নাও পেতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ভুল বোঝাবুঝি, প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া কিংবা বিচ্ছেদের মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় অনেককে।

এসব পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। কখনো কখনো অন্যের সমালোচনা কিংবা সামাজিক চাপও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে এমন সমাজে, যেখানে ভালো ফলাফল, আর্থিক সাফল্য, পেশাগত অবস্থান কিংবা সামাজিক স্বীকৃতিকে মানুষের যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য বাড়তি মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন একটি ব্যর্থতাকে পুরো জীবনের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল করার অর্থ এই নয় যে একজন শিক্ষার্থী কখনো ভালো করতে পারবেন না। একটি ব্যবসায় লোকসান হওয়া মানেই উদ্যোক্তার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। একইভাবে, একটি চাকরি না পাওয়া কিংবা কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়া একজন মানুষের সামগ্রিক যোগ্যতার চূড়ান্ত বিচার হতে পারে না।

আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস মানুষকে এই পার্থক্যটি বুঝতে উৎসাহিত করে। একটি কাজে ব্যর্থ হওয়া আর নিজেকে ব্যর্থ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা এক বিষয় নয়। ব্যর্থতা একটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা; কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা যায় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্তের ওপর।

ফিনল্যান্ডে সূচনা, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বার্তা:
আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবসের সূচনা হয় ২০১০ সালে ফিনল্যান্ডে। ব্যর্থতাকে ঘিরে থাকা ভয় ও সামাজিক লজ্জা দূর করার উদ্দেশ্যে সে সময় দেশটির একদল তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী উদ্যোগটি শুরু করেন। তাঁদের ভাবনার কেন্দ্রে ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে গিয়ে কেউ ব্যর্থ হলে তাঁকে কেন নেতিবাচকভাবে দেখা হবে?

নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকা স্বাভাবিক। কোনো ধারণা বাস্তবে প্রয়োগ করতে গেলে ভুল হতে পারে, প্রত্যাশিত ফল না-ও আসতে পারে। কিন্তু এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ না থাকলে নতুন কিছু করার আগ্রহ কমে যেতে পারে। ব্যর্থতার কারণে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কা মানুষকে ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী কিংবা নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে এই ভয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই বাস্তবতা থেকেই ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাকে খোলামেলাভাবে তুলে ধরা এবং সেখান থেকে শেখার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ধারণা সামনে আসে। ‘ফেইলিউর ডে’ বা ব্যর্থতা দিবসের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা তাঁদের ভুল, ভুল সিদ্ধান্ত, অসম্পূর্ণ পরিকল্পনা এবং ব্যর্থ প্রচেষ্টার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পান। এর লক্ষ্য কাউকে ব্যর্থ হতে উৎসাহিত করা নয়; বরং ব্যর্থতাকে অস্বাভাবিক কিংবা লজ্জাজনক কিছু মনে না করে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা।

ফিনল্যান্ডে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা, ভুল থেকে শেখা এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণে সাহস জোগানোর ধারণা নানা পরিসরে গুরুত্ব পেতে থাকে। দিবসটির তাৎপর্য এখানেই—সাফল্যকে উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সাফল্যের পথে তৈরি হওয়া বাধা ও ভুলগুলো নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।

সাফল্যের আড়ালে থাকে ব্যর্থতার ইতিহাস:
কোনো মানুষের সাফল্য সাধারণত দৃশ্যমান হয়। তাঁর অর্জন, পরিচিতি, পুরস্কার কিংবা প্রতিষ্ঠিত অবস্থান মানুষ সহজেই দেখতে পায়। কিন্তু সেই অবস্থানে পৌঁছানোর আগে তাঁকে কতবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে, কত পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে কিংবা কত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।

সাফল্যের গল্পে প্রায়ই চূড়ান্ত অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ সেই অর্জনের পথে নেওয়া সিদ্ধান্ত, ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার অভিজ্ঞতাগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিকল্পনা প্রত্যাশামতো কাজ না করলে তার কারণ বিশ্লেষণ করা যায়। কোনো পদ্ধতিতে ফল না এলে বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া যায়। আবার নিজের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করে নতুন করে চেষ্টা করা সম্ভব।

ব্যর্থতার মূল্য এখানেই। এটি মানুষকে নিজের কাজের ফলাফল নিয়ে ভাবতে বাধ্য করতে পারে। কোন সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল, কোথায় প্রস্তুতির অভাব ছিল, কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন কিংবা পরবর্তীবার কীভাবে ভিন্নভাবে কাজ করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়।

তবে সব ব্যর্থতা যে শেষ পর্যন্ত সাফল্যে রূপ নেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো কোনো প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করতে হয়, কোনো পরিকল্পনা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় পরিবর্তন করতে হয়। কখনো একই পথে এগিয়ে না গিয়ে নতুন পথ বেছে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত। ব্যর্থতা থেকে শেখার অর্থ তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে একই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া নয়; বরং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা।

শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যর্থতার শিক্ষা:
শিক্ষাজীবনে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত নম্বর না পাওয়া, ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া কিংবা কোনো বিষয়ে বারবার ভুল করার কারণে কেউ কেউ নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। অথচ শেখার প্রক্রিয়ায় ভুল করা স্বাভাবিক একটি বিষয়।

একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয়ে দুর্বল হলে প্রথমেই তাঁকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা না করে দুর্বলতার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাব, বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা, সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যা কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি—বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত ফল না আসতে পারে। কারণ শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি ও শেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান বা শিক্ষার্থী খারাপ ফল করলে কেবল তুলনা, তিরস্কার কিংবা শাস্তির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। শিক্ষার্থীদের এমন পরিবেশ দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে পারবেন এবং সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য আত্মসমালোচনা প্রয়োজন হলেও নিজেকে ছোট করে দেখা সমাধান নয়। ভুলের দায় এড়িয়ে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি একটি ভুলের কারণে নিজের সব সম্ভাবনা অস্বীকার করাও যুক্তিসংগত নয়।

কর্মজীবন ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি:
কর্মজীবনেও ব্যর্থতা নানা রূপে আসে। কাঙ্ক্ষিত পদে পদোন্নতি না পাওয়া, নতুন দায়িত্ব পালনে অসুবিধা, কোনো প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতা পেশাগত জীবনের অংশ হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে থেমে যাওয়ার পরিবর্তে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

কোনো কাজের ফল প্রত্যাশামতো না হলে নিজের দক্ষতা, প্রস্তুতি, যোগাযোগের পদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সহকর্মী বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া যায়। কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী কাজের পরিকল্পনা সাজানো সম্ভব।

উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট। একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে বাজারের চাহিদা, পণ্যের মান, অর্থ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকের আস্থা এবং বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতির ওপর। পরিকল্পনা ভালো হলেও প্রত্যাশিত ফল নাও আসতে পারে। তখন ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করে পণ্য, সেবা কিংবা ব্যবসা পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে ব্যর্থতা থেকে শেখার অর্থ অযৌক্তিক ঝুঁকি নেওয়া নয়। বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা, ভুলের কারণ বোঝা এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া। কোনো উদ্যোগে ক্ষতি হলে তা গোপন না করে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তকে আরও কার্যকর করতে পারে।

ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি:
ব্যর্থতার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল ব্যক্তিগত মানসিকতার ওপর নির্ভর করে না; সামাজিক পরিবেশও এতে প্রভাব ফেলে। কোনো ব্যক্তি ভুল করলে তাঁকে অপমান করা হলে কিংবা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার সুযোগ না থাকলে তিনি পরবর্তী সময়ে নতুন উদ্যোগ নিতে ভয় পেতে পারেন। অন্যদিকে, ভুল স্বীকার ও সংশোধনের সুযোগ থাকলে শেখার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক পরিসরে ব্যর্থতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এর অর্থ ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়; বরং ভুলের কারণ শনাক্ত করা, দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা।

একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকল্প ব্যর্থ হলে শুধু দায়ী ব্যক্তি খোঁজার পরিবর্তে পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে। একইভাবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভুলের জন্য অপমান না করে সঠিক পদ্ধতি বুঝিয়ে দেওয়া শেখার আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার আরেকটি সুবিধা হলো, অন্যরাও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পান। কোনো উদ্যোগে কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল এবং তা থেকে কী শিক্ষা পাওয়া গেছে, তা জানলে একই ভুল এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অন্যের জন্যও শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

ব্যর্থতা মানেই থেমে যাওয়া নয়:
ব্যর্থতা দিবসের মূল দর্শন হলো, ব্যর্থতাকে জীবনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে না দেখে শেখার একটি সম্ভাব্য ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা। কোনো কাজের ফল প্রত্যাশামতো না এলে প্রথমে হতাশা আসতে পারে। কিন্তু সময় নিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে নতুন পথও দেখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ব্যর্থতার কারণ নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করা। দ্বিতীয়ত, নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা। তৃতীয়ত, প্রয়োজন অনুযায়ী অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহায়তা নেওয়া। চতুর্থত, আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী প্রচেষ্টার পরিকল্পনা করা। আর সবশেষে, পরিস্থিতি অনুযায়ী লক্ষ্য বা পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা রাখা।

তবে ব্যর্থতার কারণে কেউ যদি দীর্ঘদিন হতাশায় ভোগেন কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অসুবিধা অনুভব করেন, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত মানুষ কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ব্যর্থতা থেকে শেখার পাশাপাশি নিজের মানসিক সুস্থতার প্রতিও যত্নশীল থাকা জরুরি।

আজকের আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস তাই শুধু একটি প্রতীকী আয়োজন নয়; এটি নিজের অভিজ্ঞতা নতুনভাবে মূল্যায়নেরও উপলক্ষ। জীবনের পথে ভুল হবে, প্রত্যাশা পূরণ না-ও হতে পারে, কখনো পরিকল্পনা বদলাতে হবে। কিন্তু এসব অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সাফল্য যেমন উদ্‌যাপনের বিষয়, তেমনি ব্যর্থতা থেকেও শেখার রয়েছে মূল্যবান সুযোগ। নিজের ভুল স্বীকার করা, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং আবার চেষ্টা করার সাহস মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তাই আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবসের বার্তা স্পষ্ট—ব্যর্থতাকে ভয় পেয়ে থেমে না গিয়ে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা জীবনের শেষ অধ্যায় নয়; সঠিক শিক্ষা ও নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী যাত্রার সূচনা।

ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এসময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে।
ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে। পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডা গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ। এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়। সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময় ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না; এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।  স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি গ্রামের বাড়ি পার্কের  মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময়— সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র‌্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে—জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ। এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব , মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, অলিদুল রহমান ওলি, আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব. সায়কা বানু, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু, মনসুর আহমেদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১৪০ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে কোনো ঝুঁকি নেই। ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বড় একটি অংশে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ তাদের নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। যদি এই সতর্কতা সঠিক হতো, তবে এটি হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। কামচাতকা উপদ্বীপটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক একটি টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। সূত্র: এনডিটিভি
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
জানা গেল ঢাকাসহ সারাদেশে কবে থেকে নামবে শীত
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা জানুয়ারি মাসজুড়ে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতের অনুভূতি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে এর আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
বয়ফ্রেন্ড দিবস: ভালোবাসার মানুষকে বিশেষভাবে জানানোর দিন আজ
দীঘির রূপে ‘উত্তাল’ সমুদ্রসৈকত, জানালেন ওজন কমানোর গল্প
X