
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে উৎসবমুখর দিনটির নাম ভোট। এরই মাঝে রাজনীতির মাঠ সরগরম আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। যদিও দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর তাই নির্বাচনে এগিয়ে থাকতে আগেই মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও স্থানীয় পর্যায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৩ সিটিতেই ঐতিহ্য ভেঙ্গে ১৩ সিটিতে শিবিরের সাবেক নেতাদের প্রার্থী করছে জামায়াত।
সিটি নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, দক্ষিণে সাদিক কায়েম, ডাকসু ভিপি, শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক, রংপুরে এটিএম আজম খান, শিবিরের রংপুর মহানগরীয় সভাপতি ছিলেন, রাজশাহীতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নাবেক শিবির নেতা, খুলনায় মাহফুজুর রহমান, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি, নারায়ণগঞ্জে মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বরিশালে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, চট্টগ্রাম মহানগরীর হেলাল শিবিরের সাবেক নগর সভাপতি এবং গাজীপুরে মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের নাম রয়েছে তিনিও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। আর নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনেও আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে প্রার্থী করেছে তারা।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা জানান, দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয়ভাবে যারা সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য, প্রার্থী হিসেবে তাদেরকেই বাছাই করা হয়েছে। যেখানে আছে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়।
প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় স-সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা যে ধরনের প্রার্থী দিচ্ছি, এসব ত্রুটির ঊর্ধ্বে এবং এই বৈশিষ্ট্য তারা ধারণ করে, মনে করেই আমরা বাছাই করে বাছাই করে প্রার্থী দিয়েছি। আশা করি, আমাদের প্রার্থীদের ব্যাপারে জনগণের একটা পজিটিভ ধারণা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।
তবে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সাংগঠনিকভাবে একটা সিদ্ধান্ত প্রার্থীর ব্যাপারে চূড়ান্ত করে রেখেছি। স্ব স্ব সিটি করপোরেশনের সাংগঠনিক শাখার যারা দায়িত্বশীল, তাদেরকে এটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সংগঠনের জনশক্তির ভেতরে অলরেডি এই অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের কথা প্রচার করা, তাদের প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া, পরিচিত করানোর কাজটা কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।
নির্বাচনে জামায়াতের প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজধানীর দুই সিটি। ভোটের মাঠে অন্য যেকোনো দলের প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থাকার আত্মবিশ্বাসও আছে নেতাদের কণ্ঠে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করছি যে এই দুইজন প্রার্থী এখানে আর যারাই প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে অথবা হবে বলে আমরা ধারণা করি, সবার ভেতরেই আমাদের এই দুই সিটি করপোরেশনের মনোনীত প্রার্থীরাই ইনশাআল্লাহ যোগ্য বিবেচিত হবেন জনগণের কাছে, ভোটারের কাছে এবং আল্লাহ চাইলে উনারা বিজয়ী হবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করছি যে, এই দুই সিটি করপোরেশনের মনোনীত প্রার্থীরাই, ইনশাআল্লাহ, যোগ্য বিবেচিত হবেন জনগণের কাছে, ভোটারের কাছে এবং আল্লাহ চাইলে উনারা বিজয়ী হবেন।
তবে প্রস্তুতির উল্টোপিঠে রয়েছে উদ্বেগ। সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসকরা নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত হলে ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন জামায়াত।
ভোটের মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের শঙ্কা নিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যে আগেই প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে, তাহলে এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের যে কথা আছে, এটাও আর থাকে না। সে জায়গা থেকে সরকার যেন বেরিয়ে আসে।




