ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘ফ্যাসিস্ট আমলে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২১ পিএম

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ ও রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় ও লুটপাট হয়েছে। এর ফলে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন


বৃহস্পতিবার রাজধানীর পূর্ব রামপুরা হাইস্কুল আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. এম এ কাইয়ুম।


তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। এর সমাধানেও সময় প্রয়োজন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম জোরদার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গ্যাস অনুসন্ধানের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ ছিল বলে তিনি মনে করেন। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।


দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড.এম এ কাইয়ুম বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। শিক্ষা খাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও গণমানুষের নেতা ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সরকারের সমালোচনা অবশ্যই করা যাবে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক। অযৌক্তিক সমালোচনা বা সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা যাবে না। বিএনপি জুলুম-নির্যাতনের রাজনীতি করতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব ঘটনায় তিনি পতিত সরকারের সহযোগীদের দায়ী করে এবং গুপ্ত রাজনৈতিক দল তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি স্বৈরাচারের দোষরদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানান।


দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে জানাতে বলেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।


অনুষ্ঠানে পূর্ব রামপুরা হাইস্কুলের জন্য আব্দুল হাই-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন ড. এম এ কাইয়ুম।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি ড. এম এ কাইয়ুমের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। তাঁর বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার বলেন, ড. এম এ কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তিনি মানুষের পাশে থাকার কার্যক্রম বন্ধ করেননি।


ঢাকা-১১ আসনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ড. এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা জানিয়ে শাম্মী আক্তার বলেন, পূর্ব রামপুরা হাইস্কুলের অডিটোরিয়াম ও বাউন্ডারিসহ স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করা হবে।


তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১১ আসনে মাদক, চাঁদাবাজি ও মাস্তানি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। যে দলেরই কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রেখে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে শাম্মী আক্তার বলেন, নারীদের শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।


অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কু'পিয়ে হ'ত্যা
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. কাউছার আলম নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিল এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত কাউছার (৩৮) নগরীর ৪নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা এবং তার বড় ভাই কবির হোসেনও বিএনপি নেতা।  পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ছত্রখিল এলাকায় বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে সালিশ হয়। ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। কোনো পক্ষের নাম জানা যায়নি। কাউছার তাদের একটি পক্ষের লোক। আজ শুক্রবার সকালে কাউছার বিরোধপূর্ণ জমির কাছে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মাথায় এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নেয়। সেখানে দুপুরে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।  হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
মশিউর অর্ণব
‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন’
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার মন্দিরগুলোতে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। দুলু বলেন, ‘আমি যত দিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন। কেউ বাঁকা চোখে তাকালে কিংবা হুমকি-ধমকি দিলে আমাকে টেলিফোন করবেন। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’ তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে অতীতে কোনো বিভেদ বা বৈষম্য ছিল না। ঈদ ও পূজা ছিল সবার সম্মিলিত উৎসব। একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকত। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। হুইপ বলেন, নাটোর ও নলডাঙ্গা তাঁর নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে নাটোর সদর উপজেলার ৮২টি এবং নলডাঙ্গা উপজেলার ৫৯টি মন্দিরে সরকারি অনুদানের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মশিউর অর্ণব
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার: এ্যানি
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করা এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে বর্তমান সরকার নজর দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সে সময় লক্ষ্মীপুরের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সরকারীকরণের আওতায় আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শিক্ষার প্রসারে আন্দোলন, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁরা দুজন আজ বেঁচে না থাকলেও তাঁদের সন্তান তারেক রহমান শিক্ষার উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মকে শক্তিশালী করার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে অনেকে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন এবং অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এসব পরিবারের প্রতি শুধু সমবেদনা জানানোই নয়, কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রয়েছে। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. হাছিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী।
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার: এ্যানি
“হাসিনার লাঞ্চের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান ১৫০ টাকায় খান”
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, যে অফিস থেকে হাসিনা প্রত্যেকদিন দুপুরের সময় সাড়ে ১০ লাখ টাকা, বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেখানে তারেক রহমান ১৫০ টাকায় খান। তিনি কিছুদিন আগে বলেছেন, “দেশের একটা পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি।” আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৮ দিনের সফরে বরগুনায় এসে বরগুনার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনি মোটা ছিলেন না শুকনা ছিলেন, কালো ছিলেন না ফর্সা ছিলেন, লম্বা ছিলেন না খাটো ছিলেন—তা দেখবেন না। আপনার হৃদয় দেখবেন। আল্লাহর প্রতি আপনার ঈমান আছে কি-না, বিশ্বাস নিয়ে আপনি মারা গেছেন কি-না, তা দেখেই হাশরের ময়দানে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ডেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি।  তিনি আরও বলেন, ভাগ্য বাংলাদেশের যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কাজেই এইরকম ভাগ্য যদি আমরা নষ্ট করি, ধরুন তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকলেন না অন্য কেউ একজন প্রধানমন্ত্রী হলেন। তাইলে তার থেকে কি সে ভালো চালাবে?  চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমান পার্লামেন্টের স্পেশাল একটি সভায় খুব কঠোর ও কঠিনভাবে কিছু কথা বলেছেন। তারেক রহমান ওই সভায় বলেছেন বলে উল্লেখ করেন, “আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের নিয়ে যদি না চলেন, তাহলে আমি কারে নিয়ে চলব? আমার কর্মীরাই সব, ১৭ বছর যুদ্ধ করে আমাকে এখানে বসিয়েছে। আপনাদের বাসাইছে, আপনারা এমপি হয়েছেন। এখন কর্মীদের দেখবে কে?” তিনি (তারেক রহমান) শক্তভাবে বলেছেন, “কোনো চাঁদাবাজির জায়গা নেই। নো চাঁদাবাজি, নো দখল এবং নো সন্ত্রাসী। এগুলো যদি হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা হবে।”
“হাসিনার লাঞ্চের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান ১৫০ টাকায় খান”
পায়ের নিচে রবীন্দ্রনাথের ছবি, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পর পদ হারিয়েছেন হাসিবুল ইসলাম মারুফ নামে এক ছাত্রদল নেতা। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। বহিষ্কৃত হাসিবুল নোয়াখালীর বাঁধেরহাট আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি । মঙ্গলবার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই দিন জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. মহসিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাসিবুল ইসলাম মারুফকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে নিজের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন মারুফ। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা ছাত্রদল। বহিষ্কারের পর জেলা ছাত্রদলকে ‘ভারতীয় দালাল দল’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসিবুল ইসলাম মারুফ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি করলে বহিষ্কার হতাম না, অনৈতিক কাজ করলে বহিষ্কার হতাম না, নেশাগ্রস্ত হলে বহিষ্কার হতাম না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করায়, রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে পোস্ট করায় আমাকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় মারুফকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে ছাত্রদলকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: ড. এম এ কাইয়ুম
X