ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৮ মাসে মন্ত্রিসভায় তিন মন্ত্রীসহ আরও যাদের পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৫ পিএম

সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় একাধিক পরিবর্তন এবং দলীয় একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কখনো শারীরিক অসুস্থতা, কখনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন, আবার কখনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগ- ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট এক নয়। তবে এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে জবাবদিহি, শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সাম্প্রতিকতম ঘটনা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়েন; পরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাজধানীর একটি মা ও শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন।

ইশরাকের পদত্যাগ: অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও থেকে বিতর্ক

গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং মন্ত্রীর আচরণ ও আইনগত সীমারেখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও ইশরাকের দপ্তর শুরুতে পদত্যাগের খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছিল, সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।

ইশরাক জানান, তার কারণে প্রধানমন্ত্রী বা দল যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে জন্য তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তার পদত্যাগের ঘটনাটি রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ: অসুস্থতা, নাকি অন্য কোনো প্রেক্ষাপট?

সরকার গঠনের প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ ছাড়েন দীপেন দেওয়ান। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য ছিল, অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিল।

তবে তার পদত্যাগের পর পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ এবং রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। তার অনুসারী-সমর্থকদের একাংশ পদত্যাগের প্রতিবাদ করে তাকে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছিলেন।

তবে এসব আলোচনাকে পদত্যাগের প্রমাণিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান নিজেই অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তার সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

জহির উদ্দিন স্বপন: মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর নতুন দায়িত্ব

গত ২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান জহির উদ্দিন স্বপন। এর আগের দিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। পরে জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ কারণে তার ক্ষেত্রে পদত্যাগের পাশাপাশি দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মন্ত্রিত্ব হারানো নিয়ে আলোচনা থাকলেও, তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কেবল মন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য এখানে নেই।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি: স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগের পর পদত্যাগ

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও ভেঙে ফেলার অভিযোগ সামনে আসে।

মিষ্টি ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ঘটনার পর তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা এবং দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ে।

পদত্যাগগুলো কী বার্তা দিচ্ছে?

চারটি ঘটনার মধ্যে কিছু পার্থক্য স্পষ্ট। দীপেন দেওয়ান পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হয়েছেন। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। আর ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পেছনে ছিল অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ঘিরে তীব্র বিতর্ক।

এসব ঘটনা থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাজনৈতিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সব পদত্যাগ একই কারণে হয়েছে কিংবা প্রত্যেককে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে এমন দাবি প্রতিষ্ঠা করার মতো সমান মাত্রার প্রমাণ নেই।

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর সরকার ও দল কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত কীভাবে এগিয়ে নেবে। পদত্যাগ প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের একটি অংশ; কিন্তু কোনো ঘটনায় আইনভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তার সত্যতা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াও প্রয়োজন।

‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম’
মাদকের বিরুদ্ধে এখন আরও জোরালো ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেই অভিযানে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় এলাকার মানুষের চাপের মুখে তিনি এই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার এলাকার জনগণ, আমার এলাকার ভোটারদের একটা মারাত্মক প্রেসার ছিল আমার ওপরে। এখানে হয় আমি অভিযানে সমন্বয় করে নেতৃত্ব দিতাম, অথবা এটা প্রমাণ হতো যে সেখান থেকে আমার কোনো ইন্টারেস্ট আছে। সেদিন চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছি। অভিযানের পদ্ধতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, কারও গায়ে যেন একটা টোকাও না পড়ে। সবাইকে আইনের হাতে তুলে দিতে বলেছেন। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ, বংশালের আংশিক ও কোতোয়ালির আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ১১টি ওয়ার্ডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজট ও সার্বিক সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এবং ডিএমপির সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করেন। সেখানে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইশরাক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনের পর্যায়ে ফিরতে পারেনি বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে ছয় থেকে সাত মাস পর বাধ্য হয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশকে ভালোবাসে, জনগণকে ভালোবাসে। এই শহরকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও দায়িত্ব পালন করেছি। এখন তো অবশ্যই আরও জোরালো ভূমিকা পালন করব। ৫ আগস্টের পর তার এলাকার তিনটি থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, তখন তারা পুলিশের বসার ব্যবস্থা ও আসবাবপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন বলেও জানান তিনি।
মশিউর অর্ণব
বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে অবশেষে ক্ষমা চাইলেন সেই এমপি
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ওই মন্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না।’ তার এ মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং নিহতদের স্বজনদের মধ্যে এ বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। সমালোচনার মুখে দেওয়া ফেসবুক বিবৃতিতে কামরুজ্জামান রতন বলেন, টকশোতে ঘটনাটি নিয়ে সংকীর্ণভাবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে গিয়ে আবেগের বশে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই মন্তব্যটি করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাহার করছি। আমার এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এবং আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের মনে যে কষ্ট ও আঘাত দিয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’ এই সংসদ সদস্য বলেন, মানুষ ভুল করতেই পারে, আর ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আমার ওই মন্তব্যটি জন্য আমি দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
মশিউর অর্ণব
কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কু'পিয়ে হ'ত্যা
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. কাউছার আলম নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিল এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত কাউছার (৩৮) নগরীর ৪নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা এবং তার বড় ভাই কবির হোসেনও বিএনপি নেতা।  পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ছত্রখিল এলাকায় বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে সালিশ হয়। ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। কোনো পক্ষের নাম জানা যায়নি। কাউছার তাদের একটি পক্ষের লোক। আজ শুক্রবার সকালে কাউছার বিরোধপূর্ণ জমির কাছে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মাথায় এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নেয়। সেখানে দুপুরে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।  হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
মশিউর অর্ণব
‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন’
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার মন্দিরগুলোতে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। দুলু বলেন, ‘আমি যত দিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন। কেউ বাঁকা চোখে তাকালে কিংবা হুমকি-ধমকি দিলে আমাকে টেলিফোন করবেন। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’ তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে অতীতে কোনো বিভেদ বা বৈষম্য ছিল না। ঈদ ও পূজা ছিল সবার সম্মিলিত উৎসব। একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকত। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। হুইপ বলেন, নাটোর ও নলডাঙ্গা তাঁর নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে নাটোর সদর উপজেলার ৮২টি এবং নলডাঙ্গা উপজেলার ৫৯টি মন্দিরে সরকারি অনুদানের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মশিউর অর্ণব
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার: এ্যানি
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করা এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে বর্তমান সরকার নজর দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সে সময় লক্ষ্মীপুরের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সরকারীকরণের আওতায় আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শিক্ষার প্রসারে আন্দোলন, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁরা দুজন আজ বেঁচে না থাকলেও তাঁদের সন্তান তারেক রহমান শিক্ষার উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মকে শক্তিশালী করার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে অনেকে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন এবং অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এসব পরিবারের প্রতি শুধু সমবেদনা জানানোই নয়, কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রয়েছে। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. হাছিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী।
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার: এ্যানি
আরও পড়ুন
ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট
‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম’
নিজ হাতে গাড়ি থেকে স্টিকার তুলে ফেলে যা বললেন ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা
X