
জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করে, সেই প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয়ের মূল লক্ষ্য এক—জনগণের সেবা করা। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করতে হবে, তাদের সেবা পেতে হয়রানি করার জন্য নয়।
তিনি বলেন, “জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, মানুষের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।”
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, জাতীয় প্রশাসনের জন্য এ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগজনক। এ অসঙ্গতি দ্রুত দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু কম্পিউটার ও প্রযুক্তি দিয়ে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পেছনে যারা কাজ করছেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একজন নাগরিককে একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে যেন বারবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হয়তো বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু তিনি রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই তারও সরকারি সেবা পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। তৃণমূলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও জনগণমুখী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বেগম খালেদা জিয়া দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করেন এবং এতে পিতার পাশাপাশি মায়ের পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার। অথচ ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। এ ধরনের পরিসংখ্যানগত গড়মিল দূর করতে নির্ভুল নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেম (বিডিআরআইএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল করতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারণার আলোকে পুনরায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু হলে তৃণমূল পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আরও নির্ভুল করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শুদ্ধতা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ঢাকা জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ই-গভর্ন্যান্স একাডেমি ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাস্তবায়িত ‘ই-ফেক্টিভ গভর্ন্যান্স: অ্যাকসেলারেটিং ই-গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সহায়তায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।




