
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকার প্রতিমাপল্লিতে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপূজার নানা প্রতিমা। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব প্রতিমা কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিমাপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধন মালাকার নামে এক কলেজছাত্র একাই তৈরি করেছেন ২০ সেট দুর্গাপূজার প্রতিমা। বাঁধন রাজারহাট এমআই সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিটি সেট প্রতিমা ২০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বছর প্রতিমা বিক্রি করে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তার।
বাঁধন জানান, বংশপরম্পরায় বাবা-মায়ের কাছ থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শিখেছেন তিনি। তার বাবা সন্তোষ মালাকার একসময় প্রতিমা তৈরির কাজে দক্ষ কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিবছর দুর্গাপূজার মৌসুমে প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত হন বাঁধন।
প্রতিমা তৈরির কাজে বাঁধনকে সহযোগিতা করছেন তার মা বেলী মালাকারও। তিনি বলেন, রং, মাটি ও প্রতিমা তৈরির অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ পেশায় টিকে থাকা এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং। তারপরও ছেলের কাজে উৎসাহ দিতে অবসর সময়ে তিনি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
বেলী মালাকার আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির আনুষঙ্গিক উপকরণ কিনতে অনেক সময় প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় অনেক মালাকার পরিবার ধীরে ধীরে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে।
প্রতিবছর প্রতিমা তৈরির মৌসুমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কারিগররা এ পেশায় টিকে থাকার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন।
স্থানীয় কারিগররা বলছেন, ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর প্রতিমা তৈরির মাধ্যমে মালাকার পরিবারগুলোর যেমন আয় হয়, তেমনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত মৃৎশিল্পী, রং ও সাজসজ্জার উপকরণ সরবরাহকারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তবে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত পুঁজির অভাব এ ঐতিহ্যবাহী পেশার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




