ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সালমানের সেঞ্চুরির পর পেসারদের নৈপুণ্যে পাকিস্তানের জয়

অনলাইন ডেস্ক

  ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০২ এএম
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির পর সালমান আলি আগা। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

বড় লক্ষ্য তাড়ায় একশর আগে চার ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর, পাভান রাত্নায়াকে ও জানিথ লিয়ানাগের শতরানের জুটিতে আশা জাগাল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই দুজনের বিদায়ের পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল তাদের ব্যাটিং। পেসারদের দারুণ বোলিংয়ে জিতল পাকিস্তান।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ৩৭ রানে।

রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রোববার কোনো দলই পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে পারেনি। এক বল বাকি থাকতে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩০৫ রানে। জবাবে ১১ বল বাকি থাকতে ২৬৮ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

৪৩ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২৫১ রান। তখন ৪২ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৫ রান। কিন্তু পরের ওভারে লিয়ানাগের (৭৪ বলে ৬০) বিদায়ের পর আর পেরে ওঠেনি সফরকারীরা। শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা স্রেফ ১৫ রানের মধ্যে।

পাকিস্তানের চার পেসার মিলে নেন ৯ উইকেট। ৫৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।

অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের নায়ক মূলত সালমান আলি আগা। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারানো ব্যাটসম্যান পাঁচ নম্বরে নেমে ১০ চার ও এক ছক্কায় ৯০ বলে করেন ১০৭। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। ৩২ রানের মধ্যে বিদায় নেন দুই ওপেনার ফাখার জামান ও সাইম আইয়ুব।

সেখান থেকে অভিষিক্ত সাদ বেগকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন বাবর আজম। দুজনের ব্যাটে একশ ছাড়িয়ে যায় দলের স্কোর।

সাম্প্রতিক সময়ে বাবরের ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস বড় করতে না পারার যে সমস্যা, সেটি দেখা যায় এবারও। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে ইশান মালিঙ্গার শর্ট বলে বিদায় নেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক (৫৭ বলে ৪৫)। থামে ৮৩ বলে ৭৪ রানের জুটি।

মালিঙ্গা নিজের পরের ওভারে ফেরান সাদকেও (৪০ বলে ৩৯)। তখন ২২তম ওভারে ১১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পাকিস্তান।

সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করেন সালমান। প্রথমে হাসান নাওয়াজের সঙ্গে ৯৪ বলে ৯৭, এরপর আরাফাত মিনহাসের সঙ্গে ৪৬ বলে ৬৪ রানের জুটি উপহার দেন তিনি।

নাওয়াজ ফেরেন ৪৯ বলে ৩৭ রান করে। ৪৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখা সালমান সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮২ বলে।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চারটি সেঞ্চুরিই সালমান করলেন পাঁচ নম্বরে কিংবা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের হয়ে যা সর্বোচ্চ। তিনি ছাড়িয়ে গেলেন মোহাম্মাদ ইউসুফকে (তিনটি)।

৪৪ ও ৪৫তম ওভার মিলিয়ে পাকিস্তান তোলে ২৬ রান। ৩৩০ ছাড়ানো স্কোরেই তখন দৃষ্টি থাকার কথা স্বাগতিকদের।

কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। এই সময়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তুলতে পারে কেবল ২৬ রান।

সালমান ও মিনহাস ফেরেন ছক্কার চেষ্টায়। আফ্রিদির ১২ বলে ১৩ রানের সুবাদে তিনশ ছাড়াতে পারে পাকিস্তান।

রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কাও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। আভিশকা ফার্নান্দো ফেরেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস ৩৪ বলে করতে পারেন ১৮ রান।

ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি কামিন্দু মেন্ডিস (৫০ বলে ৪৪)। সাহান আরাচ্চিগে ফেরেন দ্রুতই। পরপর দুই ওভারে এই দুজনকে ফেরান আফ্রিদি।

তখন ২০তম ওভারে ৯১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়ায় রাত্নায়াকে ও লিয়ানাগের ব্যাটে।

৫৪ বলে ফিফটি করেন রাত্নায়াকে। এরপর আফ্রিদিকে টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি।

দারুণ খেলতে থাকা রাত্নায়াকে বিদায় নেন আলগা শটে। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৭৪ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। থামে ১০৭ বলে ১১৯ রানের দারুণ জুটি।

লিয়ানাগে এরপর দাসুন শানাকার সঙ্গে এগিয়ে নেন দলকে। চার মেরে ফিফটি করেন তিনি ৬২ বলে।

এই জুটি যতক্ষণ ক্রিজে ছিল, তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের পাল্লাই ছিল বেশি ভারি। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ সাত ওভারে ৫৫ রান তো কঠিন কিছু নয়।

কিন্তু ৪৪তম ওভারে হারিস রউফের বলে লিয়ানাগের বিদায়ে ৪৩ রানের জুটি ভাঙার পর বদলে যায় চিত্র। পরের ওভারে শানাকাকে (১৮ বলে ২৮) ফেরান আফ্রিদি। এর পরের ওভারে নাসিম শাহর পরপর দুই বলে উইকেট পড়ে আরও দুটি, যার একটি রান আউট। আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন রউফ।

নাসিম, রউফ ও ফাহিম আশরাফের শিকার দুটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ৪৯.৫ ওভারে ৩০৫ (ফাখার ১৬, সাইম ৭, বাবর ৪৫, সাদ ৩৯, সালমান ১০৭, নাওয়াজ ৩৭, মিনহাস ১৮, ফাহিম ৬, আফ্রিদি ১৩, নাসিম ০, রউফ ০; আসিথা ১০-১-৫৯-৩, মাদুশাঙ্কা ১০-০-৬৭-২, শানাকা ৭-০-৪১-০, মালিঙ্গা ৯.৫-১-৪৬-৪, কলম্বাগে ১০-০-৬১-০, কামিন্দু মেন্ডিস ২-০-১৯-০, আরাচ্চিগে ১-০-৮-০)

শ্রীলঙ্কা: ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ (কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪, আভিশকা ৫, কুসাল মেন্ডিস ১৮, রাত্নায়াকে ৭৯, আরাচ্চিগে ৩, লিয়ানাগে ৬০, শানাকা ২৮, কলম্বাগে ১, মালিঙ্গা ২, আসিথা ৭, মাদুশাঙ্কা ১*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-৩, নাসিম ১০-০-৪৩-২, রউফ ৯.১-০-৪৮-২, ফাহিম ৮-০-৪৯-২, মিনহাস ৯-০-৫৬-০, সাইম ২-০-১৪-০)

ফল: পাকিস্তান ৩৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সালমান আলি আগা

ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হার দিয়ে শুরু টাইগারদের
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লাল-সবুজের ব্যাটিং লাইনআপ; ফলে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। হারারেতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের গোড়াতেই আগুনে বোলিংয়ে স্বাগতিক শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও অভিষিক্ত তাফাদজওয়া টিসিগাকে ফিরিয়ে মাত্র ২৪ রানের মধ্যেই স্বাগতিকদের টপ অর্ডারের ৩ উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। শুরুর সেই বিপর্যয় সামাল দেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। দারুণ দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে দুজনই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। সেঞ্চুরির পথেই থাকা টেলরকে (৮১) বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন অলরাউন্ডার সাইফ হাসান। নিজের পরের ওভারেই জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে শূন্য রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তিনি। এরপর ৯৩ রানের চমৎকার ইনিংস খেলা আরভিনকে সাজঘরে পাঠান পেসার শরিফুল ইসলাম। শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামহুরির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩টি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান ২টি করে উইকেট শিকার করেন। ২৭২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন তিনি। তবে দলীয় সংগ্রহে গতি থাকলেও ব্যক্তিগত ৯ রানে মুজারাবানির বলে সৌম্য সরকার স্লিপে ক্যাচ দিলে প্রথম ধাক্কা খায় দল। ফিফটির দোড়গোড়ায় থাকা তানজিদ তামিম ৩৮ বলে ৪৬ রানের মারকুটে ইনিংস খেলে বিদায় নিলে ভাঙে প্রতিরোধ। দলীয় ৬৬ রানে তানজিদের আউটের পরই শুরু হয় ব্যাটিং ধস। মিডল অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন। ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দ্রুতই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের ৩৩ বলে ২৩ রান এবং তাসকিন আহমেদের অপরাজিত ১৬ রান হারের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সফলতম ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স, যিনি একাই তুলে নেন ৪টি উইকেট। এ ছাড়া সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২টি করে উইকেট নিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হার দিয়ে শুরু টাইগারদের
ছোট ছোট ভুলের কারণেই টেস্ট ড্র হয়েছে: শান্ত
আবুধাবিতে সিরিজের একমাত্র টেস্টে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে ইনিংস ডিক্লেয়ার করেও আফগানিস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চম দিনে ফিল্ডিংয়ে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার মূল্যই দিতে হয়েছে তার দলকে। ম্যাচের শেষ দিনে সেদিকউল্লাহ আতালের দীর্ঘ ইনিংসের অবসান ঘটানোর পর জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয় বাংলাদেশের। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভুলের সুযোগ নিয়ে লড়াই চালিয়ে যায় আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করে তারা। জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য ছিল ৪৭৯ রান। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করা আতাল নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ সেশনের ১১ ওভার পেরিয়ে তাইজুল ইসলামের বলে তার ব্যাটের ক্ষীণ স্পর্শে বলটি প্যাডে লেগে শর্ট লেগে থাকা তানজিদ হাসানের হাতে জমা পড়ে। তাতেই শেষ হয় তার দীর্ঘ ইনিংস। তখন আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ২৮১ রান। হাতে ছিল প্রায় ২৩ ওভার। জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরই ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল করে বসে দলটি। ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল স্টাম্পে গড়িয়ে গেলেও বেলস না পড়ায় বেঁচে যান তিনি। পরের ওভারেই টানা দুই বলে রানআউটের দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া অপরাজিত ৪৯ রান করা কায়েস আহমেদ প্রথমে সিলি পয়েন্টে এবং পরে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, 'আমার মনে হয়, আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। প্রতিপক্ষও দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। বিশেষ করে সেদিকউল্লাহ আতাল যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তার জন্য তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।' তিনি আরও বলেন, 'অবশ্যই কিছুটা হতাশ লাগছে। তবে আমি বলব না যে আমরা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছি। পাঁচ দিনই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। বিশেষ করে আজকের এই কন্ডিশন ও উইকেটে বোলাররা যেভাবে পরিশ্রম করেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।' সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা স্বীকার করে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, 'আমাদের সুযোগ এসেছিল, কিন্তু আমরা সেগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। অবশ্যই আমরা ভুল করেছি, সেটা মেনে নিতে হবে। এমন কন্ডিশনে সুযোগ খুব কমই আসে। তাই যে ছোট ছোট সুযোগগুলো আসে, সেগুলো কাজে লাগানো জরুরি।'   কঠিন কন্ডিশনে পাঁচ দিনের টেস্টের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক দেখছেন শান্ত  ম্যাচের ফল নিয়ে হতাশা থাকলেও পাঁচ দিনের টেস্টে কঠিন কন্ডিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে বলে মনে করেন শান্ত। বিশেষ করে এই সংস্করণে বাংলাদেশের তুলনামূলক কম খেলার অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন তিনি। শান্ত বলেন, 'আমরা খুব কমই পাঁচ দিনের টেস্ট খেলি। তাই চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ম্যাচ শেষ হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের দলের কম। দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচে টিকে থাকা, ক্লান্ত অবস্থায় সুযোগ তৈরি করা কিংবা আরও ভালো বোলিং করার এই অভিজ্ঞতা আগামী সিরিজগুলোতে কাজে দেবে।'  তিনি আরও বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে এমন কন্ডিশনে একটি ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল আমাদের। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সিরিজে সাহায্য করবে।' ম্যাচ চার দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, এমন ভাবনা শান্তর মনেও ছিল না। তার মতে, শেষ দিনেও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। যদিও শেষ দিনে স্পিনাররা কিছুটা সহায়তা পেয়েছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, 'সত্যি বলতে, আমরা ভাবিনি ম্যাচটি চার দিনে শেষ হয়ে যাবে। চতুর্থ বা পঞ্চম দিনেও, এমনকি আজও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। স্পিনাররা আজ কিছুটা সহায়তা পেলেও পাঁচ দিনই উইকেট ভালো ছিল।' আফগান ব্যাটারদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'আমাদের মানসম্পন্ন বোলিংয়ের বিপক্ষে এই কন্ডিশনে তাদের ব্যাটাররা যেভাবে খেলেছে, তার জন্য অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমাদের মানসম্পন্ন স্পিনার ও পেসারদের এই ইনিংসে ১০টি উইকেট নেওয়া উচিত ছিল। মাঝখানে আমরা কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এই ছোট ছোট ভুলের কারণেই ম্যাচটি ড্র হয়েছে।' আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলেও আসন্ন সিরিজগুলোতে এসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা বাংলাদেশের।
ছোট ছোট ভুলের কারণেই টেস্ট ড্র হয়েছে: শান্ত
পারল না বাংলাদেশ, জয়ের সমান ড্র আফগানিস্তানের
৮ উইকেট তুলে নিলেও শেষপর্যন্ত আফগানিস্তানকে অলআউট করতে পারলো না বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্ট জয়ের সমান ড্র করলো আফগানিস্তান।  ৪৭৯ রানের পাহাড় সমান রান তাড়া করতে নেমে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ড্র করেছে আফগানরা।  টেস্টের পঞ্চম দিনে বোলাররা খুব একটা সুবিধা পাননি। বাংলাদেশের তিন স্পিনার তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান খুব একটা টার্নের দেখাও পাননি। তারপরও এবাদত আর মিরাজ মিলে জয়ের সুযোগ তৈরি করেছিলেন।  তবে শেষ ঘণ্টায় চাপটা নিতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। পর পর দুই রানআউট মিস, মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের ডিপে সহজ ক্যাচ মিস করলে আফগানিস্তান সুযোগ পেয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসের ১২২তম ওভারে দুটি রানআউট মিস করেছে বাংলাদেশ। এরপর আরও ২০ ওভার খেলা হয়েছে। তখন রানআউট করতে পারলে এই ম্যাচের চেহারা অন্যরকম হতে পারত। তবে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরাও দুর্দান্ত খেলেছেন। বিশেষ করে সেদিকুল্লাহ আতাল। ৫১৪ মিনিট ব্যাট করে ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেছেন। মূলত তার দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংই আফগানিস্তানকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে ম্যাচ বাচাতে। ২৮১ রানে আতাল আউট হওয়ার পর ইয়ামিন আহমেদজাই অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান। প্রায় দুঘণ্টায় ৮৫ বলে ১৯ রান করেন। ৩২৬ রানে তিনি আউট হওয়ার পর ৫ ওভার কাটিয়ে দিয়েছেন কায়েস আহমেদ। ছক্কা মেরে শেষ করেন তিনি। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থেকে যান তিনি।  সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ ডি. আফগানিস্তান: ২৪০ ও ১৪২ ওভারে ৩৪৬/৮ (আতাল ১১১, রহমত ৫১, কায়েস ৪৯*, শহীদি ৩৬, আলীখিল ৩৩; ইবাদত ৩/৫০, মিরাজ ৩/৭৩, হাসান ১/৬৬, তাইজুল ১/১১২)। ফলাফল: ড্র ম্যাচসেরা: লিটন দাস
পারল না বাংলাদেশ, জয়ের সমান ড্র আফগানিস্তানের
‘বাজপাখি’ লিটনের উড়ন্ত ক্যাচে অপেক্ষা ফুরাল বাংলাদেশের
যেন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাস। অবশ্য শুধু লিটন নন, অপেক্ষায় ছিল পুরো বাংলাদেশই। অপেক্ষাটা ছিল উইকেটের। কখন সুযোগ পেয়ে আফগানিস্তানের উইকেট লুফে নিবে বাংলাদেশ। তবে সেই সুযোগ দিচ্ছিল না আফগানার। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিন দারুণ শুরু করে তারা। প্রথম সেশনে তাই উইকেটের খোঁজে মাথা কুটতে থাকে বাংলাদেশ। তবে লাঞ্চে যাওয়ার এক ওভার আগে দিনের প্রথম সাফল্য পাওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সুযোগ লুফে নেওয়ার কজাটা অবশ্য সহজ ছিল না। তবে আবুধাবি টেস্ট যেহেতু লিটনের, তার কাছে অসাধ্য আর কি হতে পারে? সেটাই হলো। অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ লুফে নিলেন তিনি।  ইবাদত হোসেনের করা ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে হুক শট খেলার চেষ্টা করলেন ইকরাম আলিখিল। ব্যাটের কোনায় লেগে দূর দিয়ে লিটনকে পেরিয়ে যাচ্ছিল বল, তা দেখে বাজপাখির মতো ডানদিকে লাফ দিয়ে বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যাচ লুফে নিলেন উইকেটরক্ষক। যেন চোখের প্রশান্তি। তাতে মুগ্ধ হয়ে উল্লাসে মাতল পুরো দল। যেন অবশেষে পাইলাম তারে। হ্যাঁ, এমনটাই। গত দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রানের স্কোর নিয়ে আজ খেলতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করছিল আফগানিস্তান। তার যেন পণ করেছিল শেষ দিনে উইকেট হারাবে না। সেই লক্ষ্যে প্রথম সেশন বিনা উইকেটে শেষ করার পথে ছিল তারা। তবে লিটনের চোখ ধাঁধানো ক্যাচ তা হতে দেয়নি। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে ইকরাম আউট হতেই সেদিকউল্লাহ অতলের সঙ্গে ভেঙে যায় দুজনের ৬৬ রানের জুটি। সতীর্থ আউট হলেও ওপেনিং নেমে ৬৬ রানে অপরাজিত আছেন সেদিকউল্লাহ। তাকে সঙ্গ দিতে নেমেছেন ইসমাত আলম। রানের খাতা এখনো খুলতে পারেননি তিনি।  এর আগে ধাক্কা খেয়েছে আফগানিস্তান। দিনের খেলার তৃতীয় ওভারে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন হাশমতউল্লাহ শহিদী। রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো তার পায়ে লাগলে ২০ রানে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।  লাঞ্চে যাওয়ার সময় আফগানিস্তানের স্কোর ৪ উইকেটে ২০৩ রান। শেষ দুই সেশনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ২৭৬ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের চাই ৬ উইকেট। শেষটায় রোমাঞ্চ অপেক্ষা করে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
‘বাজপাখি’ লিটনের উড়ন্ত ক্যাচে অপেক্ষা ফুরাল বাংলাদেশের
শান্তর চ্যালেঞ্জ, হান্ড্রেড, আউট, ডিক্লেয়ার
লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, মেহেদী হাসান মিরাজের ফিফটি আর ইনিংস ঘোষণার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করার পরের ওভারেই আউট হন লিটন। এরপরই সাইডলাইন থেকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংস ঘোষণা করার ইশারা দেন। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড থাকায় দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৪৭৮ রান। ফলে জিততে হলে আফগানিস্তানকে করতে হবে ৪৭৯ রান। এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজ ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাস। স্পিনার কায়েস আহমেদের বল কাট করে দারুণ এক চার মেরে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান লিটন। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। পাঁচ ইনিংস পর সাদা পোশাকে শতকের দেখা পেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করেছিলেন লিটন। তবে এই টেস্টের আগে তিন ইনিংসেই রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ইনিংসে ডাক মেরেছিলেন। সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এবার ফিফটি ও সেঞ্চুরিতে নিজের প্রত্যাবর্তন রাঙালেন তিনি। অন্যদিকে, লিটনের সেঞ্চুরির আগেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি তুলে নেন মিরাজ। তাঁর সঙ্গে লিটনের দৃঢ়তায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। তবে সেঞ্চুরির পর ইনিংস বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি লিটন। পেসার মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ১১৭ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। লিটন আউট হওয়ার পরপরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩৭২ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৮ রানের লিড নিয়ে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে শান্তর দল। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে লিটন ১০২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ৫২ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম ৬৯ রানে ২টি এবং জিয়াউর ৮৬ রানে ২টি উইকেট নেন।
শান্তর চ্যালেঞ্জ, হান্ড্রেড, আউট, ডিক্লেয়ার
আরও পড়ুন
৭১ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে পাকিস্তান
পাকিস্তানি ‘শেইদাই’-এর হুবহু নকল নিলয়-হিমির নাটক!
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিশুর মৃত্যু
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিশুসহ নিহত ২৯
X